জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-৩২

অসংখ্যা দোতলা তিনতলা এমনকি পাঁচতলা ছয়তলা গড়ে উঠেছে। পৌরসভার পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। ক্রমাগত শহরটি আধুনিক ছিমছাম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠছে। সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও সে ধারাটি অব্যাহত রেখেছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াও ধারাটি অব্যাহত রেখেছেন। ইতিমধ্যে ট্রিটমেন্ট ওয়াটার সাপ্লাই থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবারহ শুরু হয়েছে। পয়োপ্রণালীসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে পানি নিষ্কাশনে তিনি ড্রেনেজ নির্মাণ করেছেন। পৌরসভার পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। শহরটি ছোট হলেও যে কোনো আগন্তককে তা আকৃষ্ট করে।

বাংলাদেশের মানচিত্রে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে রাজবাড়ি জেলা তথা শহরটি দেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা থেকে আরিচা রোড ধরে ফেরি পারাপার হয় একই বাসে সরাসরি মাত্র আড়াই ঘন্টায় রাজবাড়ি পৌঁছে যাওযা যায়। সাউদিয়া, সুবর্ণ এমএম সৌহার্দ নামের বাস সরাসরি চলাচল করে। বাসে সরাসরি ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা যশোর, মাগুরা ঝিনাইদহ, বেনাপোল, পাবনা, দিনাজপুর যাওয়া যায়। ট্রেনে চেপে কুষ্টিয়া, খুলনা রাজশাহী, দিনাজপুর যাতায়াত সুলভ ও আরামদায়ক। দৌলতদিয়ায় লঞ্চ ও নৌকা বিহার আকৃষ্ট করবে।

বাংলার প্রথম মুসলিম উপন্যাসিক ও বিষাদ সিন্ধুর লেখক মীর মোশারফ হোসেনের মাজার ও মনোমুগ্ধকর স্মৃতিকেন্দ্র পদমদি রাজবাড়ি থেকে মাত্র এক ঘন্টারও কম সময়ের পথ। পাকা রাস্তা এবং পথের দু’ধারে শস্যক্ষেত আকৃষ্ট করে। রাজবাড়ি শহর থেকে এক ঘন্টার পথ অতিক্রম করে কবিগুরুর কুঠিবাড়ি শিলাইদহ যাওয়া যায়।

ঐতিহ্যগত দিক থেকে শহরটি নানা সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ডের মিলন কেন্দ্র। বর্তমানে সে ধারাটি অব্যাহত আছে। অনেক গুণী শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, নাট্যকর্মী, সাংবাদিকের বসবাস রাজবাড়ি শহরে। সামাজিক বন্ধন হৃদ্যতাপূর্ণ। সবুজ গাছপালায় আচ্ছাদিত শহরটি মনোরম সৌন্দর্যমণ্ডিত। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার উত্তরে ঐতিহ্যবাহী প্রমত্ত পদ্মা প্রবহমান। পদ্মার সেই ইলিশের প্রাচুর্য নাই। তবে রাজবাড়ির চমচমের স্বাদ কেউ ভুলতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় মানের রাজবাড়ি সরকারি কলেজ, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ, ডা. আবুল হোসেন কলেজ, অঙ্কুর স্কুল এন্ড কলেজ, আহম্মদ আলী মৃধা কলেজসহ রয়েছে সাতটি সরকারি ও বেসরকারি  মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী টাউন মক্তবসহ আছে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইংলিশ মিডিয়াম কোয়ালিটি স্কুল, রাজবাড়ি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ বিশ/পঁচিশটি কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় রয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশে বাড়ন্ত শহরে নানা রং আর কারুকার্যময় অট্রালিকার শোভা। নির্মল হাওয়া  বাতাসে বাড়ন্ত মানুষ। সহনীয় মূল্যে দৈনন্দিন খাদ্য খাওয়ার ব্যাবস্থা। সব মিলে এক আনন্দঘন পরিবেশ এই শহর।

একজন পদস্থ কর্মকর্তার বিদায়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম-----রাজবাড়ি শহর আপনার কেমন লেগেছিল? তাঁর উত্তরটি ছিল এমন-----‘কাশ্মীরকে যদি পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ বলা যায় তাহলে বাংলাদেশের ভূ-স্বর্গ রাজবাড়ি।’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখানে দৈন্য আছে, অভাব আছে, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধ আর সদাচরণের অভাব নেই। আমরা রাজবাড়ি শহরের মানুষ এমনি আছি -এমনি থাকব।রাজবাড়ি শহরটি ছোট। এক সময় জেলার প্রধান যাতায়াত বাহন ছিল নৌকা, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি। রাস্তাঘাট বলতে ছিল কাঁচা কর্দমাক্ত পথ ঘাট। রেলপথই ছিল একমাত্র উন্নত যাতায়াতের উপায়।

Additional information