প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-২৭

তবে সীতারাম আরও ক্রোধান্বিত হন। ফৌজদারের সামরিক শক্তি কি তা সীতারাম জানতেন। সে সময় খাল বিল জঙ্গল বেষ্টিত এলাকায় বাদশার কর্ম কর্তৃত্ব গ্রাহ্য করতেন না এবং নিজ জমিদারীর সীমার মধ্যে কাউকে ঢুকতে দিতেন না। ফৈাজদারের সৈন্যদের সাথে প্রায়ই হাঙ্গামা লেগে থাকত। মীর আবু তোরাপ সীতারামকে দমন করার জন্য সেনাপতি পীর খার উপর ভার ন্যাস্ত করেন। সীতারামের সৈন্যদল শক্তিশালী ছিল। বারসিয়া নদীর কূলে উভয়পাশের সেনাদের যে যুদ্ধ হয় তাতে আবু তোরাপ নিহত হন। এরপর সীতারাম ভূষণা দুর্গ দখল করে নেন। আবু তোরাপের মৃত্যু সংবাদ দিল্লীতে পৌছালে দিল্লীশ্বর ফররুখ শিয়ার সীতারামকে দমনের জন্য মুর্শীদকুলি খাঁকে আদেশ দেন। এ সময় বক্স আলী খাঁ নিজ সহকারী সংগ্রাম সিং (সংগ্রাম সাহ নয়) সঙ্গে নিয়ে ভূষণা দখলের উদ্দেশ্যে পদ্মা দিয়ে স্থলপথে ভূষণার উত্তর দিকে উপনীত হন। সীতারাম স্বসৈন্যে অগ্রসর হয়ে গতিরোধ করে। যুদ্ধে সীতারামের জয় হয়। এদিকে দয়ারাম রায় মুহম্মদপুর আক্রমণের জন্য জমিদারী ফৌজ নিয়ে পদ্মা হয়ে গড়াই নদী পাড় হয়ে কুমার নদীর তীরে বারাসাতে পৌছেন। মুহম্মদপুরের দুর্গ রক্ষা  করতেন রামরুপ বা মেনা হাতি। গুপ্ত ঘাতকেরা তাকে হত্যা করে। এরপর তার মস্তক কেটে দয়ারামের নিকট দেওয়া হলে দয়ারাম ছিন্ন মুণ্ডুটি মুর্শিদাবাদ নবাবের নিকট পাঠিয়ে দেন। কথিত আছে নবাব সে প্রকাণ্ড মুণ্ডু দেখে শিহরিত হন এবং তাকে স্বশরীরে কারাবদ্ধ না করে গুপ্তভাবে কেন হত্যা করা হল সে অনুযোগ করেন। নবাব সসম্মানে সে ছিন্ন মুণ্ডু মুহম্মদপুরে ফিরিয়ে দেন। ভূষাণা থেকে রামরুপের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সীতারামের মনোবল অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে। এরপর মধুমতির কূলে দয়ারামের সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে আহত এবং ধৃত হন। দয়ারাম তাকে মুর্শিদাবাদে নবাবের হাতে অর্পণ করেন। মুর্শিদাবাদেই ১৭১৪ সালে তার মৃত্যু হয় তবে তার পরিবার পরিজনকে মোহাম্মদপুরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। সীতারামের মৃত্যু সম্বন্ধে দুটি মতো জানা যায়। কেহ বলেন নবাব কর্তৃক তার মৃত্যুদণ্ড হয়, কেহ বলেন কারাগারে বিষপান করে তিনি আত্মঘাতি হন।

সীতারামের মৃত্যুর পর রাজবাড়ির জমিদারীর বিভক্তিকরণ :

‘নবাবী আমলের জমিদারী খাস হইলে যেরুপ ব্যাবহার হইয়া থাকিত এ সূত্রেই তাহাই হইল। সীতারামের ভূষণা জমিদারী নিম্নলিখিত মোতাবেক বাটোয়অরা হইয়া গেল। (আনন্দ রায়)। রঘু নন্দন স্বীয় ভ্রাতা রামজীবনের নামে নলদী বিভাগে ভূষণা চাকলার আমিরাবাদ, আরঙ্গাবাদ, বাজুবন্দ, মাহমুদশাহী, নলদী, তেলীহাটি, নশরৎশাহী, সেনদিয়া, কাশিমনগর, প্রভৃতি লইয়া ১৩০ পরগনায় বিভক্ত এবং রাজস্ব ১৬৯৬০৮৭ টাকা নির্ধারিত হয়। নাটোর জমিদারীর ইহাই প্রধান অংশ।’

(আনন্দনাথ রায়, ফরিদপুরের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-৮৪)। উল্লেখ করা যায় পরগনা নসীব শাহী, বেলগাছি, মহিম শাহীর অংশবিশেষ নাটোর রাজার জমিদারীভুক্ত হয়। ফলে রাজবাড়ি জেলার আমিরাবাদ (বর্তমান খানখানাপুর, সুলতানপুর) নশরত শাহী (বর্তমান বসন্তপুর, মূলঘর), কাশিম নগর বর্তমান গোয়ালন্দ (বরাট, রাজবাড়ির উত্তরাংশ) বেলগাছি (বর্তমান বেলগাছি) নসিব শাহী (বর্তমান বহরপুর, জামালপুর, বালিয়াকান্দি, ইসলামপুর) মহিম শাহী বর্তমান পাংশার দক্ষিণ ও উত্তরাংশে নাটোর রাজার রাজ্যভুক্ত হয়। বাকি অংশ নড়াইল এস্টেটের অধীনে আসে।

Additional information