জেলা পরিচিতি - পৃষ্ঠা নং-১০

জেমস টেলরের বর্ণনায় কীর্তিনাশা ঢাকার শ্রীপুরের মফলৎগঞ্জ ও রাজনগরের কিছুটা উত্তর দিয়ে প্রবাহিত। এটাই গঙ্গার প্রধান শাখা যা প্রশস্ততা ছিল ২/৪ মাইল। রেনেলের মানচিত্রে টেলরের বর্ণনায় কীর্তিনাশা কার্তিকপুরের উত্তরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। গঙ্গার দ্বিতীয় শাখা টেলরের বর্ণনায় নয়াভাঙ্গনী নদী (আড়িয়াল খাঁ) ঢাকা জেলার কোল বেয়ে বাকেরগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। মূলতঃ ৩০০/৪০০ বৎসর পূর্বে পদ্মার ধারা বর্তমান ধারা থেকে আরো উত্তরে বোয়ালিয়া (রাজশাহী শহর) পাবনার চলনবিল, ইছামতি (মানিকগঞ্জ) ধলেশ্বরী একাকারে ঢাকার দক্ষিণ দিয়ে শ্রীপুরের কীর্তিনাশা হয়ে সোজা দক্ষিণে প্রবাহিত হত। ২০০ থেকে ২৫০ বছরের মধ্যে পদ্মা অনেক দক্ষিণে সরে এসে বর্তমান খাতে রাজবাড়ি জেলার কোল ঘেঁষে জেলার উত্তর সীমানা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আবার কখনো উত্তরে ৫/৬ মাইল সরে গেছে। বর্তমানে রাজবাড়ি জেলার উত্তরে হাবাশপুর, ধাওয়াপাড়া ঘাট সোজা এসে মিজানপুর থেকে বাঁক নিয়ে ৬/৭ মাইল উত্তরে প্রবাহিত হয়ে পূর্বদিকে গোয়ালন্দের ৩ কিলোমিটার উত্তরে দৌলতদিয়ার অদূরে যমুনার ধারা বুকে নিয়ে পূর্ব মুখে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার তিনশত বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় বর্তমান গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি ও পাংশা থানার উত্তরাংশ পদ্মার নব উত্থিত চর দ্বারা সৃষ্টি। এসব দ্বীপ গোয়ালন্দের পঞ্চাশ হাজারী সমন্বিত চর বলে খ্যাত।

হড়াই

সব নদী খান খান

হড়াই নদী সাবধান

হড়াই নদী এ প্রবাদটি রাজবাড়ি জেলার বেলগাছি, কালূখালি মদাপুর, সূর্যনগর, রাজবাড়ি, বাণীবহতে বহুল প্রচলিত। প্রবাদটি নাকি উৎসারিত হয়েছিল চতুর্দশ শতকের মঙ্গল কাব্যের নায়ক চাঁদ সওদাগরের মায়ের মুখ থেকে।  কথা থেকে বোঝা যায় চাঁদ সওদাগরের মা তাকে সাবধান করেছিল বেগবান খরস্রোতা নদী থেকে তা সত্ত্বেও চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গা নিমজ্জিত হয় বেলগাছির অদূরে হড়াইতে। সে স্থানটিকে আজও মানুষ চিহ্নিত করে রেখেছে অতি যত্নে। স্থানটিতে কয়েকটি উঁচু ঢিবি দেখা যায় যাকে এ অঞ্চলের মানুষ চাঁদ সওদাগরের ঢিবি বলে। এ কাহিনীর সত্যতার সাথে চাঁদ সওদাগরের বাহিনীর ঐতিহাসিক সত্যতা কতটুকু? চাঁদ সওদাগর ও ধনপতি সওদাগরের কাহিনী আজ ঐতিহাসিক সত্য বলে পরিচিতি লাভ করেছে। সকল মঙ্গল কাব্যেরই নায়ক সওদাগর। এ মধ্যে চাঁদ সওদাগর, ধনপতি ও তার পুত্র শ্রীমন্ত অন্যতম। চাঁদ সওদাগরের ছিল সপ্তডিঙ্গা আর ধনপতির চৌদ্দডিঙ্গা। তাদের প্রধান ডিঙ্গার নাম ছিল মধুকর। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সমুদ্র যাত্রা করত। চাঁদ সওদাগরের বাড়ি বর্তমান বগুড়া। মঙ্গল কাব্যের বর্ণনায় যে কলিদহের কথা বলা হয়েছে তা এখন বগুড়ার করতোয়া নদীর খাতে কলিদহের সাগর বল পরিচিত। ধনপতি ছিলেন হুগলী অঞ্চলের । ড. নীহাররঞ্জন চাঁদ সওদাগরের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে----‘চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যতরী বাজখানি রামেশ্বর পার হইয়া সাগর মুখের দিকে অগ্রসর হইতেছে। পথে পড়িতেছে অজয় নদী, উজানী, শিবনদী, কাটোয়া, ইন্দ্রাণী নদী, কুলিয়া গুপ্তপাড়া, মির্জাপুর, সপ্তগ্রাম, কুমার হাট, নদীয়া, পূর্বে কাকীনাড়া, মূলজোরা, আড়িয়াসহ চিত্রাপুর।’

চাঁত নওতাহরের কাহিনী বর্তমান ইতিহাসের উপাদান তবে চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গা যে এখানে নিমজ্জিত হয় তার সত্যতা কী? হড়াই নদীর প্রবাহ বর্ণনায় হয়ত এ সত্যতা ঐতিহাসিক আলোচনার বিষয় হতে পারে। বর্তমানে মৃত হড়াই নদীর পদ্মা উৎসারিত হয়ে বেলগাছির পশ্চিম দিক দিয়ে বাণীবহের দক্ষিণ দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে পাঁচ মোহনীতে হড়াই, চন্দনা, গড়াই, কুমার একাকার।

Additional information