ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৭

তিনি আধ্যাত্মিক গুণসম্পন্ন ও অলৌকি ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। জীবনের প্রায় সমস্ত সময় ইবাদত বন্দেগী ও আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন থাকতেন। তিনি ইসলামকে ও কাদেরীয়া তরীকাকে বিশ্বের দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। তিনি অনেক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তিনি ভারতবর্ষের কাদেরীয়া তরীকা ‍সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কলিকাতায় ২২নং খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন।

হযরত সৈয়দ শাহ মুরশীদ আলী আল কাদেরী (আঃ) বেছালে হক ফরমান (পর্দা) ২৭ শাওয়াল ১৩৭৮। বাংলা ৪ঠা ফাল্গুন ১৩০৭ (ইংরেজি ১৭ ফেব্রয়ারি ১৯০১) রাত ২টা ১১ মিনিটে কলিকাতা খানকা শরীফে বেছালেহকপ্রাপ্ত হয়েন। মেদিনীপুরে তাঁর পিতা ও মাতার মাজার পাকের পাশ্বে উচ্চ গম্বুজের মধ্যে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে।

হযরত মওলা পাকের বেছালে হকের পরে সার্জ্জাদানসীন হন তাঁর সুযোগ্য উত্তরসুরী ও সুযোগ্য শাহজাদা হযরত সৈয়দ শাহ এরশাদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ)। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯০১ সালে বেলায়েতপ্রাপ্ত হন ও সার্জ্জাদানসীন হন। তিনি ওলিয়ে কামেল এবং আধ্যাত্মিক বুজুর্গ ওলি ছিলেন। তিনি তরীকার কেতাব পাক, বায়েছ পাক মহরম পাকের কাছিদা পাক লিখেছেন। তিনি সার্জ্জাদাসীন হওয়ার পর রাজবাড়িতে বড় মসজিদ খানকা শরীফে কদম মোবারক রাখেন। তাঁর আগমনের সঠিক সাল -তারিখ জানা যায় না। তিনি রাজবাড়ির বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে দুঞ্চি, দ্বদশী, ভবদিয়া, বরাট, মতিয়াগাছিতে তসরীফ রেখেছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম মেদিনীপুর মাজার পাকে মওলা পাকের ৪ ফাল্গুন পবিত্র ওরশ শরীফ শুরু করেন। রাজবাড়িসহ বাংলাদেশে তাঁর হাজার হাজার ভক্ত তাঁর নিকট বায়াতগ্রহণ করেন। তাঁর সময় থেকে অত্র অঞ্চলে দ্বীনি ইসলাম ও কাদেরীয়া তরীকার ব্যাপক প্রসার ঘটতে থাকে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে রাজবাড়িসহ অত্র অঞ্চল ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ভক্ত মুরীদানদের নিয়ে ওরশ শরীফে যোগদানের জন্য একটি ওরশ স্পেশাল ট্রেনের ব্যাবস্থা করা হয়। ওরশ উপলক্ষে ১০৯ বছর যাবৎ দেশের কেবলমাত্র রাজবাড়ি থেকে ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত মুরীদানদের নিয়ে বড় হুজুরপাক কেবলা পরিচালিত একটি স্পেশাল ট্রেন ২ ফাল্গুন রাত ১০টা নাগাদ রাজবাড়ি রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি সরাসরি বর্ডার অতিক্রম করে ৪ ফাল্গুন মেদিনীপুর পৌছে। ওরশ শেষে ৫ ফাল্গুন রাত ১০টা মেদিনীপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে রাজবাড়ি স্টেশনে পৌছে ১৯ ফেব্রয়ারি। শত বছরের অধিককাল ধরে যাতায়াতকারী ট্রেনটি রাজবাড়ির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ট্রেনটির নির্গমন ও আগমন উপলক্ষে রাজবাড়ি মুসলিম উম্মার মিলন মেলায় পরিণত হয়। ইসলামিক ভাবগাম্ভীর্যে সজ্জিত ট্রেনটিকে পবিত্রতার প্রতীক বলে মনে করে। এ সময় শহর মুখরিত হয়ে ওঠে। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় এক হাজারের অধিক যাত্রী স্পেশাল ট্রেনে যাতায়াতের সুবন্দোবস্ত থাকে। আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া কমিটির তত্ত্বাবধানে ও অফিস ব্যবস্থাপনায় পাসপোর্ট ভিষা সংগৃহীত হয়। হযরত এরশাদ আলী আল কাদেরী (আঃ) এর সময় থেকে দ্বীন-ই-ইসলাম ও কাদেরীয়া তরীকার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটতে থাকে। তিনি কাদেরীয়া তরীকার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রাজবাড়িতে আব্দুল আলীকে খলিফা মনোনীত করেন। তৎকালীন কাদেরীয়া কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন মরহুম আব্দুল আলী খলিফা, সেক্রেটারী ছিলেন মরহুম মজিবর রহমান, কমিটিতে আরও ছিলেন মরহুম ছলিম চৌধুরী, মরহুম ফখরউদ্দিন আহম্মেদ, মরহুম হাবিবুর রহমান, মরহুম বাবর আলী, মরহুম কালু খলিফা প্রমুখ, আনোয়ার হোসেন। হযরত সৈয়েদেনা সৈয়দ শাহ এরশাদ আলী আল কাদেরী (আঃ) ১৯৫৩ সালের ২৩ ফেব্রয়ারি ২১ জমাদিয়াল আওয়াল বাংলা ২৩ মাঘ রাত্র ১১-১১ মিনিটে কলিকাতা ২২ নং খানকা শরীফে বেছালে হক (পর্দা) প্রাপ্ত হয়েন। তাঁর মাজার শরীফ মেদিনীপুর ঘেরাপাকের মধ্যে।

Additional information