জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-৫

এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেহগনি কাঠের বাগান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কাঠও উন্নত এবং পাতা, ফল, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনেকে শিশু কাঠের বাগান করলেও আগামরা রোগে শিশু বাগান মরে গেছে। স্থানীয়ভাবে অনেক নার্সারী গড়ে উঠেছে।

ফসল, তরকারি, মশলা

জেলার প্রধান উৎপাদিত ফসল ধান, পাট, গম, যব, আখ, তিল, তিসি, মশুর, কলাই, ছোলা, মুগ, মটর, রাই, চিনা বাদাম, সজিনা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, হলুদ, আদা, মরিচ। এক সময় কার্পাস ও জাফরানের চাষ হত। এখন রেশমের চাষ হয়। স্থান বিশেষে ভুট্রা ও সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। তরকারির মধ্যে আলু, পটল, শিম, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, লাউ, ঢেড়স, ঝিঙ্গা, উস্তে, লালশাক, ডাঁটা, পালং শাক, পুঁইশাক, জন্মে। এক সময় গোয়ালন্দের তরমুজ বিখ্যাত ছিল। একমণ/ দেড়মণি তরমুজ কলিকাতা, দিল্লি রপ্তানি হত।

ঔষধি উদ্ভিদ

নিম, আমলকি, হরতকী, বহেড়া, অর্জুন, বাবলা, শিউলী, বকুল, করমচা, বেলীফুল, অশোক, বাসক, তুলসী, বিলাই আঁচড়া, কালোমেঘ, ঘৃতকুমারী, মহাভৃঙ্গরাজ, কেশুরাজ, চন্দন, তেলাকুচু, লজ্জাবতী, বানরলাঠি বা মোন্দাল, গন্ধবাধাল, জার্মানীলতা, অনন্তমূল, ভুঁইকুমড়া, নিশিন্দা, জগডুমুর, ছাতিম, ধুতরা, চিরতা, শতমূল, আকন্দ, শিমুল, আঁষ্টেল, কাঁটানটে, মানকচু, আদা, মেহেদি, দূর্বাঘাস, ইত্যাদি জন্মে।

ফুল

রাজবাড়ি জেলায় বিল বাঁওরে একসময় প্রচুর পদ্ম ও শাপলা ফুল দেখা যেত। এসব ফুল কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ফুলের মধ্যে গাঁদা, যুঁই, বকুল, বেলি, মালতি, গোলাপ, চাঁপা, গন্ধরাজ, দোপাটি, কামিনী, রজনীগন্ধা, জবা, আকন্দ, শিমুল, পলাশ, সূর্যমুখী, বনফুল, কচুরী ফুল, হিজল, লজ্জাবতী, কদম ইত্যাদি।

জীবজন্ত

রাজবাড়ি জেলা চন্দনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল একসময় ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। এসব জঙ্গলে বাঘ, ভালুক, শুয়োর ইত্যাদি হিংস্রপ্রাণী বসবাস করত। এছাড়া হরিণ, বনবিড়াল, বাগডাশা, শেয়াল, বনমোরগের বাস ছিল। মীর মশাররফ হোসেনের জীবনীগ্রন্থ থেকে জানা যায় তিনি নিজ পিতৃভূমি পদমদি থেকে কুষ্টিয়া সাঁওতায় নৌকা বাহনে চন্দনা নদী দিয়ে যাতায়াত করতেন। যাতায়াতের সময় চন্দনা নদীর পাড়ে কয়েকবার বাঘের দেখা পান এবং বাঘের গর্জন শুনতে পেতেন---‘এই বাঁকের আগে নারায়নপুর গ্রাম। তাহার আশপাশ পাংশা, মাধবপুর, মালঞ্চি প্রভৃতি গ্রামে বাঘের উপদ্রব কিছু বেশি হইয়াছিল। হঠাৎ ডাঙ্গার দিকে নজর পড়তেই দেখি প্রবীন এক বাঘ জানু পাতিয়া বসিয়া এক দৃষ্টে খরার প্রতি চাহিয়া রহিয়াছে। আমাদের এ অঞ্চলে বাঘ মারতে বাঁশপাতা ফাঁদ, খোঁয়ার, তীর ব্যবহার হয় (মশাররফ রচনা সম্ভার পৃষ্ঠা-৮৬,৮৭,৮৮,)। তাঁর পিতামহ মীর ইব্রাহীম বরাহ শিকার করে বেড়াতেন সেকথাও লিখেছেন। পঞ্চাশ বছর পূর্বেও জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্য শুকরের উপদ্রব ছিল। রাজবাড়ি শহরে সুইপার পাড়ায় অনেকেই শুকর পোষে। এলাকায় বিষধর সাপ গোখরার উপদ্রব আছে। অন্যন্য প্রজাতির সাপও দেখা যায়। শেয়ালের ডাক আগের মতো শোনা না গেলেও শেয়ালের বসবাস আছে। গুরু ছাগল ভেড়া, ঘোড়া, গৃহপালিত পশু রয়েছে। একসময় গুরু দিয়ে লাঙ্গল টেনে জমি চাষ করা হত। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টরের ব্যবহার বাড়ছে। পদ্মা ও গড়াই নদীতে কুমীরের উপদ্রব ছিল। পাখিদের মধ্যে বক, কাক, কোকিল, বাবুই, চিল, বাজ, দাঁড়কাক, পেঁচা, হুতুম কাঠঠোকরা, কাকুন, ফিঙ্গে, দোয়েল, ময়না, টিয়া, ঘুঘু, শালিক, মাছরাঙা, বুলবুলি, তিতির, খঞ্জনা, পানকৌড়ি, ডাহুক, চাতক।

Additional information