জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-১৭

কান্দা, কান্দি দিয়ে গ্রামের নাম

প্রবাহমান নদীর কিনার, বাঁক এবং বিল হাওড়ের পার্শ্বস্থ এলাকাকে কান্দা, কান্দি, কিনার বলা হয়। জেলায় অনেক নদী প্রবাহমান ছিল। বিশেষ করে পদ্মা, হড়াই, গড়াই ও চন্দনার তীরবর্তী অঞ্চলে যে সব জনপদ গড়ে ওঠে তা কান্দ, কান্দি নামে পরিচিত হয়। উড়াকান্দা, সোনাকান্দর, আড়কান্দি, বালিয়াকান্দি, তেরাইকান্দি, কালিকান্দা, শ্যামপুরকান্দি, লিকান্দা। কান্দা পরিচিতিমূলক শব্দ হলেও আড়, পাইক বালি অর্থ যেমন পাইক অর্থ পাখি, আড় অর্থ নদীর বাঁক, বালি অর্থ বেলে চর বোঝায়।

বাড়ি, বাড়িয়া, নগর, গ্রাম, পাড়া দিয়ে গ্রামের নাম ও উৎপত্তি

গ্রামের তিত্তি গড়ে উঠলে তা বাড়ি, বাড়িয়া, গ্রাম, নগর এসব নামে পরিচিত হতে থাকে। টেংড়াপাড়া, আড়পাড়া, গোয়ালবাড়ি, বিষ্ণুবাড়ি, পাঁচবাড়ি, চরকান্দবাড়ি, দক্ষিণবাড়ি, দক্ষিণবাঘাবাড়ি, পশ্চিমবাঘাবাড়ি, পাটকিয়াবাড়ি, আমবাড়িয়া, পাঁচবাড়িয়া, দেবনগর, কালিনগর, ভেল্লাবাড়িয়া, রায়নগর, বনগ্রাম, দন্ডগ্রাম, চৌবাড়িয়া, জাগিয়ালপাড়া, পিপুলবাড়িয়া, দেওবাড়ি, কোলানগর, ছায়েদপাড়া, হাজরাপাড়া ইত্যাদি।

খাল, খালিয়া, কালিয়া, কোলা দিয়ে গ্রাম

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ যত নদী এখন আছে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি নদী ছিল ৫০০ বা একহাজার বছর পূর্বে। নদীর বিশেষত্ব এমন যে, দীর্ঘকালে নদী ভরাট হয়ে মরে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মরা নদী দীর্ঘকালে খালে পরিণত হয়। নদীতে অনেক সময় প্রয়োজনে খাল কাটা হয়। নদী বাঁক গ্রহণ করলে কোলে পরিণত হয়। খাল সংলগ্ন অনেক গ্রামের নাম খাল, খালিয়া, কোলের পাশের গ্রাম কো বা কালিয়া বা কোলা। হাজরাখালি, কান্তখালি, খালিয়া, বেজকোলা, সুরামখোলা, হিম্মতখালি ইত্যাদি।

বিল, ইল, ঝিল, হাওড়, দোহা, দহ পরিচিতিতে গ্রামের নাম ও উৎপত্তি

নদী মরে গেলে বিল হাওড়, দহ দোহাতে পরিণত হয়। বিলমালেঙ্গা, বিলশ্যামসুন্দরপুর, বিলসারিন্দা, বিলচৈত্রা, বিলকোনা, বিলগজারিয়া, বিলজেলা, বিলরঘুয়া, বিলছালুয়া, বিলধামু, বিলটাকাপুড়া, চষাবিলা, বিলকাউলী, বিলবড়া, ইলাতেল, লবরদোহা, বাউলদোহা, মুচিদহ, বিলচড়া, মরাবিলা ইত্যাদি। রাজবাড়ি জেলার দক্ষিণাঞ্চলে অনেক সংখ্যক বিস্তৃত বিলের অস্তিত্ব ছিল। তেঢালা, গজারিয়া, পাকুড়িয়া, কাছমিয়া ইত্যাদি বিস্তৃত বিলের অঞ্চল ভর অঞ্চল বলে পরিচিত। এসব বিলের শাপলা শালুক এক সময়ে প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের লীলাবৈচিত্র বহন করত।

মাছ, পাখি, পশু, ফল, বৃক্ষ, ফসলের পরিচিতিতে গ্রামের নাম ও উৎপত্তি

গ্রাম সমাজের বিকাশের ধারায় যখন মানুষ স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে থাকে তখন তা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়ের পরিচিতিতে নামকরণ হতে থাকে। ঐসব বিষয়ের আধিক্যহেতু ঐ সকল নামে গ্রাম পরিচিতি হয়। মহিষ-মহিষবাথান, মহিষাখোলা, বেজি-বেজকোলা, গরুপালন-ঘোরপালান, হরিণধর-হরিণধারা, আখমাড়াই - আগমারাই, নিম- নিমতলা, কৈ-কৈজুরি, খলিশা-খালিশা, পাঙ্গাস-পাঙ্গাশিয়া, শোল-শৈালকাঠি, বোয়াল-বোয়ালিয়া, শিং-শিঙ্গা, ঘুঘু-ঘুঘুশালি, বাঘ-বাঘমারা, গজার-গজারিয়া, পাট-পাটবাড়িয়া, টেংড়া-টেংড়াপাড়া, আম-আমবাড়িয়া, ভেল্লা- ভেল্লাবাড়িয়া, বাঘ-বাঘাবিষ্ণুপুর, ধান- ধানুরিয়া, ঝাউগাছ-ঝাউগ্রাম, হলুদ-হলুদবাড়িয়া, মাছ-মাছপাড়া, বেত-বেতবাড়িয়া, বাওই-বাওইখোলা, আখ- আখরজানি, বড়ই-বরইচারা, সরিষা, সরিষা, শামুক-শামুকখোলা, হাতি-হাতিমোহন, বন-বনগ্রাম, ইন্দুর-ইন্দুরদি, মাগুর-মাগুরাডাঙ্গী ইত্যাদি।

Additional information