জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-৪

সাধারণ প্রশাসনে তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় ৪ মহকুমায় বিভক্ত থাকে যথা----ফরিদপুর সদর, গোয়ালন্দ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ। গোয়ালন্দ মহকুমার হেডকোয়ার্টার থাকে রাজবাড়িতে। ১৯৪৭ এর পূর্বে সাধারণ জেলা প্রশাসন ডেপুটি কমিশনারের হাতে ন্যাস্ত থাকে। তিনি জেলার প্রশাসন ও রাজস্ব উভয়ের প্রধান থাকেন। ডিপুটি কমিশনার জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োজিত থাকতেন দুইজন অতিরিক্ত ডিপুটি কমিশনার। প্রতিটি মহকুমায় থাকতেন একজন মহকুমা প্রশাসকের উপর সাধারণ ও রাজস্বভার ন্যাস্ত থাকত। মহকুমায় ছিলেন আরো একজন সাবডিভিশনাল ম্যানেজার (SDM) যিনি রাজস্ব প্রশাসনে মহকুমা প্রশাসককে সাহায্য করতেন। প্রশাসনিক ইউনিটে গোয়ালন্দ মহকুমায় গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি বালিয়াকান্দি, পাংশা থানা ছিল। প্রতিটি থানায় ছিলেন দুইজন সার্কেল অফিসার (CO Rev ও CO Dev)। পুলিশ প্রশাসনের প্রধান থাকতেন একজন পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট (SP)এবং মহকুমায় থাকতেন মহকুমা পুলিশ অফিসার (SDPO)।

রাজবাড়ি জেলা গঠনের ইতিহাস পর্যালোচনায় ফরিদপুর জেলা সংস্থাপন তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাবেক ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমার সমগ্র এলাকা (বর্তমান মধুখালি ব্যতিরেকে) নিয়েই রাজবাড়ি জেলা। ফরিদপুর জেলা গঠন বিষয়ে দীনবন্ধু রায় চৌধুরী ‘পরিচয়’ গ্রন্থে জেলার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘১৮১১ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর কাচারীগৃহ নির্মিত হয়। তখন পর্যন্ত ঐ জেলাকে ঢাকা জালালপুর বলিত এবং তাহার সদর স্টেশন ঢাকা নগরীতে ছিল। ১৮৩৩ হইতে ১৮৩৮ খ্রি. অব্দের মধ্যে ঐ জেলার নাম ফরিদপুর হয়।’ এ বিষয়ে আনন্দনাথের কথায় ‘১৮৩৫ এরমধ্যে কোনো এক সময় ঢাকা জালালপুর ‘ফরিদপুর’ নামে পরিচিত হয়। ফরিদপুর জেলা সংস্থাপনের পর থেকে ১৮৭১ এ ফরিদপুর জেলা পুনর্গঠনের পূর্ব পর্যন্ত চন্দনা নদীর পূর্ববর্তী অঞ্চল নসিবশাহী, বাণীবহ, বেলগাছি, রামদিয়া, কাসিমনগর পরগনা ফরিদপুর কালেক্টরেটের অধীন হয়। মহিমশাহী, নশরতশাহী পরগনার অংশ বিশেষকুষ্টিয়া, পাবনা ও যশোহর কালেক্টরেটের অধীনে থাকে। ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ফরিদপুরের বিবরণ এবং ১৮৬৭ সালে ই-ই লুইস কর্তৃক প্রদত্ত বিবরণে পরগনাসমূহের নিম্নরুপ জমিদারী মালিকানা দেখা যায়।

পরগনা            :        মালিকানা (জমিদারী)

নসিবশাহী         :         বাবু নিমাইচাঁদ সান্যাল

বেলগাছি          :         রামরত্ন রায় (রামরত্নের নামে রতনদিয়ার নামকরণ)

                              করিম বক্স চৌধুরী (ইউসুফ হোসেন চৌধুরীর পিতা)

মহিমশাহী         :          রবাট সাহেব

বাণীবহ           :           শ্যামশংকর মজুমদার

                               গিরীজাশংকর মজুমদার

                               প্রাণশংকর মজুমদার

হমদমপুর        :             গঙ্গানারায়ণ পণ্ডিত

Additional information