জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২২

জয়শঙ্কর মজুমদার মুর্শিদাবাদের প্রভিন্সিয়াল কোর্টের মিরমুন্সি ছিলেন। এ সকল পদে থেকে মুজমদারগণ বিপুল সম্পত্তির মালিক হন এবং বানীবহের জমিদার বলে খ্যাতি অর্জন করেন। জয়শঙ্করের পুত্র গিরিজাশঙ্কর মজুমদার জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য রাজবাড়িতে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে আছেন। তিনি কলিকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত উকিল ছিলেন। তিনি ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে রাজবাড়িতে একটি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিদ্যালয়টি বর্তমানে রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। সাধারণ্যে জেলা স্কুল বলে পরিচিত। বিদ্যালয়টি তিনি স্ব-নামে প্রতিষ্ঠিত করেননি যা তার উদার মনের প্রকাশ বিবেচিত হয়। বিদ্যালয়টির পূর্ব নাম ছিল, গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল। মজুমদার জমিদারদের সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির সম্পত্তি তারা দান করেন। ১৮৯০ সালে বিদ্যালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যায়ে সুরম্য দালান তৈরি করেন।

বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য ছাত্রনিবাস নির্মিত হয়। বহুকক্ষ বিশিষ্ট দালানটি এখন ভগ্ন এবং ঐতিহ্য হিসেবে সাক্ষ্য বহন করছে। ছাত্র নিবাসটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষকের কোয়ার্টার। উল্লেখ্য বালিকা বিদ্যালয়টিও বাণীবহের মজুমদার পরিবারের দানের সম্পত্তিতে গড়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত বাণীবহের নাওয়াড়া চৌধুরী ও মজুমদার বংশের পরিচয় পাওয়া গেল।

এ গ্রামের মুন্সি পরিবারও এক সময় প্রসিদ্ধ ছিল। তারাও মাধব বংশীয়। মুন্সি বংশের রাধাকান্ত মজুমদার লর্ড কর্নওয়ালিশের সময়ে একাউন্টেন্ট জেনারেল পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাণীবহ গ্রামে একটি প্রকাণ্ড অট্রালিকা নির্মাণ করেন। কয়েকবছর পূর্বেও ধবংসস্তুপের চিহ্ন ছিল। এ গ্রামে বারেশ্বর সেন সুদক্ষ লেখক ছিলেন। এ বংশের গোবিন্দ প্রসাদ সেন মুন্সি সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে তৎকালীন হায়দ্রাবাদের বেনিডেন্ট স্যার রিচার্ড টেম্পল ও নাগপুরের চীফ কমিশানর প্লাটডোনের অধীনে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন। তার পুত্র কবিরাজ প্রভাতচন্দ্র সেন কবিরঞ্জন কলিকাতায় চিকিৎসা কার্যে বিখ্যাত ছিলেন।

রাজবাড়ি জেলার সংস্কৃতি বিকাশের পাদপীঠ বাণীবহ স্মৃতির অতলে ডুবে যায়নি। সে বিরাণ ও পরিত্যক্ত ভূমিতে আবার কোলাহলে ভরে উঠেছে। এসেছে নতুন মানুষ, নবসংস্কার, আধুনিক দালান, নতুন হাটবাজার, বিদ্যালয়, পণ্য, পোশাক। ইতিহাসের পাতা এমনিভাবে বদলায়, বদলে যায়। বাণীবহ বর্তমানে একটি ইউনিয়ন।

প্রসিদ্ধ গ্রাম কোড়কদি

কোড়কদি তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমার অন্তর্গত বালিয়াকান্দি থানার মেঘচামী ইউনিয়নের একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম। সম্প্রতি মেঘচামী ইউনিয়নটি ফরিদপুরের মধুখালি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজবাড়ি জেলার তৎকালীন পাংশা ও বালিয়াকান্দি নির্বাচনী এলাকায় মেঘচামী অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই স্থানটি বালিয়াকান্দি থানার অন্তর্গত ঠাকুর রামচন্দ্র ভট্রাচার্য মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত সাইকুল গ্রাম হইতে আসিয়া এই গ্রামে গৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। ভট্রাচার্য সিদ্ধ পুরুষ বলিয়া খ্যাত থাকায় প্রসিদ্ধ সংগ্রাম সাহ তাহার শিষ্যত্ব স্বীকার করেন এবং গুরুদেবকে কোড়কদি ও আরো অনেক স্থান ব্রহ্মোত্তর জমি প্রদান করেন। এই বংশে বহু পণ্ডিত জন্মগ্রহণ করিয়া গিয়াছেন। পূর্ববঙ্গের প্রধান নৈয়ায়িক পণ্ডিত রামধন তর্কপঞ্চাণন এই বংশের লোক ছিলেন। ভট্রাচার্যদের স্থাপিত কুলীন, সান্যাল, ভাদুড়ী লাহিড়ী মধ্যে মধুসুদন সান্যাল বিখ্যাত ছিলেন।

Additional information