ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১৯

তিনি জামানার অলি ও মুজ্জাদ্দেদ এ হাদী। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের ন্যায় ইসলামের ও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার ধারক, বাহক, পরিচালক, ইমাম, হাদী ও পবিত্র কেবলা ও কাবা এবং পবিত্র বেলায়েতের মালিক। তিনি তার মহান পূর্ব পুরুষদের ন্যায় উত্তরাধিকার সূত্রে বেলায়েতপ্রাপ্ত মহান ওলিয়ে কামেল পীর কেবলা ও কাবা ও মহাআধ্যাত্মিক ক্ষমতাধর সিদ্ধ মহাপুরুষ। হযরত নবীপাক (সঃ) এর হতে ৩৪ তম পবিত্র বংশধর ও হযরত আলী (কঃ) হতে ৩৩তম পবিত্র বংশধর এবং হযরত গাউস পাক (আঃ) হতে ২১ তম পবিত্র বংশধর। তিনি ছাহেবে বেলায়েত। তিনি অলৌকিক ক্ষমতার মালিক। তিনি আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার উজ্জ্বল নক্ষত্র। শরিয়ত, তরিকত হকিকত, মারেফাত ও বেলায়েতের ধারক, বাহক এবং মালিক। তিনি দ্বীন ইসলামও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত করে বিলীন করেছেন আল্লাতে। তিনি হযরত নবীপাক (সঃ), হযরত আলী (কঃ), হযরত হাসান (আঃ), হযরত হোসেন (আঃ) ও হযরত গাউস পাক (আঃ) পবিত্র বংশধর ও আহালে বায়েত পাকের সদস্য। মুসলিম, অমুসলিম, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তার দরবার পাকে অগণিত মানুষ ও ভক্তবৃন্দ হাজির হয়ে মনোবাসনা পূর্ণ করেন। তিনি সার্জ্জাদানসীন হয়ে তাঁর পূর্ব পুরুষদের ন্যায় বাংলাদেশে ঢাকাতে তসরীফ রেখে সর্বপ্রথম রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফে কদমপাক রাখেন ও তসরীফ রাখেন খ্রিস্টাব্দ ১৯৮২ সালের ২৩ ডিসেম্বর।

সঙ্গে এসেছিলেন তার ছোট ভাই হযরত সৈয়দ শাহ রোওয়াইশীদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) (ছোট হুজুরপাক)। তিনি ওলিয়ে কামেল মহাপুরুষ। তারপর হযরত বড় হজুর পাক (আঃ) খ্রিস্টাব্দ ০৭/০২/৮৪ তারিখে, খ্রিস্টাব্দ ২৬/১২/৮৮ তারিখে ও খ্রিস্টাব্দে ২৯/০৪/০৬ তারিখে রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফে কদমপাক রাখেন ও তসরীফ রাখেন। শেষবারে সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ভাইয়ের (ছোট হুজুরের ) বড়  শাহজাদাপাক হযরত সৈয়দ শাহ ইয়া’সুফ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ)। তিনিও অলিয়ে কামেল সিদ্ধ মহাপুরুষ।

হযরত বড় হুজুরপাক (আঃ) রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফে ৫ বার তসরীফ রেখেছেন। সার্জ্জাদানসীন হযরত বড় হুজুর পাকের (আঃ) নিকট নারী, পুরুষ, মুসলিম, অমুসলিম, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাজবাড়িসহ দূরদূরান্ত হতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে ও সকলে বায়েত গ্রহণ করেন ও মুরিদ হয়েন। বাংলাদেশে হযরত বড় হুজুরপাকের কয়েক লক্ষ ভক্ত মুরিদ রয়েছে। রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফে হযরত বড় হুজুর পাক কেবলা ও কাবার আগমনে বাংলাদেশ ও এতদ্বাঞ্চলে দ্বীন ইসলাম ও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার ব্যাপক প্রচার, প্রসার লাভ করিয়াছে। হযরত ছোট হুজুর পাক (আঃ) ও হযরত বড় শাহজাদা পাক (আঃ) রাজবাড়িতে কয়েকবার তসরীফ রেখেছেন। হযরত বড় হুজুর পাক (আঃ) বাংলাদেশের ঢাকা, রাজবাড়ি, ধুঞ্চি, খানখানাপুর, দৌলতদিয়া, পাবনা জেলার সাগরকান্দি ও সাটিয়া কোলায় তসরীফ রেখেছেন এবং ঐ সকল এলাকায়ও হাজার হাজার নারী পুরুষ বায়াত ও মুরিদ হয়েন। হযরত বড় হুজুর পাক কেবলা ও কাবার সদয় সম্মতিক্রমে হযরত ছোট হুজুরপাক (আঃ) ও হযরত বড় শাহজাদা পাক (আঃ) তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকাশরীফ পুনঃসংস্কার করা হইয়াছে ও নতুন খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ি জেলার মধ্যে এই বড় মসজিদখানা আয়তনে সবচাইতে  বড় ও শোভনীয়। এই বড় মসজিদের বর্তমান ইমাম আলহ্বাজ্ব, হাফেজ মোহম্মদ শাহজাহান। মোয়াজ্জিন, ফেদার আলী। এই মসজিদের সাবেক ইমাম ছিলেন মরহুম আলহ্বাজ্ব, মাওলানা, আশরাফ আলী কাদেরী ও মরহুম হাফেজ রহমত উল্লাহ। রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফে বিগত দিন যাবৎ প্রতি বছর মহরম মাসের ১ মহরম হতে ১০ই মহরম পাকের পড়াপাক মিলাদ মাহফিল, মর্সিয়া পাক অনুষ্ঠিত হয়। ১০ মহরম পবিত্র আশুরা পাক বেলা ১০টায় বড় মসজিদ হতে শহীদ সম্রাট হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) ও তার আত্মীয়বর্গ ও সঙ্গী সাথী শহীদদের মরদুদ এজিদ বাহিনী কর্তৃক কারবালায় নির্মমভাবে শহীদ হওয়ায় তাঁদের স্মরণে ৩০/৩৫ হাজার লোকের সমাবেশে এক ঐতিহাসিক শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

Additional information