প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-১১

আসকার ইবনে শাইখ রচিত বাংলার শাসনকর্তা গ্রন্থের ৩৩ পৃষ্ঠায়----‘১৫৭৪ সালে সম্রাট আকবর মোরাদ খাঁকে বাংলা অধিকারে পূর্ববঙ্গে পাঠান। আকবরনামায় দেখা যায় তিনি ফতেহাবাদ (ফরিদপুর) বা সরকার বাকলা বা বাকেরগঞ্জকে আকবরের রাজ্যভুক্ত করেন। সুবেদারগণ ফরিদপুর শহরের ১৩ মাইল উত্তর পশ্চিম বর্তমান রাজবাড়ি সদর থানার অন্তর্গত খানখানাপুর গ্রামে বসবাস করতেন। মাত্র ৬ বছর রাজত্বের পর তিনি পরলোকগমন করেন।

সতীশ চন্দ্র মিত্র, আনন্দনাথ, তমিজউদ্দিন খান, আসকার ইবনে শাইফ এর উদ্ধৃতি থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয় মোরাদ খাঁ ফতেহাবাদ শাসন করতেন। আকবর নামায় মুকুন্দরাম জমিদার অংশে দেখা যায় ‘১৫৭৪ সালে দক্ষিণবঙ্গ জয় করার জন্য সেনাপতি মোরাদ খানকে পাঠান হয়। সেনাপতি মোরাদ খান ফতেহাবাদ জয় করেন এবং বাকলা (বাখরগঞ্জ) তার অধিকারভুক্ত হয়। ফরিদপুরের পশ্চিমে খানখানপুরে তাঁর বাসস্থান ছিল। তিনি ফতেহাবাদ থেকে যান এবং ৭৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মোরাদ সম্ভবত খানখানাপুরে অবস্থান করতেন।’ মোগল শাসনকালে আমীর খানকেও এ অঞ্চলে শাসনকর্তা করে পাঠানো হয়। তার নামে আমিরাবাদ বলে একটি পরগনা ছিল।

মোগল সেনাপতি হোসেন কুলি খাঁর মৃত্যু হলে পাঠান কোতল খাঁ পুনরায় বাঙ্গলা আক্রমন করেন। কোতল খাঁ প্রথমত সাতগর শাসকর্তা মিরজাদাদ খাঁকে আক্রমণ করেন। মিরজাদাদ পলায়নপূর্বক সেলিমাবাদ প্রস্থান করেন। এদিকে কোতল খাঁর আক্রমণের এই সময় ভূষণায় মুকুন্দরাম নামে এক সামান্য জমিদার ছিলেন। মোরাদ খাঁর সাথে তার বিশেষ সখ্যতা ছিল। মোরাদ চার পুত্রকে নিয়ে মুকুন্দকে কোতল খাঁর বিরুদ্ধে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর হলেন। পাঠান কোতল খাঁ ফতেহবাদ আক্রমণ করল। এ সময় মোরাদ খাঁ অস্থায়ী নিবাস খানখানাপুরে বাস করেন। মুকুন্দ ও মোরাদের সৈন্যদল কতোল খাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হলেন। এদিকে মোগল সেনাপতি রাজা মানসিংহের দল বল নিয়ে বাঙ্গলায় আবির্ভূত হলেন। তিনিও কোতল খাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হলেন। উপায়ন্তর না দেখে পাঠান কোতল খাঁ উড়িষ্যার পলায়ন করেন। এর অব্যবহিত পরই ৭৪ বছর বয়সে মোরাদ খাঁ খানখানাপুরে মৃত্যুবরণ করেন। এর পরবর্তী ঘটনায় তাঁর চার ছেলেকে কৌশলে হত্যা করে ভূষণাধিপতি মুকুন্দরাম সমগ্র ফতেহাবাদ অধিকার করেন।

Murad Khan died a natural death. Mukundu the land lord of that part of the country invited his sons as his guests and pur them to death and laid hold of his estate (Akbarnama Beveridge vol-111 p-469)

মোরাদ খানের সাথে এভাবেই জড়িয়ে আছে রাজ্য ফতেহবাদ, চাকলা ভূষণা তথা রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস।

মুকুন্দরাম রায় (ভুঁইয়া)

ভুষণা উত্থান পতনের সাথে জড়িয়ে আছে বর্তমান রাজবাড়ি জেলার অতীত ইতিহাস। ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে অনকগুলি জমিদার এক হয়ে দিল্লিশ্বরের অধীনতা থেকে তাদের মুক্ত করতে প্রয়াসী হন। তারা বার ভূঁইয়া নামে পরিচিতি। ভূঁইয়াদের সংখ্যা ১২ কি আট সে বিতর্কে না যেয়ে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য, চন্দ্রদ্বীপের কন্দর্প রায়, বিক্রম পুরের কেদার রায়, চাঁদ রায়, ভুলুয়ার লক্ষণ মানিক্য, ভূষণার মুকুন্দ রায়, ভাওয়ালের ফজল গাজী, খিজিরের ঈশা খাঁ, পাবনার বিনোদ রায় ইতিহাসের পাতায় প্রসিদ্ধ।

Additional information