জেলা গঠনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা নং-১০

দাউদের সাথে মুনমের সন্ধি হলে মোরাদ জলেশ্বরের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। মুনেমের মৃত্যুর পর দাউদ পুনরায় বিদ্রোহী হলে মোরাদ পুনরায় ফতেহাবাদে প্রেরিত হন এবং দাউদকে দমন করেন। তিনি খানখানাপুরে রাজ্য স্থাপন করে ফতেহাবাদ শাসন করেতন। সম্ভাবত এই দাউদই সেই বিদ্রোহী রাজা। রাজবাড়ি বা নিকটবর্তী কোনো স্থানে তার ভূষণা রাজ্যের আঞ্চলিক রাজধানী  ছিল। এল,এন মিশ্র ইস্টবেঙ্গল রেলওয়ের ম্যানেজার এবং ইতিহাস প্রিয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক লোক ছিলেন। তাঁর সংগ্রহের বিবরণ তিনি বাংলায় রেলভ্রমণ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন যা ১৯২৫ সালে কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থের একটি কপি বেড়াডাঙ্গা ৩নং রোড বসবাসকারী আমার স্নেহের ছাত্র নাসিমের (ঠিকাদার) সংগ্রহে আছে। উক্ত পুস্তকের ১০৯ পৃষ্ঠায় দেখতে পাই-----‘সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনকালে অত্র অঞ্চলে মগ পর্তুগীজ জলদস্যু দমনের জন্য রাজা সংগ্রাম সাহ অত্র অঞ্চলের নাওয়াড়া প্রধান হয়ে আসেন। তিনি বর্তমান বাণীবহ থেকে রাজকার্য পরিচালনা করতেন। রাজবাড়ির অদূরে উত্তরে অবস্থিত পদ্মা তীরবতী লালগোলা নামক স্থানে তার দুর্গ ছিল। যা থেকে নামকরণ হয়েছে লালগোলা। লোকে বাণীবহসহ অঞ্চলটিকে রাজারবাড়ি বলত।’ সাহিত্য শেখর আনন্দনাথ রায় ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার জপলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখা ফরিদপুরের ইতিহাস প্রথম খণ্ড ও দ্বিতীয় খণ্ড গুরুত্বপূর্ণ দলিল। গ্রন্থ দুটি প্রায় শত বছর পূর্বে প্রকাশিত হয়।

সম্ভবত এটি ফরিদপুরের ওপর প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। প্রাচীন ও ইতিহাসের প্রথম খণ্ডের আংশিক শরীয়তপুর সরকারী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আজিজ সাহেবের নিকট থেকে সংগ্রহ করি। কিন্তু লেখাগুলি পুস্তকারে ছিল না, ছিল বিচ্ছিন্ন খাতার পাতার মতো। অক্টোবর ২০০৫ এ আনোয়ার ফরিদী বিভিন্ন স্থানে ছড়ানো ছিটানো অংশটুকু সংগ্রহ করে তা গ্রন্থ হিসেবে  পুনঃমুদ্রণ করেন। গ্রন্থটি আমি ম্যাগনাম ওপাস,১২/আজিজ সুপার মার্কেট থেকে সংগ্রহ করি যা রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পুস্তক। (উক্ত গ্রন্থের ভূমিকায় বলা হয়েছে ‘সেন্টার ফর আর্কিওলোজিক্যাল স্টাডিজ এ্যান্ড ট্রেনিং ইস্টার ইন্ডিয়া ২০০১ এ প্রকাশিত)। বাংলা সাময়িক পত্র ‘প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস চর্চা পথিৃকৎ প্রবন্ধপঞ্জী’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, ফরিদপুরের ইতিহাসের ২য় খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাসের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর (RSK) ইনস্টিটিটউশনের প্রধান ত্রৈলোক্যনাথ ভট্রাচার্যের নাতি অধির কুমার চক্রবর্তী বন্ধুবর প্রফেসর নিত্যরঞ্জন ভট্রাচার্যের (প্রাক্তন অধ্যাক্ষ, বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজ) মাধ্যমে আমাকে পাঠান। বর্তমানে ড. তপন বাগচী সম্পাদিত উভয় খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।

আনন্দনাথের ফরিদপুরের ইতিহাস থেকে উদ্ধৃত, ‘রাধাগঞ্জের ভরাট স্থান এখন রাধাগঞ্জের বা পেঁয়াজঘাটার বিল নামে প্রসিদ্ধ। যাহা হউক নাওয়াড়া চৌধুরীগণ নানা উপদ্রবের আশংকায় পাঁচথুবি পরিত্যাগ করিয়া প্রায় দুই শতক বছর পূর্বে (বর্তমানে তা প্রায় ৩৫০ বছর) বাণীবহে আগমন করেন। বাণীবহ গ্রাম উত্তর দক্ষিণে সাড়ে তিনি মাইল, পূর্ব পশ্চিমে তিন মাইল হইবে। এই গ্রামে রাঢ়ী ও বরেন্দ্র ব্রাহ্মণ প্রায় সাত আটশত ঘর। বৈদ্য প্রায় দইশত ঘর। কায়স্থ ও অন্যান্য জাতি প্রায় আড়াইশত ঘর বলে জানা যায়। এই গ্রাম এরুপ জনতাপূর্ণ ছিল যে, কাহারও বহিরাঙ্গন ছিল না। স্ব-স্ব গৃহের বারান্দাতেই বৈঠকখানা ছিল। এরুপ জনতা নিবন্ধন বাংলা ১২৩৩ মারাত্মক মহামারী উপস্থিত হয় এবং উহাতে বহু লোক মারা যায় এবং বহু লোক অন্যত্র চলে যায়। বিদ্যাবাগীশ পাড়া, সরখেল পাড়া, ভট্রাচার্য পাড়া, সেনহাটি পাড়া, নুনে পাড়া, পচাপাড়া প্রভৃতি জনহীন পাড়া আজও বিদ্যমান রয়েছে।

Additional information