জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-৫

রামদিয়া         :              রামকুমার কুণ্ডু

পাঁচুরিয়া         :              মি. রেমি

১৮৭১ সালে ফরিদপুর সীমানা পুনর্গঠিত হয়। এ সময় গোয়ালন্দ মহকুমা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐ বছর গোয়ালন্দ মহকুমা প্রতিষ্ঠার পর জগতি-গোয়ালন্দ রেললাইন বসে। এ সময় ফরিদপুর জেলার সীমা নিম্নরুপ দাঁড়ায়। ‘উত্তর ও ঈষৎ পূর্বদিকে পদ্মা, পূর্বদিকে মেঘনা, দক্ষিণভাগে গৌরনদী থানা ও নয়াভাঙ্গানী নদী, পশ্চিমে মধুমতি (গড়াই) ও বায়াশিয়া নদী ও কুষ্টিয়া সাবডিভিশন।’ (আনন্দনাথ রায় পৃষ্ঠা-১১৮)।

ফরিদপুর জেলা পুনর্গঠনকালে গোয়ালন্দ মহকুমার সীমানা নির্ধারিত হয়। পশ্চিমে ‍কুষ্টিয়া জেলা, দক্ষিণে গড়াই নদী, পূর্বে ফরিদপুর সদর, উত্তর ও উত্তর পশ্চিমে পদ্মা সীমানা চিহ্নিত এলাকা নিয়ে গোয়ালন্দ মহকুমা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৮৭১ সালে হান্টারের ফরিদপুর জেলার থানার তালিকায় গোয়ালন্দ মহকুমার থানা ছিল গোয়ালন্দ, বেলগাছি ও পাংশা। (ফরিদপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, জালাল আহম্মেদ, পৃষ্ঠা-৩০)।

বালিয়াকান্দি থানা স্থাপন ১৮৮৪ (আনন্দনাথ রায়, পৃষ্ঠা-১১৯)। তবে ঈশ্বচন্দ্র গুপ্তের বর্ণনা মতে ফরিদপুর জেলায় ১৮৫৪ সালে ৭টি পুলিশী থানা ও দুটি ফাঁড়ি ছিল। ৭টি থানার একটি ছিল বেলগাছি। আর দুটি ফাঁড়ির মধ্যে একটি ছিল ধাওয়াপাড়া। ১৮৬৭ সালে ই-ই-লুইসের বর্ণনাতেও বেলগাছি থানা এবং ধাওয়াপাড়া ফাঁড়ির উল্লেখ আছে। ১৮৭১ সালে গোয়ালন্দ মহাকুমা এবং সদর গোয়ালন্দ, বেলগাছি ও পাংশা থানা স্থাপন হয়। ঐ সালেই বর্তমান উড়াকান্দা হাটের প্রায় ১০ কিমি উত্তর পূর্বে (কথিত গোয়ালিশ ল্যান্ড) গোয়ালন্দ মহকুমার অফিস, কাচারি এবং রেল স্টেশন স্থাপন হয়। এ সময় থেকে মহকুমার কাজ শুরু হয়। এ সময় রাজবাড়ি কোনো থানাও নয়। লক্ষীকোল, বিনোদপুর, কাজীকান্দা, সজ্জনকান্দা, চককেষ্টপুর, বলুয়ার চর, কুমোরপাড়া, গ্রাম সমষ্টি মাত্র। তবে লক্ষীকোল রাজা সূর্যকুমার এবং বাণীবহ জমিদার গিরীজাশংকর মজুমদার অত্র এলাকায় নানা স্থাপনা গড়ে তোলেন। লক্ষীকোল সূর্যকুমারের সুরম্য প্রাসাদ, তৎসংলগ্ন পোস্ট অফিস, হাসপাতাল স্থাপন (বর্তমান সিভিল সার্জনের বাসা যেখানে) এবং বাণীবহের জমিদার কর্তৃক কাচারী স্থাপন, খ্রিস্টান পাদ্রীদের দ্বারা গীর্জা এবং পাদ্রীদের বাসস্থানের জন্য দোতলা দালান (বর্তমান রাজবাড়ি সরকারি কলেজের দোতলা অফিস বিল্ডিং) নির্মাণে এলাকাটিকে উন্নত জনপদে পরিণত করে। বিনোদপুর সংলগ্ন বাজার গড়ে ওঠে। সকলে একে বিনোদপুর বাজার বলত। তবে পূর্ব থেকেই এলাকাটি রাজবাড়ি নামে পরিচিত থাকায় একে রাজবাড়ি বাজারও বলা হত। ১৮৭১ গোয়ালন্দ মহকুমা স্থাপনের পরই পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়। অফিস কাচারি কয়েকবার সরানো হলেও ঘাটের ভাঙ্গনে মহকুমার স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব হল না। শেষে ১৮৭৫ থেকে ১৮৮০ সালের কোনো এক সময়ে গোয়ালন্দ মহকুমার অফিস স্থাপনা রাজবাড়িতে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়।

এ সকল স্থাপনার বেশির ভাগ জমির মালিক ছিলেন নারায়ণচন্দ্র চক্রবর্তীর পিতা ও মোহর মোল্লা অফিস আদালত রাজবাড়ি গড়ে উঠলেও কালেক্টরেটর সকল কাজ গোয়ালন্দ নামেই করা হত। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান রাজবাড়ি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বের নাম গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল। ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ নামই বহাল থাকে। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে কালেক্টরেট ভবন, কোর্ট বিল্ডিং, সাবডিভিশন পুলিশ কার্যালয়, হাজত খানা নির্মিত হয়।

Additional information