নব্যজমিদার বংশ - পৃষ্ঠা নং-৬

শিবমন্দির নির্মাণ করতে অনেক টাকা কড়ি খরচ হয় যা রাজবাড়ির জমিদারী থেকে লওয়া হয়। মৃত্যুর পূর্বে রাজা উইল রেখে যান। উক্ত উইলে রাজার দুই রানী, শ্যালক মতিলাল ঘোষ এবং শ্রী ত্রৈলোক্যনাথকে এস্টেটের একজিকিউটর নিযুক্ত করেছেন। উইলে আরো একটি শর্ত ছিল রাজার জীবনান্তে মতিলাল ও তার স্ত্রী পুত্রগণ (সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ) মাসোহারা পাইবেন। কুমারের (সৌরিন্দ্র) তখন সাবালক হওয়ার এক বছর বাকি ছিল। এরমধ্যে মতিলাল জমিদারী দেখাশোনা করলেও তার মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। ত্রৈলোক্যনাথ তখন ফরিদপুরের ডিএস-জেএ উডহেড (আইসিএস) এবং উকিল অম্বিকাচরণ মজুমদারের সাথে আলাপ করে সৌরেন্দ্র মোহনের হাতে স্টেটের ভার বুঝিয়া দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

এতে ডিএস সম্মত হন। সৌরেন্দ্র মোহনকে স্টেটের ভার বুঝিয়ে দিওয়া হয়। এদিকে অপ্রকৃতস্থ মতিলালকে একরকম জোর করে বরিশালে নেওয়া হয়। সে খুব কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকে। অপ্রকৃতস্থ হলেও মতিলাল রাজবাড়ি এসে উকিলের সাহয্যে উইলের শর্ত ধরে কুমারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ত্রৈলোক্যনাথ মামলা তুলে নেওয়ার ব্যাবস্থা করেন। সৌরিন্দ্র মোহন এস্টেটের মালিক হয়ে জমিদারী পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসমিন চৌধুরী পিএইচডি এর লক্ষে, ‘রাজা সুর্যকুমার ও সমকালীন মুসলমানদের আর্থ সামাজিক অবস্থা’ অভিসন্দর্ভ (থিসিস) রচনায় কর্মরত আছে।

নড়াইল জমিদার ও রাজবাড়ি

যশোর জেলার অন্তর্গত নড়াইলের রায় উপাধিযুক্ত কায়স্থ জমিদারগণ বিশেষ বিখ্যাত। রানী ভবানীর সময়েই এই কালিশংকরের মাধ্যমে এ জমিদারী উদ্ভব ঘটে এবং ধীরে ধীরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। এ বংশের রামরতন বা স্বনামধন্য রতন বাবু সমধিক বিখ্যাত। তাঁর সময়ে বেলগাছি পরগনা তার জমিদারী ভুক্ত হয়। পাংশার ও বালিয়াকান্দির অধিকাংশ অঞ্চল রামরতনের নামে পত্তন দেখা যায়। কালুখালির রতনদিয়া নামটি তার নামে বলে জানা যায়। পাংশা উপজেলার ইতিহাসে দেখা যায় নড়াইলের জমিদার একসময় দাপটের সাথে পাংশাকে শাসন করেছেন। বর্তমানে যেখানে পাংশা গার্লস হাই স্কুল সেখানেই ছিল নড়াইল স্টেটের কাচারী। ১৮০০ শতকের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত জমিদারী টিকে থাকে। এক সময় এই কাছারীর সম্মুখ দিয়ে কোনো লোক জুতা পায়ে কিম্বা সাইকেলে চড়ে যেতে পারত না। এমন কি ফুলবাবুরা পর্যন্ত বা পালকি চড়ে যেত না। সে সময় নীলের চাষ হত। জমিদারগণ নীলকুঠি ক্রয় করে লাভবান হতেন। তিনি পাংশা জালিপাড়া দুর্গাপুর, মৃগী প্রভৃতি অঞ্চলের নীলকুঠি ক্রয় করেন। পরবর্তিতে তার জমিদারী বেলগাছি চৌধুরীদের জমিদারীভুক্ত হয়।

ভৈরবনাথ রায়

১৭৯৯ সালে ভূষণার জমিদারী খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে নিলামে বিক্রি হতে থাকে। ঐ নিলামে ভৈরবনাথ ১৬৯৩৭ টাকায় ধার্যকৃত রাজস্বে ২৫-২-১৭৯৯ সালে নসিবশাহী পরগনা ক্রয় করেন। একই সময়ে তিনি নলদী পরগানাও ক্রয় করেন। এদিকে পাংশায় ভৈরবচন্দ্র মজুমদার নামে এক পরাক্রমশালী জমিদারের বাড়ির স্মৃতিচিহ্নসহ অনেক কাহিনী ও তথ্য জানা যায়। পাংশা উপজেলার ইতিহাস লেখক মুহম্মদ সবুরউদ্দিন তার সম্বন্ধে তথ্যপূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন কিন্তু তার সময়কালটি সঠিকভাবে নির্ণয় করেননি। তিনি লিখেছেন-----‘ভৈরবচন্দ্র মজুমদার পাংশার জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। ধারণা করা যায় ১৭৯০ থেকে ১৮০০শতকের কোনো এক সময়ে তিনি অবস্থা সম্পন্ন ব্রাহ্মণ ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ভৈরব বাবু খুব সুচতুর উচ্চভিলাশী অত্যাচারী জমিদার ছিলেন বলে শোনা যায়। পিয়ারী সেন নামে তার এক শক্তিমান পুরুষ জমিদার বাড়ির লাঠিয়ালবাহিনীর সর্দার ছিলেন। ভৈরব বাবুর বাড়ির পাশেই ছিল মালু ভাগ্রবানের বাস। ভাগ্যবান কিংবদন্তির এক মহানায়ক।

Additional information