জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২৭

মধুসূদনের মতই যুবক পুত্র সুপণ্ডিত ছিলেন।  জ্যোতিষশাস্ত্রে তাদের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। মুকুন্দরাম তাঁকে সভায় থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। মধুসূদন তাতে রাজী হন না তবে পুত্র বিশ্বরুপকে প্রেরণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। মধুসূদন পঞ্চকোর্ট ফিরে পুত্রকে স্বীয় আরাধ্য বাসুদেবসহ ভূষণায় প্রেরণ করেন। মুকুন্দরাম চন্দনা নদীর তীরে পাঁচশত বিঘা ব্রহ্মত্রা ভূমিসহ বিশ্বরুপকে বাসস্থান প্রদান করেন। বাসুদেব বিগ্রহের নামানুসারে স্থানটির নাম হয় বাসুদেবপুর। এ স্থানটি এখন ব্যাসপুর নামে খ্যাত। বিশ্বরুপের অধস্তন একাদশ পুরুষ মহাদেব আচার্য। তিনি মহাদেব ঠাকুর নামে বিখ্যাত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সাধক। অতঃপর ব্যাবপুরের কিছু অংশ চন্দনাগর্ভে বিলীন হলে তিনি বর্তমান মূলঘর গ্রামে কিছুদিনের জন্য বসতি স্থাপন করেন। পরে মহাদেব আচার্য সীতারাম কর্তৃক শিবত্রা ও ব্রহ্মত্রা পাঁচশত বিঘাপ্রাপ্ত জমি দান সূত্রে পাওয়ায় এবং সীতারামের অনুরোধে চন্দনা নদীর তীরে বাগাট গ্রামে বসবাস করেন। তবে মূলঘরের সরুজপারী গ্রহবিপ্রকূলের রামকান্ত আচার্যের পূর্ব পুরুষেরা মূলঘরে থেকে যায়। এই রাজকান্ত আচার্যের পূর্ববংশীয় সুরুজপারীসকল, ষ্ফটিক পাথরের একটি সূর্যমূর্তি ও দামোদর নামক এক নারায়ণমূর্তির সেবা করতেন। সূর্যমূর্তিটি ছিল গোলাকার। প্রতিদিন পূজার পূর্বে চন্দন দিয়ে ধৌত করার পর অপূর্ব রশ্মি নির্গত হত। কোনো যুগে বা কোথা থেকে এমন উজ্জ্বল ষ্ফটিক পাথরের মূর্তি আনা হয়েছিল তা জানা যায় না। অন্য আর একটি মূর্তি দামোদরমূর্তি। দামোদর প্রকাণ্ড নারায়ণমূর্তি। এই মূর্তিটি ছিল বেশ ভারি। বিগ্রহ দুটির জন্য তৎকালীন রাজারা প্রচুর সম্পত্তি দেবত্রা ও ব্রহ্মত্রা হিসেবে দান করেন। রাজা সীতারামের রাজ্যের অধীন এ অঞ্চলটি সীতারামের মৃত্যুর পর নাটোর রাজ রামজীবন এর জমিদারীপ্রাপ্ত হন। তিনিও ২৫ বিঘা দেবত্র সম্পত্তি তাম্রপাত্রে লিখে রামকান্ত আচার্যকে দান করেন। রামকান্তের বংশের অধস্তন পুরুষ পুত্রহীন হওয়ায় দ্বাদশীর ভরদ্বাজ গোষ্ঠীর হরিপ্রসাদ ঐ বংশের একমাত্র কন্যাকে বিবাহ করে মূলঘরবাসী হন। তাঁর বংশধরেরা উক্ত বিপুল পরিমাণ ব্রহ্মত্র, দেবত্র সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছিলেন। তখন ফরিদপুর জেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। ঐ সকল জমি যশোর জেলার অধীন ছিল। কিছু জমি বেদখল হয়। ঐ বংশের গোলকচন্দ্র সে সব জমি উদ্ধার করেন।

প্রাচীন এই গ্রামের প্রাচীন নির্দশন হিসেবে বড় বড় দিঘিকা (দিঘি) দেখা যায়। আচার্য মহাশয়দের বিস্তৃত ভূমি ছিল অরণ্যকার। নিবিড় অরণ্যসম স্থানে বৃক্ষরাজি, গভীর জলাশয়, দামদল ফসলের মাঠ এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যভূমি। এ সব জলাশয়ে কুম্ভীর ও বনে ব্যাঘ্র বাস করত। আম, কাঁঠাল, শুপারি, ফলবান বৃক্ষের আস্বাদনের ছায়ায় শিল্প চর্চায় নিবৃত্ত কোনো সুরুচিবান আচার্য প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাঘ্র, হাতি এবং নান জীব জানোয়ারের প্রতিক নিয়ে ঐ অনুপম সৌন্দর্যের কাট নির্মাণ করেন। ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহে খানখানাপুরের জমিদার মাখন বাবু খাটটির মালিক হন। এরপর মাখন বাবুর নিকট থেকে খাটটি আসে গোয়ালন্দ নিবাসী মোস্তফা সাহেবের ঘরে। মোস্তফা সাহেবের নিকট থেকে ঢাকা জাদুঘর খাটটি অধিগ্রহণ করে।

রতনদিয়া গ্রাম

কালুখালি রেলস্টেশন সন্নিকট রতনদিয়া গ্রাম। ১৮৭১ সালে রেল স্থাপন কালে স্টেশনটি বর্তমান অবস্থান থেকে ৪ কিমি উত্তরে ছিল। ১৯২১ সালে ভাটিয়াপাড়া রেল স্থাপন কালে নদী ভাঙ্গনের কারণে বর্তমান স্টেশনটি পুনঃস্থাপিত হয় এবং জংশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। রতনদিয়াই এক অর্থে কালুখালি জংশন। এ গ্রামের উত্তর ভাগে রেললাইন, দক্ষিণে চন্দনা নদী, পূর্বদিকে কাশিনাথপুর গ্রাম।

Additional information