জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-১৬

পাংশা উপজেলা

নারায়নপুর, বলরামপুর, গোপীনাথপুর, জয়কৃষ্ণপুর, কল্যাণপুর, কেশবপুর, রঘুনাথপুর, রামচন্দ্রপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর, তারাপুর, গৌরীপুর, তেজপুর, কোমরপুর, শ্যামসুন্দরপুর, কাঞ্চনপুর, মনিরামপুর, নিভাকৃষ্ণপুর, শ্যামপুর, কাশিমপুর, চাঁদপুর, গতমপুর, বাঘাবিষ্ণুপুর, গোপালপুর, রঘুনাথপুর, নিশ্চিন্তপুর, তির্তীপুর, লক্ষীপুর, রায়পুর, শিবসুন্দরপুর, বাহাদুরপুর, বকশিপুর, শাহমতিপুর, জাফরপুর, নিয়ামতপুর ইত্যাদি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা

নিশ্চিন্তপুর, আজীনারায়ণপুর, রায়পুর, শ্যামসুন্দরপুর, সোনাপুর, করমচাঁদপুর, নারানপুর, রাজধরপুর, দুর্গাপুর, বহরপুর, নবাবপুর, গোবিন্দপুর, জামালপুর, শাশাপুর, গঙ্গারামপুর, সদাশিবপুর, ত্রিলোচনপুর ইত্যাদি।

 গোয়ালন্দ উপজেলা

বিষ্ণুপুর, গোপীনাথপুর, দুর্গাপুর, লক্ষীমানপুর, জয়পুর, শ্যামপুর, শীতলপুর, দেবীপুর, সাইদুরপুর, কাজিমপুর ইত্যাদি। পার্শ্ববতী জেলাসমূহ বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহ থেকে রাজবাড়ি জেলার গ্রামসমূহের নামের পরিচয়ে পুরের আধিক্য রয়েছে। আবার এসব গ্রামগুলোর নাম মানুষের নামে এবং তাদের ধমীয় পরিচয় হিন্দু। এলাকাটি প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু প্রধান হওয়ায় মোগল শাসনের পূর্ব কালেই ঐ সব গ্রামের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তুলনামূলক মুসলমান পরিচয়ে পুরের গ্রাম কম হওয়ায় ধারণা করা যায় ঐ সকল গ্রামের ভিত্তি গড়ে উঠেছে সপ্তদশ অষ্টাদশ শতাব্দীতে।

দি, দিয়া, রিয়া, বাড়িয়া - সহ গ্রামের নাম ও উৎপত্তি

ভবদিয়া, মধুরদিয়া, পাকুরিয়া, চৌবাড়িয়া, গোপীনাথদিয়া, জালদিয়া, নয়নদিয়া, আড়াবাড়িয়া, বাঘিয়া, দৌলতদিয়া, হামুরিয়া, কান্তাদিয়া, নয়নদিয়া, কুলটিয়া, গজারিয়া, আমবাড়িয়া, বোয়ালিয়া, মাসুমদিয়া, পাকাশিয়া, ভেল্লাবাড়িয়া, পাঁচবাড়িয়া, নাদুরিয়া, ডামকদিয়া, সূর্যদিয়া, ভারকুদিয়া, কলকলিয়া, পিপুল বাড়িয়া, মুকুন্দিয়া, ঘরঘরিয়া, কুলটিয়া, পাটুরিয়া, বেড়াদি, পদমদি, তেঘারিয়া, আলোকদিয়া, ভেকুলিয়া, রামদিয়া, পদমদি, লক্ষণদিয়া, পাঁচবাড়িয়া, কোলাবাড়িয়া, খালিয়া, ভারকুলিয়া, গঙ্গাসিন্দদিয়া, ধুবাড়িয়া, তেলিগাতি, কলকলিয়া, পাঁচুরিয়া, মধুরদিয়া, মাসুমদিয়া, মালিয়াট, আলোকদিয়া, হাড়োয়া, রতনদিয়া, আন্দুলিয়া, প্রেমাটিয়া, দেলুয়া, ইন্দুরদি, ভান্ডারিয়া, তেলাই, কান্তদিয়া, দৌলতাদিয়া ইত্যাদি।

দ্বীপ ও নদী সংলগ্ন এলাকাকে দি বা দিয়ারা বলা হয়। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর ফরিদপুর জেলার নদী সংলগ্ন এলাকায় নতুন ভূমি রাজস্ব আদায়ের আওতাভূক্ত করে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। ১৮৮১ সালে দিয়ারা সার্ভেতে মোট ২৮৭৮৮ একর জমি দিয়ারা হিসেবে খাজনার আওতায় আনয়ন করা হয়। এই দিয়ারা থেকে অনেক গ্রামের নামের পরিচতি দিয়া বা দি এবং অপভ্রংশে রিয়া, লিয়া, ইত্যাদি হয়। জেলার বেশির ভাগ অঞ্চল নদীবেষ্টিত হওয়ায় নদী সংলগ্ন জেগে ওঠা ঐ সমস্ত চরদ্বীপের পরিচিতি হিসেবে ‘দি’ দিয়া, রিয়া, ইত্যাদি নামের গ্রামের উৎপত্তি ষোড়শ শপ্তদশ শতকে গড়ে ওঠে।

Additional information