জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২৩

নীলকুঠির আয়ের দ্বারা এই সান্যাল মহাশয় কয়েকটি পরগনার মালিক হন (আনন্দনাথ রায়, ফরিদপুরের ইতিহাস, দ্বিতীয় খণ্ড, নগর ও গ্রামের বিবরণ অধ্যায়)।

`Korakdi is a Village in goalunda subdivision under Baliakandi thana and Meghchanmi Union. It had an area of 1147.09 and a population 1,777 according to censun 1961' (Faridpur District gazetteer-page-338).  প্রায় ৩০০ শত বছর পূর্বে জনবসতিহীন দ্বীপ হিসেবে এর পরিচিতি ছিল ‘কনকদ্বীপ’ যা থেকে কোড়কাদি। জানা যায় মোগল শাসনকালে একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ কনকদ্বীপে এসে বসতি স্থাপন করেন। গোয়ালন্দ মহকুমার তৃতীয় আরবি হাই স্কুল (প্রথম রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন ১৮৮৮, দ্বিতীয় গোয়ালন্দ  মডেল হাই ১৮৯২) ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময় দালান প্রসাদের ভগ্নাংবশেষ প্রমাণ করে অল্প সময়ের মধ্যে কোড়কদি বাংলায় অন্যতম সমৃদ্ধ গ্রামে পরিণত হয় এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এ গ্রামের রায় বাহাদুর রাধিকামোহন লাহিড়ী আসাম বেঙ্গলের প্রথম পোস্ট জেনারেল। তিনি এবং বিনোদবিহারী লাহিড়ী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। রাধা তারকা পঞ্চানন ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত। তাঁর নামে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি থিয়েটার হল। কোড়কদির ফুটবল মাঠে এক সময় কলিকাতা থেকে নামী ফুটবল খেলোয়াড়দের আগমন ঘটত। কোড়কদির শিবদাস এবং বিজয় দাস ছিলেন প্রখ্যাত ফুটবলার। শিবদাস এবং বিজয়দাস কলিকাতায় মোহনবাগান ফুটবল টিমের কিংবদন্তি ফুটবল তারকা। কোড়কদি একসময় রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ‘স্বদেশী’, অনুশীলন, কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্ব দান কোড়কদির সত্যমিত্র, শ্যামেন ভট্রাচার্য।

ইতিহাসখ্যাত তেভাগা আন্দোলনের নেতা অবনি লাহিড়ী এই গ্রামের বিদগ্ধ পুরুষ। বাংলাদেশ ও পশ্চিম-বাংলার ফরাসী ভাষাবিষয়ক পণ্ডিতদের অন্যতম অবন্তীকুমার সান্যালের জন্ম এই গ্রামে। সঙ্গীত ও নৃত্য বিষয়ক সংস্থা বাফা’র প্রতিষ্ঠা লগ্নে কিংবদন্তি নাম বুলবুল চৌধুরীর অন্যতম সহযোগী অজিত সান্যাল কোড়কদির মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আলোড়ন সৃষ্টিকারী আকাশবাণী দিল্লীর সেই সংবাদ পাঠিকা নীলিমা সান্যাল কোড়কদিতে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কোড়কদির নিকটবর্তী মেঘচামীর মানুষ কল্লেল যুগের খ্যাতনাম সাহিত্যিক জগদীশ গুপ্ত। নরকোনায় জন্মগ্রহণ করেন উত্তোরাধিুনিক সাহিত্যসেবী রবিশংকর মৈত্রী। গ্রামসমূহের ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রাচীন প্রসিদ্ধ গ্রামসমূহের মধ্যে তৎকালীন বাংলায় কোড়কদি ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি চর্চার সূতিকাগার। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের ধারক এ গ্রাম কৃষি জীবন বিকাশে যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি সামন্ত অর্থনীতির লালসা অতিক্রামণে নিজেরাই বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহ্য এবং লোকসংস্কার কখনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে। হঠাৎ সেখান থেকে সরে আসলে সমাজ ও পরিবার বিপন্ন হতে পারে। এ যুক্তিতেই এ গ্রামের রামধন ভাদুড়ী হারিয়ে দিয়েছিলেন বিধবা বিবাহ প্রচলনে জনমত সৃষ্টিতে কলকাতা থেকে আসা গুণীজনসহ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে। সাধারণ্যে তাঁর নাম ছড়িয়ে যায়। রামধন ভাদুড়ী হয়ে যান রামধন তর্কপঞ্চাণন। কালে সে নাম ছড়িয়ে যায় দূর বহুদূরে। সে সাক্ষ্য বহন করছে কোড়কদির রামধন তর্কপঞ্চানন লাইব্রেরি। তাঁর বিচারমূলক গ্রন্থ ‘বিধবাবেদন নিষেধ’ ১২৭৪ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। এ গ্রামের বঙ্কিমচন্দ্র লাহিড়ী অতীত ধ্যান ধারণায় সংযুক্ত করেন চলমান জীবনের উপাদান। পৌরাণিক মহাভারতকে আশ্রয় করে রচনা করেন------মহাভারত মঞ্চুরী।

Additional information