প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-২৫

প্রজাগণে অন্নজল ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে সীতারাম রাজসম্মান লাভ করেন। ধর্মপরায়ণতা আর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি রাজধানী প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরে দশভূজা দুর্গামন্দির স্থাপন করেন। সীতারাম তার নতুন গুরুদের কৃষ্ণবল্লভ গোস্বামীর নিকট বৈষ্ণব ধর্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে কারুকার্যখচিত জোড় বাংলা মন্দির নির্মাণ করেন এবং কৃষ্ণবিগ্রহ স্থাপন করেন। রাজবাড়ি জেলায় বালিয়াকান্দি উপজেলায় নলিয়া গ্রামে একটি জোড়বাংলা মন্দির স্থাপন করেন। নলিয়ার জোড় বাংলা মন্দিরটি ভগ্ন অবস্থায় আছে।

কৃষাননের পৌত্র রাজিবলোচন সপরিবারে হনু নদীর তীরবর্তী দরিয়াপুর (মাগুরা) গ্রামে ও পরে কাদিরপাড়ায় সম্পত্তি পাইয়া তথায় আসিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। রাজীবলোচনের তিন পুত্র------হরিরাম, রাসরাম ও দুর্গারাম। তিন ভ্রাতাই বিপুল দেহশালী ও অত্যন্ত বলবান ছিলেন। সে জন্যই তারা রাজা সীতারামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কথিত আছে রাসরাম ও দুর্গারাম অসীম সাহসের সহিত ডাকাইতদের আক্রমণ বিতারণ করায় সীতারাম সন্তুষ্ট হয়ে বিলপাকুরিয়া নামক একখানি গ্রাম দুই ভ্রাতাকে দুগ্ধ খাওযাইবার জন্য নিষ্কর দান করেন। ‘এই গ্রামখানি পরগনে বেলগাছির অন্তর্ভুক্ত এবং ফরিদপুরের বালিয়াকান্দি পুলিশ স্টেশনের অধীন। ঐ গ্রাম এখানো রাসরামের নামীয় খারিজা তালুক বলিয়া ফরিদপুরের কালেক্টরীর তৌজিভুক্ত ও উহা মুন্সীগণের দখলে আছে।’ (যশোহর খুলনার ইতিহাস, সতীশ চন্দ্র মিত্র, পৃষ্ঠা-৪৬১)। বিলপুকুরিয়া গ্রামটি বর্তমান এবং বিল অঞ্চলের জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় রাজবাড়ি জেলার খারিজী তালুক থেকে রাজস্ব আদায় হত নিম্নরুপ---

বেলগাছি পরগনা (পাংশা) ৩৫৭ টাকা, মহিম শাহী পরগনা (বালিয়াকান্দি) ৩৬০৬ টাকা, নশরতশাহী (পাংশা) ১৬৯০ টাকা, নসিব শাহী (গোয়ালন্দ) ৬৯০০ টাকা, সূত্র-(ফরিদপুর গেজেটিয়ার পৃষ্ঠা-২৭০। রাজবাড়ি জেলায় খারিজী তালুকের ছড়াছড়িতে অনুমান করা যায় সীতারাম ও তৎপরবর্তী সময়ে জমিদারী সম্পত্তির বাইরে বহুসম্পত্তি খাস হিসেবে খারিজী তালুকের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তার মালিক হন ব্যক্তি বিশেষ। লেখকের নিজ বাড়ি বিলমালেঙ্গা গ্রামে। এর পাশেই ছোট গ্রাম তালুকপাড়া। এখন ভাবতে পারছি বিলমালেঙ্গা তালুকপাড়া খারিজী সম্পত্তি ছিল। আর এসব গ্রামের পত্তনও হয়েছে মোগল শাসনকালে।

সীতারামের পতন :

প্রবল পরাক্রশালী প্রজাহিতৈষী রাজা সীতারামের পতন সামান্য হলেও রাজবাড়িবাসীর মনে বেদনা সৃষ্টি করবে। কারণ তার শাসনকালে তার রাজ্যে প্রজা পীড়নের কোনো ইতিহাস নেই। তিনি মাত্র ১৩/১৪ বছর এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি এ অঞ্চলের মানুষের জলকষ্টে পুকুর খনন, শিক্ষার জন্য টোল, রাজস্ব আদায়ে নমনীয়তা, চোর ডাকাত দমন করে সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখানে লোকের মুখে সীতারামী সুখের কথা প্রবাদ হয়ে আছে।

হিন্দুবাড়ির পিঠা কাশন মুসলমানে খায়

মুসলমানের রস পাটালী হিন্দুরা খায়

Additional information