ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৮

তার বেছাল এ হকের (ওফাত) পরে তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ২য় শাহজাদা পাক সৈয়দেনা মওলানা মুরশিদেনা হযরত সৈয়দ শাহ মুসতারশীদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী ওয়াল মেদিনীপুরী (আঃ) বেলায়েতপ্রাপ্ত হয়েন ও সার্জ্জাদানসীন হয়েন (১৯৫৩ সালের ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) তিনি বেলায়েতের ধারক বাহক ছিলেন। তিনি হকের জন্য ইসলাম ও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকাকে উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন জেহাদ করেছেন। তিনি ইংরেজি ১৯৫৬ সালের ১২ মার্চ তারিখে তাঁর বড় শাহজাদা পাক হযরত সৈয়দেনা রশিদ আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (আঃ) (বর্তমান সার্জ্জাদানসীন বড় হুজুরপাক) ও মেজো শাহজাদা পাক হযরত রাজদান আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (আঃ) (বেছালেহক প্রাপ্ত), খাদেম ও অনেক সফরসঙ্গীসহ গেদে দর্শনা হয়ে রেলপথে রাজবাড়ি খানকা শরীফ বড় মসজিদের তসরীফ ও কদমপাক রাখেন। তাঁর আগমনে রাজবাড়িসহ এতদ্বঞ্চলের নারী পুরুষসহ হাজার হাজার মানুষের মুরিদের ঢল নামে ও অগণিত মানুষ মুরিদ হয়েন (বায়েত) গ্রহণ করেন। তিনি যে কাঠের বড় পালকী পাকে বসে এসেছিলেন ঐ পালকী খানা এখনো রাজবাড়ি খানকা শরীফে শ্রদ্ধাভরে সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি আধ্যাত্মিক জগতের একজন মহাপুরুষ ছিলেন ও উচ্চস্তরের ওলিয়ে কামেল পীর ছিলেন। তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলিকাতায় ৪নং হাজী মোহাম্মাদ মহসীন স্কয়্যার লেনের বাড়িতে পরিবার পরিজনসহ বসবাস করতেন। তিনি রাজবাড়ি ও তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে কাদেরীয়া তরীকার কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন করিবার জন্য সর্বপ্রথম আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকা প্রতিষ্ঠিত করেন ও গঠন করেন। তিনি আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া কমিটি গঠন করেন ও বাই-ল তৈরি করেন। এই কমিটির রাজবাড়ির সভাপতি হন মরহুম আবদুল আলী খলিফা। সেক্রেটারী মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন, ক্যাশিয়ার মরহুম সামসুদ্দিন বিশ্বাস, কমিটিতে আরো থাকেন খোন্দকার আনিসুল হক, আনোয়ার হোসেন, মরহুম হাজী আঃ লতিফ, মরহুম ইসমাইল মিয়া, মরহুম নূরুন্নবী মোল্লা, রোস্তম আলী (তেল ব্যবসায়ী), শওকত আলী মোল্লা, মরহুম রোস্তম আলী, মরহুম আইনদ্দিন শিকদার, মরহুম আঃ জব্বার মোল্লা, মরহুম শাহাদত হোসেন ও মরহুম জালাল উদ্দিন, মরহুম আব্দুল জব্বার পোদ্দার এবং পরবর্তীতে যুক্ত হন মরহুম রহমত আলী বেপারী, মরহুম হেদায়েত আলী (খাদেম), মরহুম এনায়েত, মরহুম তসলিম উদ্দিন, মরহুম আইনদ্দিন মণ্ডল, মরহুম তোরাব আলী ও কাজী এরাদত আলী, মরহুম সৈয়দ আলী, জনাব আঃ ছাত্তার প্রমুখ। পরবর্তীতে হযরত বড় হুজুর পাক (আঃ) সময়ে নতুন কমিটি গঠিত হয়। ঐ কমিটির সভাপতি মরহুম হাজী আব্দুল লতিফ, সহ সভাপতি মরহুম সামসুদ্দিন বিশ্বাস ও মরহুম নূরন্নবী মোল্লা, সেক্রেটারী কাজী ইরাদত আলী, ক্যাশিয়ার খন্দকার আনিসুল হক, কমিটিতে আরো ছিলেন মরহুম আইনদ্দিন শিকদার, মরহুম আব্দুল জব্বার মোল্লা, গোফরান, আব্দুল মান্নান চৌধুরী, আব্দুল মতিন মণ্ডল ও মাহাবুবুল আলম।

হযরত সৈয়দ শাহ মুসতা রশীদ আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (আঃ) এর আগমনের পর হতে রাজবাড়ি টাউন মসজিদের নামকরণ হয় রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফ। তিনি আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে প্রবর্তন করে, প্রচার ও প্রসার করে এবং সর্বদা অক্লান্ত পরিম্রমের পর ভক্তদের শোক সাগরে ভাষিয়ে হিজরী ১৩৯৭ সালের ২২ জিলকদ বাংলা ১৩৮৫ সালের ৭ কার্তিক, ১৯৭৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত্র ১০-১৫ মিনিটে কলিকাতায় ৪নং বাড়িতে পর্দানেন (বেছালে হক) তাঁকে পর্দা হুজুর পাক ও মালিক পাক বলা হত। তাঁর মাজার পাক মেদিনীপুর ঘেরা পাকের মধ্যে পিতা মাতার পার্শে্ । তিনি অনেক কারামত পাক দেখিয়েছেন। তাঁর বেছালে হকের (পর্দা) ওফাত পাকের পরে বেলায়েতপ্রাপ্ত হন তাঁর উত্তরাধিকারী বড় শাহজাদা পাক আধ্যাত্মিক ক্ষমতার মহাশক্তিধর মহান ওলিয়ে কামেল মুজাদ্দিদ এ জমা সৈয়েদেনা মওলানা মুরশিদেনা হযরত সৈয়দ শাহ রশিদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী(আঃ)। তিনি সার্জ্জাদানসীন হয়েন হিজরী ১৩৯৭ সালের ২২ জেলকদ বাংলা ১৩৮৫ সালের ৭ কার্তিক, খ্রিস্টাব্দ ১৯৭৮ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখে। তিনি বড় হুজুর পাক কেবলা ও কাবা নামে খ্যাত।

Additional information