জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-৩০

এ গ্রামের পূর্ব পুরুষেরা প্রায় ৩০০ বৎসর পূর্বে পাবনা জেলার রাজরামবাড়ি থেকে বর্তমান ধুঞ্চি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তাদের পূর্ব পুরুষেরা হযরত আবু আইয়ুব আনসারীর বংশ। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর হিজরতের সঙ্গী। পরবর্তীকালে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আবু আইয়ুব আনসারীর ধর্ম প্রচারক দলের কেহ পাবনার রাজরামবাড়ি বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষ  বলে তারা দাবি করেন। পদ্মা প্রবাহের আলোচনায় দেখা যায় প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে পদ্মার প্রবাহ বর্তমান রাজবাড়ির অতি নিকটবর্তী ছিল। রাজরামবাড়ি তখন পদ্মার ওপারের গ্রাম। পদ্মা ভেঙ্গে উত্তরে সরে গেলে ভাঙ্গনের মুখে রাজরামবাড়ি থেকে তারা পদ্মার এপারে ধুঞ্চি চরে স্থান নেয়। যে কারণে পরবর্তীতে তা ধুঞ্চি গ্রাম নামে পরিচিতি পায়। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে তাঁতশিল্পীদের আধিক্য ছিল। উল্লেখ্য যারা রাজবাড়ি থেকে ধুঞ্চি চরে আসেন তার সবাই পেশায় ছিলেন তাঁত শিল্পী। এসব তাঁতশিল্পীরা পেশাদক্ষতায় ছিল উন্নত। অন্যান্য অঞ্চল থেকে অতি অল্প সময়ে তার প্রাধান্য অর্জন করে এবং ধুঞ্চি হয় এ অঞ্চলে কাপড় উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। ধুঞ্চি গ্রামে জন্ম নিয়েছেন অনেক বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক প্রতিভাবান ব্যক্তি, খেলোয়াড়। রাজবাড়ির বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজবেসক কাজী হেদায়েত হোসেনের জন্মস্থান রাজবাড়ির ধুঞ্চি গ্রামে। উক্ত গ্রামের ছাবের মোল্লা পরিবারের কৃতি সন্তান আযহার উদ্দিন ১৯২৫ সালে অত্র অঞ্চলের তাঁতী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করেন। একজন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে তিনি কোরআনের আলো, হাদীসের আলো ও আরবের আলো প্রভৃতি পুস্তক প্রণেতা।

তাঁর পুত্র কামাল উদ্দিন পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের ভূমি, খাদ্য, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব ছিলেন। তিনি বেলজিয়ামে রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন সরকারি চাকরি হতে অবসর নেন। এই পরিবারের আরেক কৃতি সন্তান ডা. তালেবুর রহমান প্রেমের কবিতা ‘মনের হেনা’ নামক পুস্তকের রচয়িতা। এই গ্রামের ইখলাস উদ্দিনের ‘ ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব’ বইটি ধর্মীয় চিন্তাবিদদের কাছে একটি প্রিয় বই। এ গ্রামের প্রতিভাবান ছেলে নেহাল উদ্দিন। তিনি ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ্যটমিক এনার্জির ওপর ডক্টরেট করেন। বর্তমানে তিনি কানাডায় মন্ট্রিল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেন। এ গ্রামের আর এক সন্তান প্রতিভাবান সন্তান মিরাজ উদ্দিন মিয়া। তিনি বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। অনর্গল ইংরেজি ও বাংলায় বক্তৃতা এবং ইসলাম ধর্মের উপর পাণ্ডিত্য এলাকার মানুষকে মুগ্ধ করত। অত্র গ্রামের মাহবুবুল আলম দুলাল প্রথম চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট। তিনি বর্তমানে কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। এই গ্রামে বসবাসকারী অসংখ্য সংসারী মানুষের পাশাপাশি সংসার ত্যাগী, খোদার ধ্যানে আত্মমগ্ন মানুষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় হযরত কাসেম আলী ফকির ও হযরত শাহ সাহেব এর মাজার বিদ্যামান আছে। এ গ্রামের বিশিষ্ট ফুটবলার এনায়েত করিম খোকা (মৃত), এনায়েত করিম খোকা (মৃত), এনায়েতুর রহমান মনা। এ গ্রামের আর এক কৃতি সন্তান আরজু, বুকডনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। ধুঞ্চি গ্রামের এ ঐতিহ্য গ্রাস করতে চলেছে পদ্মার ভাঙ্গন। দীর্ঘকালের মরা পদ্মা বলে পরিচিত পদ্মার কোল সাবেক নদীর রুপ নিয়েছে। ভাঙ্গন ধুঞ্চি গ্রামের কাছাকাছি। এ ভাঙ্গন না ঠেকালে শুধু গ্রামই নয়, শহর রক্ষাও দুস্কর হবে। এ ব্যাপারে রাজবাড়িবাসীকে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

রাজবাড়ি শহর ও যোগাযোগ

ঐতিহ্যগতভাবে রাজবাড়ি রেলশহর হিসেবে পরিচিত। ১৮৭১ সালে গড়াই ব্রিজ সমাপ্ত হলে পূর্বদেশগামী রেলপথ জগতি থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়।

Additional information