প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-১৬

রাজা কর্কটের বংশধর রাজবল্লভ। রাজা রাজবল্লভের পৌত্র রঘুনাথ ছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি। তিনি পূর্ব দেশীয় সৈন্যদলের অধিনায়ক ও দুর্গাধ্যক্ষ ছিলেন।’ কিঙ্কর রায় রচিত----নাগবংশ ঢাকুর পৃষ্ঠা-১৪-১৫

প্রতাপ আদিত্য রাজা বঙ্গ-অধিপতি,

পূর্ব খণ্ডে ছিল তাঁর রঘু সেনাপতি

মানসিং হস্তে সদা-----প্রতাপ পড়িল

মাহযুদ্ধে রঘুবীর প্রাণ বিসর্জিল

বিস্ময় বিভব সব পর হস্তগত

দেবালয় সমজিদে হইল পরিণত।

রঘুবীরের মৃত্যুর পর তাঁর জমিদারী মানসিংহের সময়ে বাজেয়াপ্ত হয় নাই। সম্ভব ত ইসলাম খাঁর সেনানী ইনায়েত খাঁর আদেশে তা সাধিত হয়। তখন রঘুর পুত্র রামনারায়ন রাজ্যহীন হয়ে শৈলকুপা ত্যাগ করে বাগডুলী গ্রামে (রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার অন্তর্গত) বাস করেন। এরপর এ বংশ নান স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভবত বাগডুলীতে বসবাসরত রঘুর পুত্রের কারণে অত্র অঞ্চলে রঘুবীর সম্বন্ধে নানা কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে।

সংগ্রাম সাহ

মোগল শাসনকালে সেনাপতি সংগ্রাম সাহর সাথে রাজবাড়ি জেলার অনেক কাহিনী ও স্মৃতিবিজড়িত আছে। নাওয়াড়া মহল, রাজবাড়িতে লালগোলায় সংগ্রাম সাহর দুর্গ, বাণীবহ গ্রামে তাঁর বিবাহ ও কোমরপাড়ায় তাঁর বংশধর, বাণীবহে তলাপাত্রের দিঘি(যা বর্তমান আছে), মথুরাপুরে সংগ্রাম সাহর দেউল (মথুরাপুরের দেউল), মগ পর্তুগীজ জলদস্যু দমন ইত্যাদি এ অঞ্চলে তাঁর পদচারণা ও স্মৃতিচিহ্ন বহন করে। অনেক ঐতিহাসিক সংগ্রাম সাহ সম্বন্ধে নিরবাত পালন করলেও ১৫৫৩ খ্রিস্টাব্দের কিঞ্চিৎ পূর্ব থেকে ১৬৪১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিকের লেখায় সংগ্রাম সাহর বিচরণ কাল দেখা যায়। এসময় কালে কখনো শাহবাজপুর (মেঘনা নদীর মোহনায়), কখনো বাখরগঞ্জ, কখনো ভূষণা ও মাহমুদপুর, কখনো রাজবাড়ি জেলার বাণীবহ, কখনো মারওয়ার প্রদেশ, কখনো যোধপুর, কখনো রাজস্থানের অন্তর্গত মারবার প্রদেশ তার বিচরণ ভূমি। আনন্দনাথ রায়ের ফরিদপুরের ইতিহাসের ৭৫ পৃষ্ঠায় ‘দ্বিশত বৎসর অতীত হইলে বঙ্গদেশে সংগ্রাম সাহর প্রাদুর্ভুত হইয়াছিলেন। পূর্ববঙ্গের নানা স্তানে আজও তাহার পরিচয়ের কতিপয় চিহ্ন বর্তমান থাকিয়া তাহাকে স্মরণীয় করিয়া রাকিয়াছে। যশোহর, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ ও নোয়াখালি প্রভৃতি জেলা সংগ্রামের প্রধান লীলাক্ষেত্র ছিল বলিয়া বোধ হয়। এতদ্ভিন্ন সুদূর মারাবাড় বা যোদপুরের ইতিবৃত্ত পাঠ করিলেও সংগ্রামের শৌর্যবীর্যের পরিচয় পাইয়া স্বততই তাহার ধন্যবাদ করিতে ইচ্ছা হয়। কবি কণ্ঠহার কৃত সদ্বৈদ্যকুল পঞ্জিকা, মাহমহোপাধ্যায়ের ভরত মল্লিকৃত চন্দ্র-প্রভা, আলমগীর নামার আংশিক অনুবাদ হইতে উদ্ধৃত, কলিকাতা রিভিউর কতিপয় প্রবন্ধ, মি. বিভারেজকৃত বাখরগঞ্জের ইতিহাস এবং মহাত্মা কর্ণেল টডকৃত রাজস্থানের ইতিহাস এবং অন্যান্য কতিপয় প্রবন্ধ অবলম্বনে এই প্রস্তাব সংক্রান্ত উপকরণগুলি সংগৃহীত হইয়াছে।’

Additional information