প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-১৪

তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী ছিল। এই সকল জমিদারগণ, ‘জোর যার মুল্লুক তা’ নীতি অবলম্বন করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দখল করতে সচেষ্ট থাকতেন। কখনো কখনো জমিদারগণ সাময়িকভাবে বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠায় আকবরের সেনাপতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। এই জমিদারেরা বাংলায় বার ভূঁইয়া নামে পরিচিত। ভূঁইয়াদের বিষয়ে শ্রী সতীশ চন্দ্র মিত্র বলেন-- ‘উহাদের কাহারো বা শাসনস্থল একটি পরগনাও নহে, আবার কেহ বা একখণ্ড রাজ্যের অধীশ্বর। কোথাও বা দশ বারোজন ভূঁইয়া একজনকে প্রধান বলিয়া মানিয়া তাহার বশ্যতা স্বীকার করিত। প্রতাপান্বিত ভূঁইয়া অন্য ভূঁইয়ার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হইতেন। তখন রণরঙ্গ রাজায় রাজায় না হইয়া ভূঁইয়া ভূঁইয়া চলিত। আর প্রজাদিগের সকলেই সেই যুদ্ধ ব্যাপারে যোগ দিয়া ফলত্যাগী হইতে হইত।  এই অরাজকতার যুগে কেহ নির্লিপ্ত থাকিতে পারিতেন না। সকলকেই রাজনৈতিকতায় যোগ দিতে হইত নইলে আত্ম পরিবারের প্রাণ রক্ষা পর্যন্ত অসম্ভব হইত।’ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবরের রাজ্য আরম্ভ হতে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে আকবরের রাজ্য লাভ পর্যন্ত বঙ্গে কোনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় নাই। সুলেমান ফরায়েজীর কঠোর শাসনের মধ্যে যে শান্তিটুকু ছিল সেনাপতি কালাপাহাড়ের অত্যাচারে তাও তিরোহিত হয়। এই সময় সাধারণ প্রজাকুল মোগল কর্মচারী কর্তৃক নানভাবে প্রতারিত হতে থাকে। কবি কঙ্কনের ভাষায় তার পরিচয় পাওয়া যায়---মোগল ডিহিদার বা তহশীলদার ঘুষ নিয়ে খিল (পতিত) ভূমিতে নাল লিখে প্রজাদের প্রতারিত করত। ভূঁইয়াগণ ঐ সময় অনেক স্থলে ডিহিদারের হাত থেকে বিদ্রোহী প্রজাদের আশ্রয় দিত।

সরকার হইলা কাল, খিল ভূমি লেখে নাল

বিনা উপকারে খায় অতি (ঘুষ)

পোদ্দার হইল যম, টাকায় আড়াই আনা কম,

পায় লভ্য, পায় দিন প্রতি।

জমিদার পতিত আছে, প্রজারা পালায় আছে

দুয়ার চাপিয়া খায় খানা

প্রজা হইল ব্যকুলী, বেঁচে ঘরের কুড়ালী,

টাকার দ্রব্য বেঁচে দশ আনা----

(কবি কঙ্কন চণ্ডী, পৃষ্ঠ-৫)

উক্ত ভূঁইয়া বা ভূঁইয়াগণকে শুদ্ধ ভাষায় ভৌমিক বলা হয়। ইংরেজ আমলে যাদের জমিদার বলা হত অনেকটা সেরকম। ভূঁইয়াগণ আত্মরক্ষা ও রাজস্ব সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট সৈন্য সংগ্রহে রাখতেন। অস্ত্রসহ দুর্গ ও নৌবাহিনীর আয়োজন করতেন। বীর বলে তাদের খ্যাতি ছিল। প্রজারা তাদের ভয় ভক্তিও করত। ঐতিহাসিকদের মতে সে সময় যে কত পরচিত ও অপরিচিত ভূঁইয়া ছিলেন তার হিসেব কেউ রাখতেন না। তবে তাদের মধ্যে যারা বীরত্বে অগ্রগণ্য, যাদের রাজত্ব বিস্তীর্ণ এবং যারা বিপুল সৈন্যবলে শক্তি সম্পন্ন হতেন তাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ত। ইতিহাসগতভাবে এরুপ ১২ জন ভূঁইয়ার বিশেষ পরিচিতি পাওয়া যায় এবং তারা বঙ্গদেশে বার ভূঁইয়া বলে পরিচিত। তারা হলেন---(১) ঈশা খাঁ--মসনদ

Additional information