জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-১৮

পরিসংখ্যান নির্দেশ করে ১১৫ বর্গমাইলের গোয়ালন্দ থানা বর্তমান রাজবাড়ি থানার এরিয়া নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। গোয়ালন্দ মহকুমা ও থানার প্রশাসনিক কাজ রাজবাড়ি থেকে সম্পাদিত হলেও ইতিমধ্যে গোয়ালন্দ থানার প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা অফিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালে রাজবাড়ি জেলা গঠনকালে গোয়ালন্দবাসী গোয়ালন্দকে জেলা ঘোষণার দাবি রাখে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

গোয়ালন্দ নামে মহকুমা হলেও কোর্ট কাচারী, অফিস আদালত, রেল স্থাপনাসহ রাজবাড়ি বৃহৎ শহর বিধায় রাজবাড়িবাসীর দাবিতে শেষ পর্যন্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে ‘রাজবাড়ি’ নামে জেলা ঘোষণা করা হয়। গোয়ালন্দর সামনে চর জেগে ওঠায় বিগত শতাব্দীর ৭০ দশকের মাঝামাঝি ঘাট দৌলতদিয়া স্থানান্তর করা হয়। দৌলতদিয়া এখন বাংলাদেশের দক্ষিণের দ্বারপথ।

শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর এর রেঙ্গুনের পথ গোয়ালন্দ

 ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সাল ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ বলে পরিচিত হলেও প্রকৃত পক্ষে এ বিদ্রোহ ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। ভারতবর্ষের তখন ইংরেজ শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু মোগল সাম্রাজ্যের বংশধর বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজদের মাসহারা প্রাপ্ত হলেও ভারতবাসীর নিকট সমান মর্যাদায় সম্রাটের আসনে অধিষ্ঠিত। ১৭৭৫ সালে জন্ম নেওয়া বাহাদুর শাহ আজীবন ইংরেজদের ঘৃণা করে এসেছেন, ভালোবেসেছেন মাতৃভূমিকে এবং স্বাধীনতাকামী ভারতবাসীকে নানাভাবে সাহায্য করছেন। ১৮৫৮ সালে সিপাহী বিদ্রোহকালে সিপাহীরা সম্রাট শাহের অধীনে নিয়োজিত বলে ঘোষণা করে। বিদ্রোহ বিফলতায় পর্যবশিত হলে ১৮৫৭ সালে ২০ সেপ্টেম্বর ইংরেজ সেনা হডসন সম্রাটকে পূর্বপুরুষ হুমায়ুনের স্মৃতিসৌধ থেকে ধরে আনে। তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। প্রহসন বিচারে লর্ড ক্যানিং তাঁকে সপরিবারে রেঙ্গুনে নির্বাসনের আদেশ দেন।

১৮৫৮ সালে ৭ অক্টোবর ইউরোপীয়ান হর্স আর্টিলারী পুলিশ ব্যাটিলিয়ান নবম ল্যান্সারবাহিনী সম্রাট ও তাঁর পরিবারকে ঘেরাও করে টানাগাড়িতে যাত্রা করে। ৩৭ দিনে ৬০০ মাইল পাড়ি দিয়ে এলাহাবাদ পৌছে। এরপর বাংলার নদনদী পেরিয়ে রেঙ্গুনের শেষ যাত্রাস্থল গোয়ালন্দ এসে উপস্থিত হন। তৎকালীন ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আমির উদ্দিন সাহেব রামপুর বোয়ালিয়া (বর্তমান রাজশাহী) থেকে গোয়ালন্দ নিয়ে আসেন। গোয়ালন্দে সপ্তাহখানেক অবস্থান করে পদ্মা, যমুনার পথে রেঙ্গুনে শেষ যাত্রা করেন। রেঙ্গুনে তার শেষজীবন নানা দুঃখ কষ্টে কাটে। ১৮৬২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করে। অযত্ন; অবহেলায় সাধারণভাবে তাঁকে কবরস্থ করা হয়। দাফনের সময় তাকে কোনো উপাধি বা পদবী ঘোষণা করা হয়নি। রেঙ্গুনে স্মৃতিসৌধ কেবল উৎকীর্ণ হয়ে আছে------

কিতনে বদ নসিব জাফর-----

দাফন কে লিয়ে

দো-গজ জমিন না মিলে

The last Mughal--- Willium--DALYMPLE

Additional information