ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৬

এনামুল কবির এই পদে যোগদান করেন। বড় মসজিদটি যে স্থানে অবস্থিত এ জায়গার তৎকালীন মালিক ছিলেন মরহুম খান সাহেব মৌলবী মোখলেছুর রহমান ও মরহুম ছলিম চৌধুরী। ঐ জমিতে মালিকদের নির্মিত চৌচালা একখানা টিনের ঘরে ভাড়ায় সাব রেজিস্টারী কাজ সম্পন্ন হত। সাব রেজিস্টার অফিস সংলগ্ন একটি একতলা দালানে মিউনিসিপ্যালিটি অফিস ছিল। এনামুল কবির রাজবাড়িতে চাকরিকালীন সময় সাব রেজিস্টার অফিস সংলগ্ন ঘরে ভাড়ায় বাস করতেন। এ সময় হযরত সৈয়দ শাহ মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) ফরিদপুরে খান বাহাদুর মৌলবী আব্দুল গনি সাহেবের বাড়িতে সফরসঙ্গী ও খাদেমসহ তসরীফ রাখেন।

হযরত মওলা পাক (আঃ) ফরিদপুর নদীপথে নৌকায় ভ্রমণকালে গেদার অনতিদূরে ঢোল সমুদ্র এলাকায় এলে তিনি প্রকাশ করেন যে, এখানে রাসুল (সঃ) পাকের তবারুক আছে এবং তা থেকে সুঘ্রাণ আসছে। গেরদা সৈয়দ বাড়ি (মিয়া বাড়িতে) হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রঃ) বাগদাদ থেকে এখানে আসেন। তিনি নবী করিম (সঃ) পবিত্র দাড়ি মোবারক, হযরত আলী (কঃ) পবিত্র মুচ মোবারক, হযরত হাসান (আঃ) ও হযরত হোসেন (আঃ) এর পবিত্র জুলফী মোবারক, হযরত বড় পীর (আঃ) পাক এর গায়ের পবিত্র জোব্বা মোবারক, মাদার পীরের গুরদি, শাহ আলী বাগদাদী (রঃ) এর খাবার থালা, লাঠি ইত্যদি তবারুক সঙ্গে আনেন। হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রঃ) গেরদায় কিছুদিন থাকার পর ঢাকার মিরপুরে চলে যান তথায় ওফাতপ্রাপ্ত হন। হযরত মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) এর নিকট গেরদার মিয়া বাড়ির মীর মদন শাহ এবং তাঁর স্ত্রী মওলাপাকের নিকট বায়াত (মুরিদ) হয়েন। হযরত মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) ফরিদপুর থেকে কলিকাতায় ফিরে যাবার পথে ভক্ত মুরীদ খাদেম ও সঙ্গী সাথীদের এবং এনামুল কবিরের বিনীত আরজীর প্রেক্ষিতে ও বিনীত অনুরোধে ছনের ছাউনীবিশিষ্ট মসজিদ ঘরে কদমপাক রাখেন ও তসরীফ রাখেন। হযরত মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) ছনের মসজিদ ঘরে যে স্থানে কদম মোবারক ও তসরীফ রেখেছিলেন এবং অবস্থান করেছিলেন ঐ স্থানে ঐ সময় হতে হযরত মওলা পাকের পবিত্র হুজরা শরীফ ও সিজদাগাহ নির্মাণ করা হয়। যা এখন মওলা পাকের পবিত্র হুজরা শরীফ হিসাবে খ্যাত। পরবর্তীতে এই ছনের মসজিদ ঘর পুনঃসংস্কার করে মওলা পাকের হুজরা শরীফ সংলগ্ন করে টিনের মসজিদ ঘর নির্মাণ করা হয়। তৎপর হযরত এরশাদ আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (আঃ) এর সময় টিনের ঘর ভাঙ্গিয়া একতলা দালান (মসজিদ) নির্মাণ করা হয়। হযরত মওলা পাকের হুজরা শরীফে বর্তমান সার্জ্জাদানসীন পীর কেবলা হযরত সৈয়দ শাহ রশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) এর সদয় সম্মতিক্রমে হযরত ছোট হুজুর পাক (আঃ) এবং তদ্বীয় বড় শাহজাদা (আঃ) এর তত্ত্বাবধানে শহীদ সম্রাট হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) পাকের তাবুত পাক ও হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (আঃ) এর পবিত্র মাজার পাকের পবিত্র গিলাব পাক হুজরা শরীফে রক্ষিত রয়েছে।

মুসলিম ও অমুসলিম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নিবিশেষে অগণিত ভক্তবৃন্দ ভক্তি সহকারে জিয়ারত করে মোনবাঞ্ছা পূরণ করেন। হযরত মওলা পাকের পুরাতন হুজরা শরীফ সংলগ্ন বর্তমান সার্জ্জাদানসীন হযরত বড় হুজুর পাক পীর কেবলা (আঃ), হযরত ছোট হুজুর পাক (আঃ) ও হযরত বড় শাহজাদা পাক (আঃ) এর নতুন হুজরা শরীফ ও খানকা শরীফ রয়েছে। হযরত মওলা পাক (আঃ) তসরীফ রাখিবার সময়ে একখানা ছনের ছাউনী বিশিষ্ট আল্লাহুর মসজিদ ঘর ছিল। ঐ মসজিদ ঘর নির্মাণের সঠিক সাল-তারিখ জানা যায় না। আনুমানিক একশত বছরের উর্ধেব হবে। হযরত মওলা পাক (আঃ) হুজরা শরীফ ও মসজিদের জন্য ২৫ শতাংশ জমি মরহুম মৌলবী মোখলেছুর রহমান (খান সাহেব) ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। পরে অন্যান্য জমির মালিকদের নিকট হতে নগদ মুল্যে রেজিস্টারী কবলামূলে  আঞ্জুমান কমিটি খরিদ করেন। এছাড়া জমিতে থাকা একতলা দালান ও চৌচালা টিনের ঘর খরিদ করে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত করা হয় যাহা রাজবাড়ি ‘টাউন মসজিদ’ নামে সর্বমহলে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে মসজিদটি বড় মসজিদ খানকা শরীফ নামে খ্যাত। জামানার ওলিয়ে কামেল হযরত মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) ছিলেন হযরত গউস পাক আব্দুল কাদের জিলানী (আঃ) এর প্রতিচ্ছবি।

Additional information