ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১২

সমস্ত ইমাম (রাঃ), ঈমানদার, মুত্তাকিনদের নেতা হযরত আলী (কঃ)। সমস্ত শহীদানদের নেতা হযরত হাসান (আঃ) ও হযরত হোসেন (আঃ)। বেহেস্তের যুবকদের নেতা হযরত হাসান (আঃ) ও হযরত হোসেন (আঃ)। নারীদের বেহেস্তের নেত্রী হযরত ফাতেমা (আঃ)। সমস্ত অলি, আওলিয়া, গাউস, কুতুবদের সরদার ও পীর, হযরত সৈয়দ শেখ মাওলানা ওলিকূল শিরোমনি পীরানে পীর দস্তগীর, মাহবুবে সোবহানী, কুতবে রব্বানী, গাউসে ছামদানি, বড় পীর শেখ আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হযরত আবদুল কাদের জিলানী-বাগদাদী (আঃ)। হযরত নবী করিম (সঃ) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও নূরে মুজাচ্ছাম ও সর্বশেষ বিশ্বনবী। তাঁর বেছাল হক ও ওফাতের পরে বিশ্বে আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না বিধায় হযরত নবী করিম (সঃ) তাঁর ওফাত পাকের সময় তাঁর নিকট গচ্ছিত আল্লাহু প্রদত্ত আমানতি বস্তু তাঁর  চাচাতো ভাই, ওছি, জামাতা হযরত আলীকে (কঃ) প্রদান করেন। ইহাই বেলায়েত। আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা ও শক্তি। হযরত নবী পাক (সঃ) এর নিকট হতে হযরত আলী (কঃ) বেলায়েতপ্রাপ্ত হয়েন। হযরত আলী (কঃ) বেলায়েতের সম্রাট, ধারক ও বাহক। হযরত আলী (কঃ) হযরত নবী পাক (সঃ) এর নিকট হতে প্রাপ্ত বেলায়েত তাঁর শাহাদত পাকের পূর্বে তাঁর দুই শাহজাদা পাক হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) পাকদের প্রদান করেন। এদিকে পাক পাঞ্জাতনের সদস্য হযরত আলী (কঃ) ও হযরত বিবি মা ফাতেমার পুত্রদ্বয় হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও হযরত ইমাম হোসেন (আঃ), হযরত নবী করিম (সঃ) ও হযরত আলী (কঃ) এর পবিত্র বংশধর ও আহলে বায়াত পাকের সদস্য। ইসলাম ধর্মের স্থায়িত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং আল্লাহুর নাম ও নবী রাসূল (সঃ) এর বাণী, কোরআন, হাদিস, সুন্নাহ, দীন ইসলাম ও সত্যকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠিত রাখতে হযরত ইমাম আলী (কঃ), হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) দের প্রচেষ্টা, আত্মদান ইতিহাস খ্যাত। কারবালায় আল্লা রাসূলের নাম ও ইসলামকে রক্ষার জন্য, হককে প্রতিষ্ঠার জন্য বনি উমাইয়া বংশের অত্যাচারী, ব্যাভিচারী, ইসলাম ধবংসকারী শাসক মরদুদ এজিদ এর বিরাট সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে  হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) পাক তাঁর আত্মীয়বর্গ, ভক্তবৃন্দসহ মাত্র ৭২ জন সঙ্গী সাথী নিয়ে হকের জন্য বাতিলের বিরুদ্ধে ন্যায় যুদ্ধে (জেহাদ) করে নির্মমভাবে শহীদ হন কারবালা প্রান্তরে।

কারবালার মর্মস্পর্শী ঘটনায় আজো ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ভক্তপ্রাণ আশেকান রাসুল (সঃ) ও মোমিন মুসলমানদের চোখে অশ্রুপাত ঘটায়-----ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ।’ পরবর্তীতে হযরত বড় ইমাম হাসান (আঃ) পাক বেছালএ হকের (ওফাত) আগে তাঁর নিকট গচ্ছিত বেলায়েত প্রদান করেন মদিনা পাকে তাঁর জীবিত শাহজাদা হযরত ইমাম হাসান মসন্না (আঃ) কে এবং হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) পাক কারবালার যুদ্ধে তাঁর অসুস্থ রুগ্ন একমাত্র জীবিত পুত্র হযরত ইমাম জয়নাল আবেদীন (আঃ) কে বেলায়েত প্রদান করে শহীদ হন কারবালার মরু প্রান্তরে।

এভাবে হযরত আলী (কঃ) এর ঐরসে হযরত বিবি মা ফাতেমার গর্ভের ও বংশের পবিত্র বংশধরেরা আওলাদেরা বেলায়েতপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন ও কিয়ামততক পেতে থাকবেন। পর্যায়ক্রমে হযরত ইমাম হাসান (আঃ) এর পুত্র হযরত ইমাম হাসান মসন্না (আঃ) পাক তাঁর বংশে হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) এর পিতা হযরত আবু সালেহ মুসাজঙ্গী দোস্ত (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। অপর দিকে হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) এর বংশে জন্ম নেন হযরত আবদুল্লাহ সওমী (আঃ) এবং তার সুযোগ্য কন্যা হযরত উম্মূল খায়ের ফাতেমা সানী (আঃ)।

হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) পিতার দিক হতে হযরত ইমাম হাসান (আঃ) এবং মাতার দিক থেকে হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) এর পবিত্র বংশধর। ফলে তিনি পিতা ও মাতার উভয় দিক থেকে আল হাসানী ওয়াল হোসেনী সৈয়দ বংশ। হিজরী ৪৭০ মতান্তরে ৪৭১ হিজরী সালের ১ রমজান তারিখ আরবের পারস্যের ইরানের জিলান নগরে সুযোগ্য পিতার ঔরষে জ্ঞান তাপসী মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন হযরত বড় পীর দস্তগীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ)। জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন বলে তিনি হযরত আবদুল কাদের জিলানী বলে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি মাতৃ গর্ভজাত ওলিয়ে কামেল।

Additional information