ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৩

তিনি ওলিকূল শিরোমনি, পীরানে পীর, মিরানে মীর, গউসুল আজম দস্তগীর, মাহবুবে সোবহানী, গউসে সামদানী কুতুবে রব্বানী হযরত সৈয়দ শেখ মওলানা সৈয়েদেনা শাহ আবু মোহাম্মদ সামদানী, কুতুবে রব্বানী হযরত সৈয়দ শেখ মওলানা সৈয়েদেনা শাহ আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আলা নবীয়েনা ওয়া আলাইহিস সালাতো রাব্বানী (আঃ) হযরত নবী করিম (সঃ) এর ১৩ তম পবিত্র বংশধর ও হযরত আলী (কঃ) এর পবিত্র ১২ তম বংশধর। তিনি সমস্ত ওলিদের সম্রাট ও সমস্ত তরীকার পীরদের পীর, বড় পীর। খোলাফায়ে রাশেদীনের ৩য় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) শহীদের পরে সমস্ত আরবে, মক্কা ও মদিনায় গোলযোগ, গোলমাল ও বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে হযরত মওলা এ কায়নাত মওলা মুশকিল কোষা আমিরুল মোমেনিন শেরে খোদা হযরত আলী (কঃ) খোলাফায়ে রাশেদীনের চতুর্থ খলিফা হিসাবে খিলাফতের দায়িত্বগ্রহণ করেন। হযরত আলী (কঃ) রাষ্ট্রীয় কার্যের সুবিধার্থে কুফায় রাজধানী স্থানান্তরে পর থেকে বাগদাদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) উচ্চ শিক্ষার জন্য বাগদাদে গমন করেন। হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) এর ‍উচ্চ শিক্ষায় ও সুশিক্ষায়, কোরআন, হাদিস, ফেকাহ, এলমে তাসাউফ এর পূর্ণ জ্ঞান লাভ ও আধ্যাত্মিকতায় উচ্চাসনে সমাসীন হওয়ায় বাগদাদ নগর ধর্ম, জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা দীক্ষা, সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠে। শত শত বছর ধরে ইসলামের ধর্ম বাণী ও শান্তির বার্তা দিকে দিকে ছড়েয়ে দেওয়া হয়। আর সকল কাজের প্রধান দায়িত্ব পালন করেন, হযরত গউসপাক (আঃ) এর আওলাদাপাকগণ ও ধর্ম প্রচারক ওলি, আওলিয়া, পীর মাশায়েখগণ। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায়, ভালোবাসা, আচার আচরণ, মহব্বত, আধ্যাত্মজ্ঞানের গভীরতায় ও অলৌকিক কার্যে মুগ্ধ হয়ে সর্বস্তরের মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা দীক্ষা ও ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।

খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ভারত উপমহাদেশে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু জয়ের পরে এদেশে ভারত বর্ষে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ত্রয়োদশ শতক থেকে শত শত ওলি, আউলিয়া, কামেল পীর, মাশায়েকদের আগমনে ও ইসলাম ধর্ম প্রচারে ভারত ভূমিতে ইসলাম ধর্ম বিশেষভাবে প্রচার, প্রসার ও বিস্তার লাভ করে। হযরত গউস পাকের (আঃ) নির্দেশে হযরত খাজা মাইনদ্দীন চিস্তি আজমিরী (রঃ) ভারতে এবং হযরত শাহজালাল (রঃ) সিলেটে ধর্ম প্রচারে কিংবদন্তির ইতিহাস।

হযরত শাহ পরান সিলেটে, হযরত গউসপাক (আঃ) এর আওলাদপাক, হযরত রুপস শাহ মুখদম বাগদাদী (রহ), হররত তুরকান শাহ বাগদাদী (রঃ), হযরত শাহ নূর বাগদাদী (রঃ) রাজশাহীতে অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ করে ইসলাম প্রচার করেন। হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রঃ) হযরত বখতিয়ার কাকী (রঃ), হযরত শেখ ফরিদ (রঃ), হযরত শরফুদ্দিন চিশতি (রঃ) (ঢাকা) প্রমুখ ভারতে ইসলাম প্রচারে অবদান রেখেছেন। খুলনা বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রঃ), হযরত মিছকিন শাহ, বায়োজীদ বোস্তামী আমানত শাহ চট্রগ্রামসহ অসংখ্য অলি আউলিয়া পীর মাশায়েকগণ ভারতবর্ষে, পূর্ব ও পশ্চিম-বাংলায় ইসলাম প্রচার করেছেন। পুরান ঢাকার ফরাসগঞ্জে ঐতিহাসিক প্রাচীনকালের ‘বিবিকা রওজা’ ও তথায় মহরম পাক অনুষ্ঠান উদযাপন হয়ে আসছে এবং ঢাকার প্রাচীন ঐতিহাসিক হোসেনী দালানে মহরমপাক উৎযাপন হয়ে আসছে যা ইসলাম জাগরণ ও মুসলিম ঐতিহ্যের নিদশন। হযরত পীরানে পীর দস্তগীর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী (আঃ) ইসলামের পুনঃজীবন দানকারী। তিনি ইসলামের দুর্দিনে আরব দেশসহ সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচার করেন এবং কাদেরিয়া তরীকা প্রবর্তনপূর্বক প্রচার ও প্রসার করেন এবং সারা বিশ্বে তা প্রতিষ্ঠিত করেন। এই তাপসপ্রবর মহাপুরুষ মাতৃগর্ভজাত ওলিয়ে কামেল ছিলেন। তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সুলতানে আওলিয়া ও বড় পীর (আঃ)। তিনি বহু অলৌকিক কার্য করেছেন ও বহু কারামত পাক দেখিয়েছেন। মুরদাকে জিন্দা করতেন। তিনি বহু কিতাবের রচয়িতা। তাঁর কিতাব গ্রন্থে আল্লাহ, রাসুল, কালেমা তৈয়াবার উৎস, গুরুত্ব, মর্যাদা, শরীয়ত, মারেফত, তরীকাত, হকিকত, এলমে তাসাউফের গভীর রহস্য, সার্বজনীনতা ও অবিনস্বরতার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজেকে আল্লার সহিত বিলীন করে দিয়েছিলেন।

Additional information