জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-৮

ভৌগোলিক অবস্থানে রাজবাড়ি বরেন্দ্র ও দক্ষিণ বঙ্গের মাঝামাঝি হওয়ায় বঙ্গের উত্থানের প্রাথমিক ধাপে রাজবাড়ির উত্থান ধারনা করা যায়। তবে রাজবাড়ির ভূ- উত্থানে পদ্মা, গড়াই, হড়াই, চন্দনার প্রভাবে প্রচুর ভাঙ্গা গড়ার খেলা রয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরকে ভিত্তি ধরে বলা যায় বর্তমান গোয়ালন্দ, খানখানাপুর, রাজবাড়ি, বেলগাছি, কালুখালি ও পাংশার উত্তরাঞ্চল চরদ্বীপ যা বহরপুর, বালিয়াকান্দি, পদমদি, সোনাপুর, বাগদুলি থেকে অপেক্ষাকৃত নবীন। সমাধীনগর, নাড়ুয়া, মৃগী, কসবামাজাইল, পদ্মার অন্য শাখা গড়াইয়ের প্রভাবে গঠিত অঞ্চল। চন্দনা নদী এক সময়ে খুবই প্রবল ছিল এবং এ নদীর তীরে আড়কান্দি, বালিয়াকান্দি, কান্দা অর্থাৎ কিনারে অবস্থিত বলেই কান্দি হয়েছে। টলেমি গঙ্গা নদীর যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে দেখা যায় প্রাচীন গঙ্গা নদী প্রায় ২০০০ বৎসর পূর্বে বর্তমান গোয়ালন্দ থেকে অনেক উত্তরে ঢাকা ভাওয়ালের পাশে ‘এ্যান্টিবোল’ হয়ে প্রবাহিত হতো। তখন ঐ অঞ্চলকে ‘এ্যান্টিবোল সাগর’ বলে পরিচিতি রয়েছে (জেমস টেলর)। তৎকালীন সময়ে গঙ্গার উত্তর হেতে সরাসরি দক্ষিণে করতোয়ার দক্ষিণাংশ এ অঞ্চলের হড়াই নদী বলে পরিচিতি ছিল। এ নদী খুবই বেগবান ছিল। বর্তমানে এটি বাণীবহের দক্ষিণ দিয়ে প্রবাহিত মৃত নদী। রাজবাড়ি জেলার ভূ-ইত্থান উল্লেখিত বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায় এর কিছু কিছু অঞ্চল অনেক পুরাতন উত্থিত দ্বীপসমূহ। এ অঞ্চলটি রাজবাড়ি জেলার মধ্যবর্তী অঞ্চল বালিয়াকান্দি, জামালপুর, বহরপুর সোনাপুর হয়ে পাংশা পর্যন্ত। এর উত্তরাঞ্চল গঙ্গাবাহিত বর্তমান পদ্মার ভাঙ্গা গড়ার এবং দক্ষিণাঞ্চল গড়াইয়ের ভাঙ্গা গড়ায় উত্থিত। এর প্রাচীন ভূমির উত্থান প্রায় ৫০০০ বৎসর পূর্বে ধারণা করা যায়।

নদ-নদী

পদ্মা, গড়াই, হড়াই, চন্দনা বাহিত পলি, কাঁকর দিয়ে সৃষ্টি রাজবাড়ি জেলা। রাজবাড়ির প্রধান ঐতিহ্য এককালের রুপালি ইলিশ। আজও রাজবাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবন পরিচালিত হচ্ছে এ সব নদনদীর প্রভাবে। সঙ্গত কারণেই এ সব নদনদীর অতীত স্রোতধারা, তার জন্মকাল জানতে ইচ্ছে করে। জানতে ইচ্ছে করে এর ভাঙ্গাগড়ার খেলা।

পদ্মা

নটিনী তটিনী আমি

নির্ঝরিণী নিঃসঙ্গ,

তরঙ্গ ভঙ্গিমায় ভঙ্গিল দেহ

জন্ম নিলাম প্রমত্ত পদ্মা আমি

পদ্মা নদী দৌলতদিয়া ৫০০ বৎসর পূর্বে পদ্মা এমন ছিল না। তখন গঙ্গার প্রধান ধারা ভাগীরথী দিয়ে চলত। পলি পড়ে ভাগীরথীর নদীতল উঁচু হয়ে উঠলে ক্রমশঃ পূর্বে জলঙ্গী, মাথাভাঙ্গা, কুমার গড়াই, হড়াই, চন্দনা দিয়ে গঙ্গার প্রধান প্রবাহ চলতে থাকে। গঙ্গা পরে তার পূর্বমুখী ধারা খুঁজে পায়। এ ক্ষেত্রে গঙ্গার প্রবাহ খুঁজতে গিয়ে মূলত গঙ্গার প্রাচীনত্বের ব্যাখ্যা প্রয়োজন যা অতি জটিল অধ্যয়ন। মধ্যপুরাণ ও মহাভারতে গঙ্গার পূর্বগামী ৩টি ধারা হলদিনী, পাবনী ও নলিনীর, উল্লেখ রয়েছে। অনেকের ধারণা পাবনী থেকে পদ্মার নাম এসেছে যা পাবনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

Additional information