প্রাচীন জনপ্রবাহ - পৃষ্ঠা নং-৯

ফতেহাবাদ মুল্লুকে ঘাঘড়া ও ঘন্টেশ্বরী নদীর মধ্যবর্তীস্থান ফুল্লেশ্রী গ্রামে কবির জন্ম। ফুল্লেশ্রী বর্তমান বরিশালের গৈলাগ্রামের একটি পল্লী। ফতেহাবাদ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল বর্তমান রাজবাড়ির কিছু অংশ। সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদের রাজত্বকালের মুদ্রা ভাগলপুর, সাতগাঁও বাগেরহাট হতে উৎকীর্ণ হয়েছে এবং তার শাসনামলের শিলালিপি পাওয়া গেছে। ১৪৫৯ সালে তিনি যশোহর, খুলনা পুনরুদ্ধারের জন্য খান জাহান আলী নামে এক সেনাপতিকে পাঠান। তিনি এ অঞ্চল জয় করে খলিফাতাবাদ শহর এবং প্রশাসনিক বিভাগ ইকলিম হিসেবে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। রাজবাড়ি জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের বিশেষত্ব এই যে বর্তমান জেলাটি পুরাতন ফরিদপুর ও যশোর জেলার সংলগ্ন। আবার উত্তরে পাবনার সাথেও এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে রাজবাড়ি জেলার অংশবিশেষ বেশির ভাগ সময় ফরিদপুর ও যশোর জোলার সাথে সংযুক্ত দেখা যায়। ১৭৯৩ সালে জেলাটির কিছু অংশ ঘাট গোয়ালন্দ হিসেবে যশোরের সাথে সংযুক্ত ছিল। কাজেই রাজবাড়ি তৎকালীন সময়ে ফতেহবাদ ও খলিফাতাবাদের সাথে সংযুক্ত থাকাই স্বাভাবিক এবং রাজবাড়ির পূর্বাংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশ খলিফাতাবাদ প্রশাসনিক অঞ্চলের সাথে যুক্ত ছিল।

১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ পর্যন্ত আলাউদ্দিন হুসেন শাহের রাজত্বকাল। Mr. Vincent Smith এর মতে হুসেন শাহ ছিলেন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম শাসক। Professor Blochman বলেন, Hussain shah first obtained power in the district of Faridpur, Fathahabad where his earliest coins were struck. হুসেন শাহের সময় রাজবাড়ি তার অধিকারভুক্ত হয়। রাজবাড়ি জেলার নসিবশাহী পরগনা, নশরতশাহী পরগনা, মাহমুদশাহী পরগনা, ইউসুফশাহী পরগনার নামকরণ হুসেনশাহের ভ্রাতা ইউসুফ শাহ এবং ইউসুফ শাহের সন্তান নশরত শাহ এবং মাহমুদ শাহের নামকরণে এসব পরগনার নামকরণ হয়। উল্লেখ্য পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ি উপজেলা নশরতশাহী, মাহমুদশাহী, নসিবশাহী, ইউসুফশাহী পরগনার নামে প্রাচীন পরিচিতি রয়েছে। এ সময় ফতেহাবাদ ছিল হুসেন শাহের প্রধান শাসন কেন্দ্র যা বর্তমান ফরিদপুর শহর। আইন-ই আকবরী গ্রন্থে দেখা যায় জালালুদ্দিন ফতেহ শাহ লক্ষ্ণৌতির শাসনকর্তা ছিলেন। (১৪৮১-১৪৮৭)। তিনি কতকগুলি সরকারে বিভক্ত করেন। এই সরকারে ফরিদপুরের অংশবিশেষ, ঢাকার অংশবিশেষ, বাকেরগঞ্জ নিয়ে জালালবাদ সরকার এবং ফরিদপুরের পশ্চিম অঞ্চল, যশোর এবঙ কুষ্টিয়অসহ মাহমুদাবাদ সরকার গঠিত হয়। বর্তমান রাজবাড়ি স্বাধীন সুলতানি আমলে ফতেহাবাদ, খলিফাতাবাদ, মাহমুদাবাদ রাজ্য হিসেবে শাসিত। মোগল শাসনকালে আকবর নামায় দেখা যায় ১৫৭৪ ‍খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণপূর্ববাংলা জয় করার জন্য সেনাপতি মোরাদ খানকে পাঠান। সেনাপতি মোরাদ খান ফতেহাবাদ জয় করেন এবং বাকলা ও তার অধিকারভুক্ত হয়। মোরাদ খান এখানেই থেকে যান এবং সাত বৎসর পর মৃত্যুবরণ করেন। আকবর নামায় দেখা যায় ফরিদপুরের উত্থান ইতিহাস খ্যাত। তাদের দমনের জন্য সম্রাট আকবর মানসিংহসহ একের পর এক সেনাপতি পাঠান। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৬-১৬২৭) ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩) বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন তিনি সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। ইসলাম খানের পর ১৭৫৭ পর্যন্ত ২১ জন সুবেদার বাংলা শাসন করেন। শেষের দিকে বাংলার সুবেদারগণ স্বাধীন নবাব হিসেবে বাংলায় রাজত্ব করতেন। খলিফাতাবাদ যশোর খুলনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। যশোরের পরগনাসমূহের মধ্যে মাহমুদশাহী, মহিমশাহী, ইউসুফশাহী, নসিবশাহী, নশরতশাহী পরগণার মধ্যে রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি নসিবশাহী, পাংশা কালুখালির মহিমশাহী নশরতশাহী বিদ্যামান।

Additional information