জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-৩

জমিদারী

পরগনা               ভূমির পরিমান          রাজস্বের পরিমাণ

মহিমশাহী            ৩৫৮৮৯ একর         ১৩৪৬৯ টাকা

নশরতশাহী           ৩৫০৮৭ একর          ৮০৭৮ টাকা

নসিবশাহী            ৪৩০৩৯ একর           ১৫৮২১ টাকা

বেলগাছি              ১৯৮৩২ একর          ৭৫৭১ টাকা

খারিজা তালুক

পরগনা                ভূমির পরিমাণ             রাজস্বের পরিমাণ

মহিমশাহী             ১১৫৪২ একর              ৩০৬৫ টাকা

নশরতশাহী            ৪৭৭৫ একর               ১১৯৩ টাকা

নসিবশাহী             ২০৩০০ একর             ৬৯০০ টাকা

বেলগাছি               ১১৮১ একর               ৩৫৭ টাকা

(সূত্র : বাংলাদেশ ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার ফরিদপুর নুরুল ইসলাম খান সিএসপি-১৯৭৭, পৃষ্ঠা-২৭০)

নলদীর জমিদারী যশোর কালেক্টর কর্তৃক নিলামে বিক্রি করা হয়। এ সময় ভৈরবনাথ রায় নসিবশাহী ও নলদীর জমিদারী যথাক্রমে ১৬৯৩৭ ও ৩৬৭৬০ টাকার রাজস্ব মূল্যে ক্রয় করেন (ফরিদপুরের ইতিহাস, আনন্দনাথ রায়, পৃষ্ঠা-১১১)।

ফরিদপুর জেলা স্থাপিত হওয়ার পূর্বে ফরিদপুর ছিল ঢাকা জালালপুরের অধীন। ১৮১১ ঢাকা জালালপুরের ম্যাজিস্ট্রেট অফিস ঢাকা থেকে ফরিদপুরে স্থাপিত হয়। এ সূ্ত্রে ১৮১১ সাল ফরিদপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত যুক্তিযুক্ত বলে অনেকেই মনে করেন। ঐ সালেই চন্দনা নদীর পূর্বতীরবর্তী স্থান যশোর হতে খারিজ হয়ে ঢাকা জালালপুরের সাথে যুক্ত হয়। চন্দনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী স্থান বলতে বর্তমান গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ি উপজেলার সমগ্র এবং বালিয়াকান্দি ও পাংশা থানার অংশ বোঝায়। চন্দনা নদীর পশ্চিমাংশ অর্থাৎ বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলার অংশ বিশেষ নদীয়া জেলার সাথে সংযুক্ত হয়। ১৮৭০ সাল পর্যন্ত রেভিনিউ ও ম্যাজিসট্রীয়ালের আওতায় পার্থক্য ছিল না। তবে এ সময় রাজবাড়ি জেলার চন্দনা নদীর পূর্বাংশে ফরিদপুর ম্যাজিস্ট্রীয়ালের অন্তর্ভুক্ত হয়। চন্দনা নদীর পশ্চিমাংশ বিশেষ বর্তমান পাংশা উপজেলা পাবনা ম্যাজিস্ট্রীয়াল ও রেভিনিউ জুড়িডিকশনের অধীন থাকে। গোয়ালন্দ নদী ভাঙ্গনে চর জেগে উঠলে দিয়ারা জরীপের মাধ্যমে পদ্মা সংলগ্ন এলাকা পাবনা এবং জেলার দক্ষিণের গড়াই সংলগ্ন এলাকা যশোহরের রাজস্বভুক্ত করা হয়। ১৯০৪ ও ১৯১৪ সালে আরো একটি জরীপ হয়। ১৯২৮, ১৯৩৮, ১৯৪০ সালে প্রজাদের স্বত্ব আরোপে ভূমি জরীপ অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে ১৮৮০ সালে  জরীপ অনুষ্ঠিত হয় যা CS রেকর্ড বলে পরিচিত। ইংরেজ শাসনের পর ১৯৫০ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্টেট এ্যাকুইজিশন এ্যাক্ট পাশ হয় যা ‘১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন’ বলে পরিচিত। এ আইনের বলে জমিদারী প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়। রায়ত বা প্রজার স্বত্ব কার্যকর হয়। ১৯৬২ সালে ভূমি জরীপ রেন্ট রোল বা RS বলে পরিচিত ভূমি জরীপ।

Additional information