জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২৪

গ্রন্থটি ১৯২৪ প্রথম ও এর তের বছর পর দ্বিতীয় প্রকাশ বের হয়। এটি ভারতীয় ইতিহাসে অনবদ্য কাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। রচনার উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, ‘মূল মহাভারত হইতে উপাদান সংগ্রহ করিয়া বর্তমান সময়ের উপযোগী করিয়া এই গ্রন্থ লিখিয়াছি। যাহা দেশহীত গঠনের প্রতিকূল  তাহা ত্যাগ করিয়াছি যাহা মহাভারতে সুন্দর ও শিখিবার আছে তাহা চয়ন করিয়াছি। মহাভারতের নানা স্থান হইতে তুলিয়া আনিয়া সাজাইয়াছি।’ মহাভারত মঞ্জুরী’র পূর্বে তিনি বীর ফেবারী নেপোলিন বোনাপার্ট (১৮৯৮) এবং সম্রাট আকবর রচনা করেন। তার গ্রন্থসমূহ গুজরাট ও হিন্দি ভাষাতে অনূদিত হয়। ‘মহাভারত মঞ্জুরী’র দ্বিতীয় সংস্ককরণে লেখক আত্মকথন শিরোনামে নিবন্ধ লেখেন যা থেকে এ অঞ্চলের অতীত নিদর্শন পাওয়া যায়। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোড়কদিতে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে বাড়ির পাঠশালায় ইংরেজি স্কুলে, ঝিনেদা ইংরেজি স্কুল, রাজশাহী কলেজে লেখাপড়া করেন। তিনি BA ও BL ডিগ্রিধারী ছিলেন।

সাহিত্য জগতের খ্যাতিমান পুরুষ অবন্তীকুমার সান্যাল ১৯২৩ সালে ১ সেপ্টেম্বর কোড়কদিতে জন্মগ্রহণ করেন। ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, চট্রগ্রাম কলেজ থেকে আইন পাস করে কলিকাতায় স্কটিশচার্চ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪১ সালে বাংলায় (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম হন। অতপর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। কলেজে অধ্যাপনায় কর্মজীবন শুরু। পরে অধ্যাক্ষ এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক অবন্তীকুমার বাংলা ভাষার উচ্চমানের গবেষক, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। ফরাসি সাহিত্যিক রঁম্যা রোলার ওপরে বাংলাভাষায় গভীর গবেষণা সম্ভবত তিনিই করেছেন। তিনি রঁম্যা রোলার ‘ভারতবর্ষ’, ‘মস্কোর দিনলিপি’ও অনুবাদ করেন। এছাড়া তিনি কৃষান চন্দের অন্নদাতা, হাওয়ার্ড ফাস্টের ‘শেষ সীমান্ত’ মিখাইল মলোকভের ‘ধীর প্রবাহিনী ডন’ এর অনুবাদ করেন।

এছাড়া মাও সেতুং এর ‘শরতের রেশমগুটি’, ‘ভিয়েতনামের স্পন্দন’, হোচিমিনের ‘ ‘জেলখানার কড়চা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ। প্রাবন্ধিক হিসেবেও তিনি যষস্বী। রবীন্দ্রনাথের গদ্যরীতি (১৯৭০), প্রাচীন নাট্য প্রসঙ্গ (১৯৭২), বাংলা নাটকের প্রথম পর্ব (১৯৮৬), ফরাসি বিপ্লব (১৯৮৯), ভারতীয় কাব্যতত্ত্ব (১৯৯৫), জবির অভিনয় ১৯৯৬, বাংলার আদি মধ্যযুগ (১৯৯৯) তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ। এছাড়া তিনি চৈতন্যদেব নিয়ে চৈতন্যচরিতামৃত, চৈতন্য ভাগবত সম্পাদনা করেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় খ্রিস্টপূর্ব ষোড়শ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষায় রচিত হাজার বছরের কবিতা সঙ্কলন। সাধকপ্রবর এ গবেষক ২০০৭ সালে পরলোকগমন করেন।

এ গ্রামের আরেক কীর্তিমান লেখিকা সুলেখা সান্যাল। রাজবাড়ির ভররামাদিয়ার রাস সুন্দরী দেবী বাংলা সাহিত্যে প্রথম আত্মজীবনীকার। আর তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমার কোড়কদির সুলেখা স্যানালের কোনো নারীর বেড়ে ওঠার প্রথম আত্মজৈবনীক উপন্যাস গ্রন্থ। Women's Writing in India 600 BC to the present'  সুলেখা সান্যালের আংশিক অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নারী সাহিত্যিকদের ক্ষুদ্রতম তালিকায় সুলেখা সান্যাল বর্তমান একটি উজ্জ্বল নাম। পূর্ণ উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ The seedling's tale প্রকাশিত হয় ২০০১ সালের (কোড়কদি সমাবেশ, পৃষ্ঠা-২৬)।

কোড়কদির কীর্তিমান মানুষ অজিত সান্যাল। জীবনের নানা সংঘাত উপেক্ষা করে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতি বিকাশে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। বাবা অপূর্ব দাস সান্যাল ছিলেন কোড়কদি রাসবিহারী ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

Additional information