ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৪

‘মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বুহু’ (যে নিজেকে চিনেছে সে তার রবকে চিনেছে)। হযরত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (আঃ) সমস্ত তরীকার পীরদের পীর কেবলা। তাঁর আমল হতে তরীকার উৎপত্তি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অনুশীলন ব্যাখ্যা তার আধ্যাত্মিকতার দর্শন। নিজেকে চিনতে হলে ওলিয়ানা, মোর্শেদেনা, কামেল পীর এর মাধ্যমে সিলসিলা ও তরীকা ধরতে হবে এবং মোকাম মঞ্জিলে পৌছাতে হবে। হযরত গউসপাক (আঃ) বলেছেন ‘হে আমার ভক্তবৃন্দ (মুরিদ) ভয় করোনা। আল্লাহ আমার রব। আমার কোনো মুরিদের ও মোতেকাদের বিনা তওবায় মৃত্যু হবেনা।’ হযরত আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) এর ৪ জন বিবি (রঃ) পাক ছিলেন এবং ২৭ জন পুত্র সন্তান ছিলেন ও ২২ জন কন্যা সন্তান ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হযরত গউসপাক (আঃ) এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন। সন্তানদের মধ্যে অনেকে বাগদাদ শহরে বসবাস করতেন এবং অনেকে বিভিন্ন স্থানে হিজরত করে বসবাস করতেন। তাঁরা সকলেই ওলি ও পীরে কামেল ছিলেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) এঁর সন্তানদের মধ্যে তার বড় বিবি পাকের গর্ভজাত সন্তান এবং সন্তানদের মধ্যে দ্বিতীয় শাহাজাদা পাক হযরত সৈয়দ শেখ আবদুল রাজ্জাক আলী আল কাদেরী আল হাসানী আল ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী (আঃ) পাকের পবিত্র বংশধর ও সিলসিলা হতে মেদেনীপুরের হযরত পীর কেবলাদের বংশ ও কাদেরিয়া তরীকা ও সিলসিলা প্রতিষ্ঠিত। তিনি বেলায়েত প্রাপ্ত হন পিতার নিকট থেকে। তাঁরা আহলে বায়াত পাকের সদস্যবৃন্দ এবং তরীকা কাদেরীয়া আল রাজ্জাকিয়া সিলসিলার পীর ও মোর্শেদ।

হযরত শেখ আব্দুল রাজ্জাক আলী আল কাদেরি (আঃ) পাকের বংশধর সিরিয়ার হামা শরীফের বসতি স্থাপন করেন ও বসবাস করতেন। তাঁদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ আল জিলি আল বাগদাদী আল হাসানী আল হোসেনী (আঃ) হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) পাকের দৈব নির্দেশে সিরিয়ার হামাএ শরীফ হতে ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ঐ যাত্রায় তাঁর সঙ্গী হলেন চারপুত্র যথা-----হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ), হযরত রওশন আলী আল কাদেরী (আঃ), হযরত গোলাম হোসেন আল কাদেরী (আঃ), হযরত রজব আলী আল কাদেরী (আঃ) ও হযরত রওশন আলী আল কাদেরী (আঃ) এর পুত্র হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) এবং কিছু আত্মীয়বর্গ। আয়োজনে প্রথমে তাঁরা বাগদাদ এসে পৌছান এবং সেখান থেকে জাহাজে  উড়িষ্যা চাঁন্দবালী বন্দরে এসে উপস্থিত হন। এরপর (১১৮৮ হিজরী-১৭৬৭ খ্রি.) এখান থেকে তাঁরা মেদিনীপুর জেলার (ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) পটাশপুরে উপস্থিত হন এবং গউস পাক (আঃ) এর অনেক তবারক পাক ও কাদেরীয়া তরীকার সনদ পাকসহ বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোর্টে আসেন। সেই সময় বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোর্ট ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং মুসলিম সংস্কৃতির পীঠস্থান। বীরভূম ও বর্ধমান জেলার সীমানায় অজয় ও কুমার নদীর মিলনস্থলে মঙ্গলকোর্টে তিনি বসবাস করতে মনস্থ করলেন। কয়েক মাস সকলে এখানে অবস্থানের পর হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) কে মঙ্গলকোটে এবং হযরত রওশন আলী আল কাদেরী (আঃ) কে ভারতের বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়ার শহীদগঞ্জে (বর্তমান রওশনগঞ্জ) রেখে ও বেলায়েত প্রদান করে অন্যান্য আত্মীয় পরিজনসহ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। হযরত রওশন আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (আঃ) অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ করে ধর্ম প্রচার করেন ও কাদেরীয় তরীকা প্রতিষ্ঠিত করেন। হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) তাঁর চাচা হযরত জাকের আলী আল কাদেরি (আঃ) এর নিকট থাকেন। হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) ৮১ বৎসর বয়সে জান্নাতবাসী (বেছালেহক) হন (হিজরী ১১৯২ জেলহজ্ব তারিখে)। তাঁকে গউসে সানীপাক ও আল সনদী বলা হত। হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) এর মাজার পাক মঙ্গলকোর্টে। তিনি অনেক কারামত দেখান এবং দলে দলে মানুষ তাঁর নিকট ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন ও কাদেরীয়া তরীকায় দাখিল হন। হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) এর কন্যার বিবাহ হয় হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) এর সঙ্গে। সেই সূত্রে হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) এর ভাইয়ের পুত্র ও জামাতা। হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) বেলায়েতপ্রাপ্ত হয়েন  তাঁর চাচা হযরত জাকের আলী আল কাদেরী (আঃ) এর নিকট হতে।

Additional information