প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-১৫

আলী খিজিরপুর বা কত্রাস্থ-সোনারগাঁ (২) প্রতাপাদিত্য-যশোহর বা চাণ্ডিক্যান---বর্তমান রাজবাড়ির পশ্চিমাংশ (৩) চাঁদ রায় ও কেদার রায়----শ্রীপুর বা বিক্রমপুর (৪) কন্দর্প রায় ও রামচন্দ্র রায়----বাকলা বা চন্দ্রদ্বীপ-বরিশাল (৫) লক্ষণ মাণিক্য----ভূলুয়া-নোয়াখালি (৬) মুকন্দরাম রায়----ভূষণা বা ফতেহাবাদ-ফরিদপুর-রাজবাড়ি (৭) ফজল গাজী, চাঁদ গাজী----ভাওয়াল (৮)হামীদ মল্ল বা বীর হাম্বির---বিষ্ণুপুর (৯) কংস নারায়ণ----তাহিরপুর (১০) সঁ-তৈর বা সান্তোল (১১) পিতাম্বর ও নীলাম্বর----পুঁঠিয়া (১২) ঈশা খাঁ লোহানী ও ওসমান খাঁ ----উড়িষ্যা ও হিলি।

ঐতিহাসিকদের মতে এদের মধ্যে প্রথম ছয়জন খুবই বিখ্যাত। ফলে দেখা যায় ভূঁইয়াদের উত্থান ঘটেছিল সোনার গাঁ, বিক্রমপুর, নোয়াখালি, ফরিদপুর, যশোহর ও বরিশাল। তাদের মধ্যে ভূষণা বা ফতেহাবাদের মুকুন্দরাম রায় ও প্রতাপাদিত্য রাজবাড়ি জেলার ইতহাসে বিবেচ্য। (ইতিপূর্বে ভূষণাধিপতি, অন্যতম ভূঁইয়া মুকুন্দরাম রায় আলোচিত।

যশোহর রাজ প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি রঘুর বংশধর বাগডুলিতে

পাংশা উপজেলার রঘুবীর সম্বন্ধে কথিত নানা কাহিনী লোকমুখে শোনা যায়। পাংশার কোনো একজন ব্যক্তি আমাকে বলেছিলেন কথিত আছে এ অঞ্চলে রঘুবীর নামক এক অসম বীর ছিলেন যিনি বড় আকারের একটি নৌকা মাথায় করে বহন করতে পারতেন। খাদ্যখানা ছিল দিনে ২০/২৫ জন মানুষের খাদ্যের সমান। হাজার লোকও তার সাথে লড়তে সাহস পেত না----ইত্যাদি। ভদ্রলোক আমাকে এ বীরের কাহিনীর সত্যতা খুঁজে পেতে অনুরোধ করেছিলেন। এক্ষণে এর রঘুবীরের সন্ধান করা গেছে যিনি যশোহর রাজ প্রতাপাদিত্যের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন। তবে রঘু নয় রঘুর ছেলে বাস করতেন পাংশার বাগডুলিতে।

বাংলায় বারভূঁইয়াদের মধ্যে স্বাধীনচেতা যশোহর-খুলনার পরাক্রমশালী ভূঁইয়া ছিলেন প্রতাপাদিত্য। পিতা বিক্রমাদিত্যর ১৫৮৩ সালে মৃত্যুর পর ১৫৮৪ সালে প্রতাপাদিত্যের রাজ্যাভিষেক হয়। সে সময় সম্রাট ছিলেন মহামতি আকবর। প্রতাপাদিত্য প্রবল ও পরাক্রমশালী জমিদার হিসেবে অচিরেই আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে দুর্গ নির্মাণ এবং সুশৃঙ্খল সৈন্যদল গঠন করে যশোর খুলনাসহ উড়িষ্যা পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। প্রতাপাদিত্যের সময়ে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বঙ্গের সুবেদার হয়ে আসেনে (১৫৮৯-১৬০৪) এবং রাজমহলে রাজধানী স্থাপন করেন। ১৬০৩-০৪ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহ যশোহর আক্রমণ করেন। প্রতাপের সাথে মানসিংহের যুদ্ধ ও সন্ধি হয়। ১৬১০-১১ ধুমধাটের নৌ-যুদ্ধে প্রতাপের পরাজয় হলে প্রতাপ পিঞ্জিরাবদ্ধ হয়ে আগ্রায় প্রেরিত হন। পরে বারানসীতে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতাপাদিত্যের ছিল ৫২ হাজার ঢালী, ৫১ হাজার তীরন্দাজ, বিশ হাজার পদাতিক এবং বিপুল পরিমাণ কুকী সৈন্য।

তাঁর কয়েকজন সেনাপতির মধ্যে রঘু ও মুঘা ছিলেন অন্যতম। সেনাপতি রঘুর অধীনে ছিল একদল পার্বত্য কুকীর সুঠাম দেহের শক্তিশালী সৈন্যদল। তারা তীর, ধনুক, বর্শা ও টাঙ্গী দিয়ে যুদ্ধ করত। তারা নৌবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিল। যশোর-খুলনার ইতিহাসের ২৬৯ পৃষ্ঠায়---‘প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি রঘুর নিবাস ছিল রাজবাড়ি জেলার দক্ষিণে গড়াই নদীর ওপারে বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার শ্রীপুরে। তিনি সৌপায়ন গোত্রীয় নাগবংশীয় বরেণ্য কায়স্থ ছিলেন। পূর্বপুরুষ কর্কট তারা উজালীয়া পরগানার অধীশ্বর হয়ে শৈলকুপায় ছিলেন।

Additional information