জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-১২

প্রমাণ হিসেবে বলা যায় বর্তমান সিরাজপুরের হওর (পাংশা থানার দক্ষিণে কসবা মাঝাইলের পাশ দিয়ে) প্রাচীন গড়াইয়ের পরিত্যক্ত কোল, যদিও তা গড়াই থেকে উঠে গড়াইতে মিশেছে। সিরাজপুরের হাওড় গড়াইয়ের পুরাতন ধারা। এ ছাড়া সিরাজপুরের হাওর থেকে উৎসারিত চত্রা নদীটি নাড়ুয়ার ঘাটে আবার গড়াইতে মিশেছে তা নদীটির পূর্বতন ক্ষীণ প্রবাহ। প্রাচীন গড়াই সিরাজপুরের হাওর থেকে সোজা বর্তমান প্রবাহের ২/৩ মাইল উত্তর দিয়ে ঘি কমলা চষাবিলা হয়ে পূর্ব মুখে তখন বালিয়াকান্দির পশ্চিম দিয়ে প্রবাহিত হত। নদীর গতি পরিবর্তনের ফলে এর প্রাচীন প্রবাহ তেঢালা, পাকুরিয়া, কাছমিয়া বিলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান এলাঙ্গী, তেকাটি হয়ে যে ভাটিখাল প্রবাহিত তা প্রাচীন গড়াই নদীর প্রবাহ। মদনডাঙ্গী, বাদশাডাঙ্গী মূলত গড়াইয়ের ডাঙ্গী বা চর। ১৫/২০ বছর পূর্বেও গড়াইয়ের প্রবাহ অতি প্রবল ছিল। প্রচুর ইলিশ মাছ এ নদীতে ধরা পড়ত এবং সে ইলিশের স্বাদই ছিল আলাদা। ৪০/৫০ বৎসর পূর্বে গড়াইয়ের নাড়ুয়া গাটে কুমিরের উপদ্রব ছিল। গড়াইয়ের পথে একসময় এ অঞ্চলের ব্যবসার প্রসার লাভ করে। বালিয়াকান্দি, সমাধিনগর, নাড়ুয়া, মৃগী, পাংশার পাট, পিঁয়াজ, রসুন, তিল ও অন্যান্য শস্য এ পথে কলিকাতা, খুলনা চালান দেওয়া হত।

চন্দনা

চন্দনা চলতে পারি মন্দ না

চলত যখন চাঁদ সওদাগর

করত সবাই বন্দনা।

পালের নায়ে ঘোমটা দিয়ে

আর চলে না রঞ্জনা,

শীর্ণ বুকে পা রাখে না খঞ্জনা

চন্দনা, চলছি দেখ মন্দনা।

চন্দনা নদী চন্দনা বর্তমান পদ্মার একটি শাখা যা পাংশার পাশ দিয়ে প্রবাহিত। কালুখালির দক্ষিণে সোনাপুরের রামদিয়ার মাঝ দিযে প্রবাহিত বালিয়াকান্দি হয়ে পাঁচমোহনীতে মিশেছে। এই পাঁচমোহনী চন্দনা, হড়াই, কুমার গড়াইয়ের মিলনস্থল।

ড. নীহাররঞ্জন যে চন্দার গতিপথের বর্ণনা দিয়েছেন তা চন্দনার সঠিক তথ্য বহন করে না। তিনি লিখেছেন চন্দনা পদ্মা গর্ভে ভাগিরথীতে প্রবাহিত। ফ্যানডেন ব্রকের নকশায় তা যশোরের পশ্চিম দিয়ে প্রবাহিত। প্রকৃত চন্দনা প্রাচীন নদী যা গঙ্গা হতে প্রবাহিত হয়ে কুমারের সাথে মিশতো। উল্লেখ্য কুমার অতি প্রাচীন নদী এবং বর্তমান চন্দনা পাঁচমোহনীতে কুমারের সাথে মিশেছে। চন্দনা প্রাচীনকালে অনেক প্রশস্ত নদী ছিল। তার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় বর্তমান বেলগাছি ও কালুখালির অদূরে চরলক্ষীপুর, চরচিলকা, চরপাড়া, চরবোয়ালিয়া, চরমদাপুর চন্দনা প্রবাহের চর। চন্দনার এ প্রবাহের দ্বারা প্রমাণিত হয় চন্দনা অনেক পূর্বে প্রশস্ত নদী। এছাড়া চন্দনা প্রবাহের দুই কান্দায় আড়কান্দি ও বেলেকান্দি। নদী এ সময়ে আড়কান্দি এসে বাঁক নিয়েছিল বলে আড়ে আড়কান্দি আর ডানে বেলেচরে বালিয়াকান্দি। আড়কান্দি আর বালিয়াকান্দীর দূরত্ব ২ মাইল প্রায়।

Additional information