নব্যজমিদার বংশ

তৃতীয় অধ্যায়

নব্যজমিদার বংশ

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর দেশে ইংরেজ শাসন শুরু হলেও কোম্পানি ১৭৬৫ সালে দেওয়ানী লাভ করার পর থেকে কিছু ‍কিছু জমিদার বংশের উত্থান হতে থাকে। পূর্বে অনেক জমিদারী নিলাম হলে অনেকে তা ক্রয় করে, আবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তালুক ক্রয় করে জমিদারী পত্তন ঘটায়। রাজবাড়ির রাজা সূর্যকুমারের পিতামহ প্রভুরাম, বাণীবহের গীরিজাশংকর মজুমদার (গীরিজাশংকর মজুমদার প্রাচীন প্রসিদ্ধগ্রাম বাণীবহে আলোচিত) পূর্বপুরুষ, নড়াইল জমিদারী স্টেট, পাংশার ভৈরবনাথ রায়, পদমদীর মীর নবাব মোহাম্মদ আলী পূর্বপুরুষ, রতনদিয়ার ইউসুফ হোসেন।  চৌধুরীর পিতামহ, বারবাকপুরের জমিদার বংশ, বালিয়াকান্দির রানী হর্যমুখী, মুকুন্দিয়ার দ্বারকানাথ ঠাকুর, নলিয়ার সুরেন্দ্রনাথ ভট্রাচার্য, ঘিকমলার জমিদার, বহরপুরের জমিদার মহিম সাহা, পাংশার রতন বাবু, পাংশার রুপিয়াট জমিদার পরিবার, তেওতার শ্যামশংকর জয়শংকর

অন্যতম।

রাজা সূর্যকুমারের প্রপিতামহ প্রভুরামের আগমন

প্রভুরাম

গৌরী প্রসাদ

বিশ্বদীগিন্দ্র প্রসাদ (দত্তক পুত্র)

সূর্যকুমার (দত্তক পুত্র)

সৌরিন্দ্র মোহন, (কুমার বাহাদুর দত্তক পুত্র)

সৌমিরেন্দ্র মোহন (বেবী) ও সৌমেন্দ্রনাথ (তদ্বীয় পুত্র)

নবাব আলীবর্দি খাঁর শাসনামলে চীনুরায়, বীরদত্ত, রাজা কিরৎ চাঁদ, উমেদ রায় আলীবর্দীর দেওয়ান ছিলেন। জানকী রাম, রাম নারায়ণ বিহারে নায়েবে নাযিম নিযুক্ত হন। আরো অনেক হিন্দু বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এদের মধ্যে রাজা সূর্যকুমারের পিতামহ প্রভুরাম ছিলেন নবাব আলীবর্দী খাঁর কোনো বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী।ত্রৈলোক্যনাথ ভট্রাচার্য সূর্যকুমারের প্রতিষ্ঠিত (১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে) বর্তমান R.S.K (রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন) দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজা সূর্যকুমারের সমসাময়িক এবং ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তার লেখা আমার স্মৃতি কথা পুস্তকে প্রভুরাম সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘স্বাধীনচেতা প্রভুরাম ছিলেন নবাব আলীবর্দি খাঁর নবাব এস্টেটের পদস্থ কর্মচারী। কর্মচারী থাকাকালে কোনো এক সময়ে এক ইংরেজ সিপাইকে গুলি করে হত্যা করেন। অতঃপর ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর বিপর্যয়ের পর অনেকের মতো তিনিও পলায়ন করেন এবং এ অঞ্চলে এসে রাজবাড়ির লক্ষীকোলে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন। আনন্দনাথ রায় -ফরিদপুরের ইতিহাস ২০৬ পৃষ্ঠায়----‘নবাব আলীবর্দী খাঁর অধীন কোনো কার্য করিয়া, কায়স্থ গুহ বংশীয় প্রভুরাম রায় প্রতুত সম্পত্তি অর্জন করেন।’ লক্ষীকোল এলাকা তখন জঙ্গলাকীর্ণ বিরানভূমি ছিল। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর তিনি ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার শুরু করেন। তিনি লক্ষীকোলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন এবং রাজবাড়ির সূর্যনগর, দিনাজপুর এলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমিদারী ক্রয় করে লক্ষীকোলের জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন। প্রভুরামের পুত্র গৌরী প্রসাদ।

Additional information