জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-৪

পাট ও আখ উৎপাদনে এ অঞ্চল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এক সময় গোয়ালন্দের তরমুজ বিখ্যাত ছিল। রাজবাড়ি জেলার উর্বর মাটি বর্তমানে মেহগনি, শিশু, কড়াই, জাম, আম, কাঁঠাল গাছ উৎপাদনে উপযোগী বিধায় এলাকার মানুষ বিপুল উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও ব্যক্তিগত বনায়ন সৃষ্টি করে জেলাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। এক সময় জেলার বহরপুর, সোনাপুর, বাগদুল অঞ্চলে বন্য শূকুর ও বাঘের বসবাস ছিল। তেঢালা, গজারিয়া, পাকুরিয়া, কাছমিয়া এ জেলার বিখ্যাত বিল। গড়াই আর পদ্মার মধ্যবর্তী অঞ্চল নিয়ে রাজবাড়ি জেলা। মাঝে এককালের খরস্রোতা নদী হড়াই ও চন্দনা মৃত প্রায়। অন্যান্য ছোট নদীর মধ্যে রয়েছে চিত্রা, কাজলী, সুতা নদী, ফুরসুলা নদী। সিরাজপুরের হাওড় জেলার অন্যতম হাওড় বলে পরিচিত এবং কল্যাণদিঘি বিখ্যাত। এ সমস্ত নদ-নদী উত্থিত দ্বীপ আর নব্য চর নিয়েই বর্তমান রাজবাড়ি। নদীবেষ্টিত হওয়ায় এলাকায় বন্যা, প্লাবন প্রায়শই দেখা দিত। ১৭৮৭, ১৮৪২,১৮৩৮, ১৮৭০-৭১, ১৯০৭, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬৮, ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৮৭, ১৯৮৮ সালে জেলাটি ভয়াবহ বন্যা কবলিত হয়। এরমধ্যে ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালের বন্যায় জেলার অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে যায়। এ সময় রাজবাড়ি শহরের ৯৯% ঘরের মধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করে। লেখকের বেডরুমে বন্যার পানির উচ্চতা ছিল ৩ ফুট। ইটের এর উপর ইট দিয়ে খাট উঁচু করে বাস করতে হত। ১৯৮৭ সালের বন্যা থেকে ১৯৮৮ সালের বন্যার পানির উচ্চতা বেশি ছিল। ১৯৮৯-৯০ সালে গোয়ালন্দ থেকে পাংশা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেওয়ার পর থেকে এলাকায় আর বন্যা হয় নাই। তবে চরাঞ্চল প্রায়শঃই বন্যাকবলিত হয়। জেলাটিতে পূর্বে প্রায়শই কালবৈশাখী ছোবল হানত। আবহাওয়ার পরিবর্তনে এখন আর তেমন কালবৈশাখী ঝড় হয় না। ১৯৬১ সালে গোয়ালন্দ থেকে ২ মাইল দূরে উজানচর গ্রামে ভয়াবহ টর্ণেডো আঘাত হানে। এর ব্যাপ্তি ছিল প্রায় ৩মাইল। এ টর্ণেডোতে ২ জন মারা যায় এবং ১৪৩ জন আহত হয়। ৩৮০টি কাঁচাঘর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৯৭৫ সালের ৮ মে রাজবাড়ি শহরের ওপর দিয়ে সকাল ৮ ঘটিকায় প্রবল সাইক্লোন আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৯৮৫ সালে দুপুরে একটি টর্ণেডো রাজবাড়ি ষ্টেশন রোড ধরে চরাঞ্চলে আঘাত হানে।

উদ্ভিদ ও জীবকুল

মানব জাতির বিকাশ ঘটেছে উদ্ভিদ ও জীবকে আশ্রয় করে। বৃক্ষ বা জীবকুল ব্যতীত কোনো মরু বা দ্বীপে মানবসভ্যতার অগ্রগামীতার কোনো ইতিহাস নেই। বাংলাদেশ সাগর উপকুলে নদীমাতৃক পলল মাটির উর্বর ভুমিতে অতি সহজেই শস্য দানা, লতা, বৃক্ষ শস্য সবল সতেজ হয়ে ওঠে। নানা প্রজাতির প্রাণীর আধার এই লতা, বৃক্ষ আচ্ছাদিত ফসলের মাঠ, সাগর ও নদ নদী। রাজবাড়ি জেলা পদ্মা, গড়াই, হড়াই, চন্দনার পলি বাহিত উর্বর ভূমিতে নানা জাতের বৃক্ষ, ফসল জন্মে। খাল-বিল নদী নালায় আছে নানা প্রাণী।

ফলজ বৃক্ষ

এমন কিছু বৃক্ষ আছে যা থেকে সু-স্বাদু ও পুষ্টিকর ফল পাওয়া যায় আবার সে সব বৃক্ষের কাঠ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এরমধ্যে আছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল, তাল, তেঁতুল, বড়ই, খেজুর, কামরাঙ্গা, পান, শুপারী, কদবেল ইত্যাদি জন্মে। পেয়ারা, পেঁপে ব্যবসায়িকভিত্তিতে চাষ করা হয়।

বনজ বৃক্ষ

রাজবাড়ি অঞ্চলে একসময় ঘরবাড়ি আসবাবপত্র তৈরিতে শাল, সুন্দরী, সেগুন, খড়, বাঁশ, বেত ব্যবহৃত হত। শাল, সেগুন, সুন্দরী কাঠ আসত সুন্দরবন থেকে আর খয়ের, পুঁয়ো, নিম, গাব, কদম, জারুল, শিশু, কড়াই, গজারি, কদম, শিমুল, স্থানীয়ভাবে জন্মাত। এখনো সোনাপুর অঞ্চলে খয়ের গাছ দেখা যায় এবং খয়ের তৈরি খারখানা রয়েছে। স্থান বিশেষে বট ও পাকুড় গাছ দেখা যায়। তখন মেহগনি কাঠের ব্যবহার ছিল না। বর্তমানে মেহগনি কাঠের বহুল ব্যবহার দেখা যায়।

Additional information