প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-২৯

তবে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় ভূষণা যশোহরের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজবাড়ির দলিলপত্রে দেখা যায় ১৭৯৩ সালে ‘গোয়ালন্দ ঘাট’ গোয়ালন্দ হিসেবে যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। এ থেকে প্রমাণ হয় গোয়ালন্দ ভূষণা অঞ্চল নাটোর রাজার জমিদারী হিসেবে তা যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেল। এরপর রাজা বিশ্বনাথ যখন বয়োপ্রাপ্ত হলেন তখন লোকসানের সম্পত্তি ভেবে বিশ্বনাথ ভূষণা গ্রহণ করেন না। দেখা যাচ্ছে ১৭৯৯ সালে যশোর কালেক্টর হতে ভূষাণা পরগনা খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে নিলাম হয়ে যাচ্ছে। এর একটি বিবরণী নিম্নে দেওয়া হল।


পরগনা                        রাজস্ব           নিলামের তারিখ             খরিদকারী


হাবেলী ফরিদপুর        ৩৬৬১৩ টাকা       ১৫-২-১৭৯৯               রামনাথ রায়


মকিমপুর                 ২৫৩৪৭ টাকা       ১৫-২-১৭৯৯               রামনাথ রায়


নসিবশাহী (রাজবাড়ি)   ১৬৯৩৭ টাকা       ২৫-২-১৭৯৯    ভৈরবনাথ রায় (পাংশা)


সাঁ-তৈর                  ৩৯৯৬৮ টাকা      ২৮-২-১৭৯৯             শিব প্রসাদ রায়


নলদী                      ৬৬৭০০ টাক      ২৩-৩-১৭৯৯    ভৈরবনাথ রায় (পাংশা)


(সুত্র: যশোর খুলনার ইতিহাস পৃষ্ঠা-৩৯৩)

মহারাজ রামকৃষ্ণ যখন ভূষণা ইজারা দিতে যাচ্ছিলেন তখন বৃদ্ধা রানী ভবানী বুঝতে পেরেছিলেন ভূষণা জমিদারী টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তখন সীতারামের বিগ্রহসহ ধর্মপায়ানা রানী ভবানী পৃথক মৌজা করে কতকগুলি দেবোত্তর মহলের সৃষ্টি করেন এবং উক্ত মোকামসমূহ পৃথক দেব সেবার জন্য অর্পণ করেন। আনন্দনাথ রায় ফরিদপুরের ইতিহাসের ২৭ পৃষ্ঠায়----‘বেলগাছি স্টেশনের নিকট হারোয়া গ্রামের মদন মোহনের মন্দির বেলগাছি পরগনা-পূর্বে নাটোর রাজ স্টেটের অন্তর্গত ছিল। ইহা হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন উক্ত মন্দির এবং বিগ্রহ নাটোর রাজবংশেরই কর্তৃক এই মন্দিরাধীষ্ঠিত। ‘মদনমহোন অতি সুন্দর ত্রিভুজমূর্তি প্রস্তর নির্মিত । ১/১/২ হাত উঁচু। মন্দিরে ব্যয় নির্বাহে প্রচুর দেবোত্তর ভূমি প্রদত্ত হইয়াছে। রাজবাড়িতে মদনমোহন জিউর নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। ইতিহাসের ধারায় অঞ্চলটি রাজা সীতারামের অধীন থাকায় রানী ভবানী তা রক্ষার জন্য দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দান করেন বা রানী ভবানী নিজেই তা প্রতিষ্ঠা করেন। মদন মোহন জিউর রাজা রাম জীবনের নামে উৎসর্গকৃত। যেভাবেই হোক তা ইতিহাসের স্বাক্ষর বহন করছে। জানা যায় মূল বিগ্রহটি ১৪/১৫ বছর আগে চুরি হয়ে যায় এবং মন্দিরটি স্থানান্তর করা হয়।

বেলগাছিতে নাটোর রাজবংশের ঐতিহ্য হিসেবে নির্মিত ‘সানমঞ্চ’ ও ‘দোলমঞ্চ’ বর্তমান আছে। প্রতিবছর এখানে রামজীবনের নামে রথের মেলা বসে। প্রসঙ্গত রাজবাড়ি জেলার নসিবশাহী, নশরতশাহী, বিরাহিমপুর, কাশিমনগর, আমিরাবাদ, সুলতানপুর, বেলগাছি সকল পরগনা সীতারামের রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল তাও যেমন ঠিক নয় আবার সীতারামের সকল অঞ্চলই যে নাটোর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় তাও ঠিক নয়।

Additional information