ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৫

হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) এর প্রথম বিবি ওফাত পাকের পরে শেষে হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরি (আঃ) মেদিনীপুরের জ্ঞান তাপস হযরত চন্দন শহীদের কন্যা নেয়ামতুন্নেছাকে বিবাহ করেন। তাঁর গর্ভজাত পুত্র হযরত মেহের আলী আল কাদেরী (আঃ)। বিবাহের পর হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) মেদিনীপুরে বসবাস করতেন। তাঁর মাজার পাক মঙ্গলকোর্টে। তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) এর তিন পুত্রের জন্ম হয়। তার শাহজাদা পাক হযরত মেহের আলী আল কাদেরী (আঃ) যিনি আলা হুজুর নামে খ্যাত ছিলেন। হযরত তোফায়েল আলী আল কাদেরী (আঃ) পর্দা নেওয়ার পর তাঁর সুযোগ্য শাহজাদা ও উত্তরাধিকারী হযরত মেহের আলী আল কাদেরী (আঃ) সাজ্জাদানসীন হন ও বেলায়েত প্রাপ্ত হন। সৈয়দেনা হযরত সৈয়দ শাহ মেহের আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) মূলত মেদিনীপুর পূণ্য পাক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। যাঁর মহব্বতে এসে ভক্তপ্রাণ হাজার হাজার মুরিদান তাঁর প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন। ১৮৬৮ (১২৮৫ হিঃ মহরম ১৭) তিনি পর্দা নেওয়ার পূর্বে (ওফাত) তিনি তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ও পুত্র হযরত আলী আব্দুল কাদের সামছুল কাদের মারুফ সৈয়েদেনা হযরত সৈয়দ শাহ মুরশীদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) এর নিকট তাঁর উত্তরাধিকার ও বেলায়েত ও বেলায়েত সমর্পণ করেন।

সৈয়দেনা ও মুরশিদেনা হযরত সৈয়দ শাহ মুরশিদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী আল হোসেনী আল বাগদাদী ওয়াল মেদিনীপুরী (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিম বাংলার মেদিনীপুরে (হিজরী ১২৬৮ সালে ২৭ রমজান, খ্রি.১৮৫২ জুলাই ১৬)। সার্জ্জাদানসীন হয়েন (হিজরী ১২৮৫, ১৭ মহরম)। তিনি কাদেরীয়া তরীকার উজ্জ্বল নক্ষত্র, বেলায়েত ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার ধারক ও বাহক। তাঁকে মওলাপাক বলা হত। তিনি দ্বীন ইসলাম ও কাদেরীয়া তরীকাকে হযরত গউস পাক (আঃ) এর ন্যায় সারাবিশ্ব তথা ভারত বর্ষের বিভিন্ন স্থানে ও পূর্ববাংলায় পশ্চিম-বাংলায় ছড়িয়ে দেন। তিনি আহলে বায়েত পাকের পবিত্র বংশধর ও সদস্য, হযরত গউস পাক (আঃ) আধ্যাত্মিকতায় উচ্চমানের ওলিয়ে কামেল ছিলেন। তাঁর সময়কাল থেকে আধ্যাত্মিকতার ও সুফিবাদের প্রভাব ভারত বর্ষের তথা পূর্ববাংলা ও পশ্চিমবাংলা, আসাম উড়িষ্যাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। মেদিনীপুর হয়ে ওঠে মুসলিম উম্মার পবিত্র মিলন কেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী মেদেনীপুরে মুসলিম ভ্রাতৃবন্ধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় গউস পাক (আঃ) এর প্রবর্তিত কাদেরীয়া তরীকা। মেদিনীপুর কেন্দ্রীক কাদেরীয়া তরীকাভুক্ত সকলে কাদেরীয়া তরীকার ধর্মপ্রাণ অনুগত ভক্ত মুরীদান বলে তাদের সাধারণ পরিচিতি রয়েছে। হযরত মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) সর্বপ্রথম কলিকাতায় তালতলায় ২২ নং খানকায়ে কাদেরীয়া প্রতিষ্ঠা করেন। কাদেরীয়া তরীকার আদর্শ ও আধ্যাত্মবাদ দিকে দিকে ছড়িয়ে যায়। তিনি মেদিনীপুরে ইস্ত্রিগঞ্জে গভীর জঙ্গলে চিল্লাগাহে গভীর ইবাদত এবং কঠিন মাকুসী ইবাদত করেন। তিনি কাদেরীয়া তরীকার কিতাব দেওয়ানপাক রচনা করেন। তৎকালীন বৃটিশ ভারতের শাসন আমলে পূর্ববাংলার সাবেক ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমার রাজবাড়ি থানার অন্তর্গত সর্জ্জনকান্দা মৌজায় রাজবাড়ি শহরের কোর্ট পাড়ার পূর্বে প্রশস্ত দ্বিমুখী রোড সন্নিকট মনোরম স্থানে অবস্থিত রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফ শহরের ভাবগাম্ভীর্যের প্রতীক ও ইসলাম ধর্ম এবং কাদেরীয়া তরীকার ভিত্তি ও প্রধান কেন্দ্র । রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ি শহরে তথা পার্শ্ববর্তী এলাকায় ও এদেশে হযরত আলী (আঃ), হযরত বড় পীর (আঃ) পাকের পবিত্র বংশের কাদেরীয়া তরীকা ও মেদিনীপুর হযরত হুজুর পাক পীর কেবলাদের হাজার হাজার ভক্ত প্রাণ মুরিদান ইসলামের ও কাদেরীয়া তরীকার খেদমতের কাজ করে চলেছেন। গড়ে উঠেছে অতি পরিচিত কাদেরীয়া তরীকা ও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। প্রাচীন এ মসজিদটির নির্মাণকাল ঠিক কবে কখন তা জানা যায় না। তবে এতটুকু জানা যায় যে, মসজিদটি ছনের ছাউনি বিশিষ্ট ঘর ছিল। সর্বমহলে টাউন মসজিদ হিসাবে এর পরিচিতি ছিল হযরত সৈয়দ শাহ মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) (হযরত মওলাপাক) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই মসজিদে সর্বপ্রথম কদম মোবারক ও তসরীফ রাখেন। তৎকালীন সময়ে ফরিদপুরে তসরীফ রাখিবার পূর্বে তাঁর ভক্ত মুরিদান ভারতের এলাহাবাদের অ্যাডভোকেট এনামুল কবিরকে ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমার রাজবাড়িতে সাব রেজিস্ট্রার পদে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেন।

Additional information