জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২

ভূষণা চাকলা কয়েকটি স্থাননাম :

কোষাখালি, হোগলাডাঙ্গী, হাবাসপুর, মদাপুর, গুলিশপুর, বেলগাছি, কালিকাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়ুয়া, গোব্রাখালি, সোনাপুর, বহরপুর, কৃষ্ণপুর, বাণীবহ, রাজধরপুর, বসন্তপুর, রাজাপুর। (আনন্দনাথ রায়, ফরিদপুরের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-৮৬) সীতারামের পরাজয়ের পর মুর্শীদাবাদ নবাবের অধীনে অত্র অঞ্চলটি নলদী বিভাগে ভূষণা চাকলার নশরতশাহী ও কাশিমনগর পরগনা নাটোর রাজ রামজীবনের মালিকানায় রাজস্ব আদায় হতে থাকে। এ সূত্রে অঞ্চলটি রাজা রামকান্ত ও তার স্ত্রী রানী ভবানীর জমিদারীভুক্ত ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদদৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজ শাসনভুক্ত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসে। কিন্তু চতুর ইংরেজরা কৌশলে শাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। তারা রাজ্যের ভূমির কর্তৃত্বভার গ্রহণ করে ১৭৬৫ সালে। এ সময় থেকে শাসন ও রাজস্ব উভয়বিধ কর্তার মালিক হন বৃটিশ।

এ সময় ঢাকায় নায়েবে নাজিম সৈয়দ মোহামম্মদ রেজা খান বেতনভোগী হন এবং ঢাকার শেষ নবাব গাজীউদ্দিন বাহাদুরের জন্য মাসোহারা নির্দিষ্ট হয়। ১৭৬৯ সালে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য কোম্পানির পক্ষে একজন সুপারভাইজার নিযুক্ত করা হয়। ১৭৭২ সালে সুপারভাইজারের পরিবর্তে ‘কালেক্টর’ নামকরণ করা হয়। এ সময় রাজস্ব প্রশাসন এবং বিচার কাজের জন্য ‘হুজুরী’ ও ‘নজামত’ এই দুইভাগে ভাগ করা হয়। হুজুরী মুর্শীদাবাদের দেওয়ানের অধীনে ছিল। ঢাকায় নিযুক্ত একজন প্রতিনিধি দ্বারা দেওয়ানের কাজ করা হত। এই ব্যাক্তির হাতে রাজস্ব এবং তৎসম্পর্কীয় মোকদ্দমার ভার ছিল। নেজামত বিভাগে দেওয়ানী ও ফৌজদারী নিস্পন্ন হত। এই বছর রেজা খাঁর পরিবর্তে দেওয়ানী অফিস কোম্পানি কর্তৃক গৃহীত হয় এবং দেওয়ানী আদালত নামে একটি কোর্ট স্থাপিত হয়। কালেক্টর তার অধীনে কাজ করতে থাকেন। ১৭৭৪ সালে প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিল স্থাপিত হলে তার অধীন কর্মচারী কর্মচারী দ্বারা রাজস্ব আদায় করা হতো। ১৭৮১ সালে কাউন্সিল উঠে যায়। এ বছরই মি. ডে সাহেব ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর নিযুক্ত হন। ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে কালেক্টরগণ ম্যাজিস্টেট পদপ্রাপ্ত হন। ১৭৯৩ সালে জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যভার একজনের উপর ন্যাস্ত করা হয়। ১৭৮১ সাল থেকে শাসন ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক ডেপুটি কালেক্টর নিযুক্ত হতে থাকে। কালেক্টরের জন্য স্থানীয় ভাবে অফিস, আদালত স্থাপন করা হয়। কালেক্টরেটরের এলাকা ১৭৮৬ সাল থেকে ডিস্টিক বা জেলা হিসেবে নামকরণ হতে থাকে। ডিস্ট্রিক্ট এর কার্যভার ডেপুটি কালেক্টরেটরের উপর ন্যাস্ত থাকে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা-জালালপুর, যশোহর, চট্রগাম, নদীয়া, পুর্ণিয়া, বর্ধমান জেলা গঠিত হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য জেলা সৃষ্টির ফলে পূর্ববাংলায় জেলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭টি। এসব জেলাকে আবার মহকুমায় (Sub-division) উপবিভক্ত করে মহকুমা প্রশাসক (Sub-divisional officer--SDO) নিযুক্ত করা হয়। তবে মহকুমা সৃষ্টির পূর্বে ও পরে থানা (Police Station) ও ফাঁড়ি স্থাপন হতে থাকে। ১৭৯০খ্রিস্টাব্দে কালেক্টরগণ ম্যাজিস্ট্রেট পদ লাভ করেন।

অতঃপর ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকালে রাজবাড়ি জেলার তৎকালীন নসিবশাহী (বর্তমান রাজবাড়ি ও গোয়ালন্দ উপজেলার অংশত) নশরতশাহী (পাংশা উপজেলার অংশত) মহিমশাহী (বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলার অংশত), বেলগাছি (পাংশা ও রাজবাড়ি জেলার অংশত) যশোহর কালেক্টরেটর অধীনে নেওয়া হয়। ফরিদপুর যুক্ত হয় ঢাকা জালালপুরের সঙ্গে।

পরগনাসমূহের ভূমি ও ধার্য রাজস্বের পরিমাণ-----

Additional information