জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-৩

বালিয়াকান্দি

১৮৮১ সালে বালিয়াকান্দি থানা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উপজেলার আয়তন ২৪২.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়ন সংখ্যা-৭, মৌজা-১৪৮, গ্রাম ২৫৮। ২৩৩৩’ - ২৩৪৪’  উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০২৬’ - ৯০৪০’ পূর্ব - দ্রাঘিমাংশে উপজেলাটি অবস্থিত। উত্তর পাংশা উপজেলা, পূর্বে রাজবাড়ি সদর, দক্ষিণে মধুখালি এবং পশ্চিমে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা। চন্দনা নদীর বালিয়ারীতে গড়ে ওঠা বালিয়াকান্দির নামকরণে বালিয়ারীর বালি আর চন্দনার কান্দা (নদীর তীর) দিয়ে বালিয়াকান্দি বা বালিয়াকান্দি নামকরণ। মোট জনসংখ্যা ১৮৬৫৬২। পুরুষ ৯৬১২১, মহিলা-৯০৪৪১। (২০০১ এর সেনসাস)।

কালুখালি

বর্তমান কালুখালি থেকে কয়েক কি.মি. উত্তরে পদ্মার তীর ঘেঁষে বহরকালুখালি। ১৮৭১ সালে বহরকালুখালি হয়ে রেলপথ স্থাপিত হয়। পদ্মা তখন ছিল আরো উত্তরে। ১৯৩২ সালে কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া রেল স্থাপনকালে বর্তমান কালুখালিতে জংশন ষ্টেশন স্থাপিত হয়। চন্দনা নদীর তীরে বাণিজ্যিক স্থান এবং রেল যোগাযোগ ও জংশন হিসেবে কালুখালির গুরুত্ব বেড়ে যায়। পাশে রতনদিয়া প্রাচীন প্রসিদ্ধ ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। নানা কারণে কালুখালি দেশ দেশান্তরে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রায় এক দশক ধরে কালুখালিবাসী ও অত্র এলাকার কয়েক ইউনিয়নের মানুষ পৃথক একটি উপজেলা দাবি করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিবেচনাধীন কালুখালি উপজেলা সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে ২০১০ সালে কাজ শুরু করে। ইউনিয়নসমূহ হল-রতনদিয়া, বোয়ালিয়া, কালিকাপুর, মাজবাড়ি, মদাপুর, মৃগী ও সাওরাইল। এ সাতটি ইউনিয়ন পাংশা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোট আয়তন ১৫৭.২৯ বর্গ কিলোমিটার।

গোয়ালন্দ

গোয়ালন্দ ক্ষুদ্রতম উপজেলা। গোয়ালন্দের উত্থান, নামকরণ, থানা যথাস্থানে আলোচনা করা হয়েছে। তবে নানা পরিবর্তনের ধারায় ১৯২৪ সালে স্থায়ীভাবে গোয়ালন্দ থানা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর আয়তন ১৪৯০৩ বর্গ কিলোমিটার। ২৩৪১’ - ২৩৫০’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯৪১’ - ৮৯৫১’ পূর্ব-দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। উত্তরে পদ্মার ওপারে মানিকগঞ্জের সিবালয়, পাবনার বেড়া উপজেলা। পূর্বে শিবালয়, দক্ষিণে ফরিদপুর সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে রাজবাড়ি সদর উপজেলা। গোয়ালন্দ পৌরসভা এবং ইউনিয়ন সংখ্যা ৪, ওয়ার্ড-৯, মৌজা-৬৫ মহল্লা-৪১ এবং গ্রাম-১৬৯। মোট জনসংখ্যা ১১৭৩১৩। পুরুষ-৬০৪৪৭, মহিলা- ৫৬৮১৬(২০০১এর সেনসাস)।

প্রাকৃতিক পরিবেশ

পদ্মা, হড়াই, গড়াই, চন্দনা, কুমার আর চিত্রা পলিবাহিত রাজবাড়ি জেলা উর্বর পলল মাটির সমতল ভূমি। এই জেলার অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ ও বেলে প্রকৃতির। বিল অঞ্চলে এঁটেল মাটি। এখানে শীত ও গরম উভয়ই ঢাকার তুলনায় সামান্য বেশি। শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩৮৬.২৫ মি.মি.। বাতাসের আর্দ্রতা গড়ে শতকরা ৭৫ ভাগ। জেলার উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল অপেক্ষাকৃত উঁচু। চন্দনা নদী জেলাকে পূর্ব ও পশ্চিমে বিভক্ত করেছে। পাট, ধান, আখ, পিঁয়াজ, পিঁয়াজবীজ, রসুন, শাকসবজি, সরিষা, তিল, এ অঞ্চলের প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য।

Additional information