ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১১

হযরত জামাইপাগল মুরশীদ (রহ) ও হযরত নূর বাকের শাহ

হযরত জামাই পাগলের মাজার শরীফআলাদিপুর মোড় ঘুরতেই রাজবাড়ি শহরের প্রবেশ পথে বাবা মুরশীদ জামাই পাগলের মাজার শরীফের স্মৃতি বহনকারী তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তোরণ। লোকমুখে যতটা জানা যায় তিনি বিগত শতাব্দীর শুরুতে আলাদিপুরে আসেন এবং দরবেশ হিসেবে সাদামাটা জীবন শুরু করেন। যতদুর জানা যায় তিনি ছিলেন সংসারত্যাগী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ আহসানুল হাবিব তার গুলশানে আউলিযা গ্রন্থের ৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, ‍মুর্শিদ যশোর পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন। তাঁ জন্মস্থান পরিবার পরিজন, বংশ সম্বন্ধে জানা যায় না। কথিত আছে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কোনো এক দরবেশের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তিনি তাঁকে সংসার বিবাগী হওয়ার পরামর্শ দিলে সকল কিছু ত্যাগ করে পাংশায় আসেন। সেখানে তিনি জামাই পাগল নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি রাজবাড়ির আলাদীপুরে আস্তানা গড়ে তোলেন। তিনি প্রায়ঃশই শরীরে কাদামাটি মেখে থাকতেন। অনেক সময় তাকে উলঙ্গ বা লেংটি পর অবস্থায় দেখা যেত। মানুষের সাথে কমই কথা বলতেন। অত্র অঞ্চলে তাঁর সম্বন্ধে নানা অলৌকিক কাহিনী শোনা যায়। রাস্তার ধারে প্রায় এক বিঘা জমির উপর মাজারটি অবস্থিত। মাজার ভবনের মধ্যে জামাই পাগল মুরশীদের কবর। তার পাশে খাদেম নূর বাকের শাহ এর কবর এখানে আর এক খাদেম গৌরী বালার কবর রয়েছে। প্রতিবছর ১৫ ফাগ্লুন এখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয়।

ইতিহাসের পটভূমিকায়

রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফ

পরম করুনাময়ের নামে শুরু করিতেছি -------আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল ও প্রতিনিধি। আল্লাহুপাক পবিত্র  কোরআনে বলেছেন------ কুললা আসআলুকুম আলাইহে আজরান ইল্লাল মুয়াদ্দাতা ফিল কুরবা--(৪২ নাং সুরা-আশশুরার ২৩ নং আয়াত)

হে আমার রাসুল বলে দিন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়বর্গের (আহলে বায়েত) প্রতি অচল অটল ভক্তি মহব্বত ছাড়া আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। এই আয়াত নাজিলের পর মহানবী (সঃ) কে সাহাবীরা  জিজ্ঞা করলেন এই আত্মীয়বর্গ কারা? যাদের প্রতি মহব্বত করা ফরজ। নবী পাক(সঃ) বললেন তারা হলেন হযরত আলী (কঃ), হযরত ফাতেমা(আঃ), হযরত হাসান (আঃ) হযরত হোসনে(আঃ) এরাই আমার আত্মীয়বর্গ ও আহলে বায়েতপাক। ইহারা অতি পাক ও পবিত্র। আল্লার সান্নিধ্য লাভ, বেহেস্তে প্রবেশ ও দ্বীন দুনিয়ার সুখ শান্তি লাভ করতে হলে তাদের প্রতি মহব্বত ও ভক্তি শ্রদ্ধা করতে হবে। হযরত নবী করিম (সঃ) ও তাঁর আহলে বায়েত পাক(আঃ) দের ও অলি আউলিয়াদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও মহব্বত জানাতে হবে। অন্যথায় আল্লাহুর সান্নিধ্য, নৈকট্য লাভ ও হযরত নবী করিম (সঃ) এর শাফায়াত প্রাপ্তি হবে না। হযরত আহম্মদ ইবনে হাম্বল (রাঃ) বর্ণনা করেছেন -----যারা আহলে বায়াত পাকের বিরুদ্ধে শক্রতা করবে তারা মোনাফেক। সৃষ্টির আদি ও আল্লার জাতি নূরে সৃষ্টি হযরত নবী পাক (সঃ), ইমামুল মোরছালিন রহমতুল্লিল আল আমি। হয়রত নবী পাক (সঃ) এর নূরে সারা বিশ্ব সৃষ্টি। হযরত মুহাম্মদ (সঃ), হযরত আলী (কঃ), হযরত ফাতেমা (আঃ), হযরত হাসান (আাঃ), হযরত হোসেন (আঃ) ইহারা পাক পাঞ্জাতন। তাঁরা নূরের সৃষ্টি মহামানব। আল-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হযরত নবী পাক (সঃ) বলেছেন আমি জ্ঞানের মহানগর আর হযরত আলী (কঃ) ঐ নগরের দরজা।

Additional information