জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-২৯

তিনি কার্টুনিস্ট হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩২ সালে পরিমল গোস্বামী শনিবারের চিঠির সম্পাদক নিযুক্ত হন। রবীন্দ্রনাথ মৈত্র (বি এ) ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক। আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘দধিকর্দম’ ফিচার লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি দিবাকর বার্মা ছদ্মনামে শনিবারের চিঠিতেও নিয়মিত লিখতেন। তার লেখা ‘মানময়ী গালর্স স্কুল’ তৎকালীন সময়ে সাড়া জাগানো উপন্যাস। এ গ্রন্থটি লেখার পর তার নাম ছড়িয়ে পরে। মানময়ী গালর্স স্কুল সে সময়ে ছোট বড় সকল অনুষ্ঠানে অভিনীত হত। গ্রন্থটি চলচ্চিত্রে রুপায়ণ হয়। উত্তম কুমার অভিনয় করেন। ‘মানময়ী গালর্স স্কুল’ যে কত নাট্যগোষ্ঠী দ্বারা কতবার কতস্থানে অভিনীত হয়েছিল তার ইয়ত্তা নেই। সকলের মুখে মুখে ছিল, মানময়ী গালর্স স্কুল। এ ছাড়া তিনি ‘থার্ড ক্লাস’ ‘উদাসীন মাঠে’ ‘দিবাকরী’  ‘বাস্তরিকা’ ‘ত্রিলোচন কবিরাজ’ গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৩২ সালে তিনি অকাল মৃত্যুবরণ করেন। আনন্দবাজার পত্রিকায় তার প্রতিকৃতিসহ সংক্ষিপ্ত জীবনী বের হয়। পরিমল গোস্বামী সম্পাদিত শনিবারের চিঠি (১৩৩৯) রবীন্দ্রমৈত্র সংখ্যারুপে প্রকাশিত হয়। শ্রীমান ননীগোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র এবং উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ১৯১২ সালে প্রাথমিক পরীক্ষায় ৫ টাকা, ম্যাটিকুলেশন পরীক্ষায় (প্রথম বিভাগ) ১৫টাকা, আইএসসি পরীক্ষায় (প্রথম বিভাগ) ২০ টাকা, বৃত্তিপ্রাপ্ত হন।

গণিতশাস্ত্রে বিএসসি অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। এমএসসি অধ্যায়নকালে Astronomical observatory student  হিসেবে প্রতিমাসে ২০ টাকা সাহায্যপ্রাপ্ত হন। ১৯২৬ সালে সাব-ডিপুটি কালেক্টর নিযুক্ত হন। রতনদিয়ায় হাসপাতল স্থাপনকালে তিনি ৫০০ টাকা দেন।

ডা. অতুলকৃষ্ণ চক্রবর্তী (এলএমএফ) ছিলেন  রতনদিয়ার নিবেদিত চিকিৎসক। তিনি মিটফোর্ড থেকে পাস করে রতনদিয়া প্র্যাকটিস শুরু করেন। তিনি ছিলেন সুচিকিৎসক, সু-অভিনেতা ও সমাজসেবী। তখন ১৫ মাইলের মধ্যে কোনো পাস করা ডাক্তার ছিল না। তিনি এ পেশায় প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। সে অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করতেন। এরপর আর একজন ডাক্তার আসেন। তার নাম মনীন্দ্রনাথ সান্যাল। তিনি একেবারেই অর্থলোভী ছিলেন না। যে যা দিতেন তাই নিয়েই সন্তষ্ট থাকতেন। রোগী বার্লি খেতে না চাইলে নিজের ডিসপেন্সারীতে স্টোভ, প্যান, পেয়ালা, চামচ এনে বার্লি তৈরি করে দিতেন এবং রোগীর অভিভাবককে বার্লি বানানোর কৌশল শিখিয়ে দিতেন।

রতনদিয়া গ্রামে মুসলমান জমিদার ছিলেন খান বাহাদুর ইউসুফ হোসেন চৌধুরী। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত উকিল ও রাজনীতিবিদ বঙ্গীয় ব্যাবস্থাপক সভার সদস্য। বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরী তার পুত্র। (ইউসুফ হোসেন চৌধুরী ও রশীদ চৌধুরী পরবর্তী অধ্যায়ের আলোচিত)।

ধুঞ্চি গ্রামের ঐতিহ্য

রাজবাড়ি জেলায় ১০৫৬টি গ্রাম। এরমধ্যে  কাজীকান্দা, পদমদি, বেলগাছি, খানখানাপুর, বাণীবহ, মুলঘর, রাজাপুর, নলিয়া জামালপুর, বহরপুর, খালকুলা, সোনাপুর, রতনদিয়া, মাজবাড়ি, মাগুরা ডাঙ্গি, হাবাসপুর, কসবা মাঝাইল, সমাধিনগর, যশাই ঐতিহ্যবাহী এমন গ্রাম রয়েছে। এরমধ্যে ধুঞ্চি গ্রামটি একটু আলাদা। এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের সাথে যেমন জড়িয়ে আছে এর ইতিহাস তেমনি এ গ্রামটি প্রাচীন পদ্মার প্রবাহমানতার স্বাক্ষী। এ গ্রামটি একদিকে যেমন এ অঞ্চলে কাপড় উৎপাদনের ক্ষেত্র তেমনি গ্রামটিতে জন্ম নিয়েছেন অনেক খ্যাতিমান পুরুষ।

Additional information