জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২৬

কোড়কদি গ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য স্মরণে বাংলাদেশ লিটারারি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি) জিগাতলা, ঢাকা এর নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার দাস এর উদ্যোগে ৩০ জানুয়ারি ২০১০, কোড়কদি রাসবিহারী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে ‘কোড়কদি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমানুষ ও অত্র অঞ্চলের সুধীমহলের অংশগ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতায় সমাবেশটি সফলভাবে পালিত হয়। ঐতিহ্য ধারণে এ এক অনুপম দৃষ্টান্ত। প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ এর মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুর রহমান। বিশেষ অতিথিবৃন্দ ছিলেন ড. মনিরুজ্জামান, ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, আবু সহিদ খান, ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর  হোসেন, ড. তপন বাগচী, রবিশংকর মৈত্রী, জান্নাত-এ-ফেরদৌসী, এসএম মোস্তফা কামাল, আবু সাঈদ মিয়া, সুরাইয়া সালাম প্রমুখ। সমাবেশকে লক্ষ্য করে প্রকাশিত ‘কোড়কদি সমাবেশ’ স্যুভেনীর কোড়কদি তথা অত্র অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্যের দলিল।

মূলঘর ও পালঙ্ক কাহিনী

‘শখের পালঙ্ক’ শিরোনামে দৈনিক পত্রিকার পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পালঙ্কটি অনেক বছর পূর্বে জাতীয় জাদুঘরকর্তৃক রাজবাড়ি জেলা থেকে সংগৃহীত হয়। বর্ণনানুসারে কাঠ, লোহা, কাচ ও কাপড় দিয়ে তৈরি গোটা খাটটি চারটি বাঘের থাবার উপর দাঁড়িয়ে আছে। থাবার উপরিভাগে টুলের অনুরুপ প্রায় বৃত্তাকার পাটাতনের উপর একটি হস্তি শাবক। তার পিঠের উপর একটি সিংহ শাবক আক্রমণোদ্যত ভঙ্গিতে দুই পা দিয়ে হস্তির শূঁর আঁকড়ে ধরে আছে। সিংহ শাবকটিকে আবার ঠোকরাচ্ছে একটি উড়ন্ত গরুড় পাখি। জোড়াবিহীন কাঠের বাঘের থাবার উপর পর পর তিনটি জীব জানোয়ারের ফিগার অনুপম সৌন্দর্য দান করেছে। গোটা পালঙ্কটি চারপায়াসদৃশ্য চার খুঁটির উপর ন্যাস্ত। বিশাল পাটাতন, পাটাতনটির বেদ আনুমানিক দেড়ফুট। ভেলভেট কাপড়ে আচ্ছাদিত নরম বিছানা। চার পায়ার উপর নৃত্যরত ভঙিমায় দাঁড়ানো কম বয়সী চার নগ্ন রমণী। নগ্নিকা রমণীর ডানহাত স্পর্শ করে আছে মশারীর স্ট্যন্ড। শয্যায় উঠার জন্য তিন ধাপ বিশিষ্ট আলাদা ছোট সিঁড়ি। বিছানার প্রবেশপথে অতন্ত্র প্রহরীর মতো বসে আছে দুটি সিংহ। পাটাতনের কাঠামোতে লোকজ চিত্রকর্ম, ফুল লতাপাতার অলঙ্করণ। হস্তিশাবকের কাছেই দু’জন তরুণী।

পালঙ্কটির শিরোভাগে প্রসাধনী সামগ্রী রাখার জন্য আছে একটি কাঠের বাক্স। এ খাটের মালিক কোনো সুরুচিবোধের জমিদার সে খোঁজ করতে করতে পাওয়া গেল মূলঘর জমিদার বংশের ইতিহাস। খাটটির মালিক ছিলেন মূলঘরের কোনো এক ভূমিপতি। নবাব, মোগল ও ইংরেজ শাসনকালে বঙ্গে আচার্য, বৈদ্য, কাশ্যপ, মজুমদার, রায়, রায়বাহাদুর, মুন্সি, রায়চৌধুরী, সেন ইত্যাদি জমিদার বংশের বিকাশ ঘটে। এরা বিত্তে, শিক্ষায়, শাস্ত্রে উচ্চবংশীয় হিন্দু। তাদের মধ্যে সুরুযপারী গ্রহবিপ্রগণ বেদ-বেদান্ত, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চাকারী শাস্ত্রীয় সুপণ্ডিত। ভক্তি, শোধন, সাধনে সদা সর্বদা নিয়োজিত। তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহাকুমার (রাজবাড়ি জেলা) মূলঘর, দ্বাদশী, পাঁচথুপী, খালকুলায় তাদের বসতি গড়ে ওঠে।

প্রায় চারশত বছর পূর্বে কাশ্যপ গোত্রীয় মধুসূদন উপাধ্যায় নামক এক জ্যোর্তিবিদ পণ্ডিত এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পঞ্চকোটের রাজার সভাপণ্ডিত ছিলেন। সপ্তদশ শতকের প্রারম্ভে চন্দ্রনাথ তীর্থ দর্শন শেষে পঞ্চকোটে প্রত্যাগমণকালে ভূষণার মুকুন্দরাম রায়ের সভায় উপস্থিত হন। সঙ্গে ছিলেন পুত্র বিশ্বরুপ।

Additional information