ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্টা নং-২০

এই মিছিল পাকে সোহাদায়ে কারবালা ইমাম হোসেন (আঃ) পাকের তাবুত পাক ভক্তিসহকারে বহন করা হয় এবং এই মিছিল পাকে কালো, সবুজ, লাল বর্ণের নিশান পাক শোভমান থাকে। হযরত গউস পাক (আঃ) এর নামের ব্যানার মিছিল পাকের সম্মুখে থাকে।

বড় মসজিদে পবিত্র ফাতেহা দোয়াজ দহম শরীফ, ফাতেহা ইয়াজদহম শরীফ, শবে মেরাজ শরীফ, প্রত্যেক চন্দ্র মাসে ১১ই শরীফ ও বিভিন্ন ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। হযরত নবী করিম (সঃ), হযরত আলী (কঃ), হযরত ইমাম হাসান (আঃ), হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) ও হযরত গউস পাক (আঃ) এর পবিত্র বংশধর ও আওলাদ পাক ও আহলে বায়েত পাকের সদস্যবৃন্দের পবিত্র কদম পাকের ধূলিতে ও শুভ আগমনে রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফ পূতপবিত্র ও ধন্য হয়েছে। ইতিহাসের পটভূমিকায় রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকাশরীফ-----রাজবাড়িসহ তৎকালীন পূর্ববাংলায় ও বর্তমান বাংলাদেশে দ্বীন ইসলাম ও কাদেরীয়া তরীকার প্রচার ও প্রসারে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন ও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। কাদেরীয়া তরীকাপন্থী ভক্তদের ও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার ভক্তদের রাজবাড়ি বড় মসজিদ খানকা শরীফ মূল ক্ষেত্র ও প্রধান কেন্দ্র। বর্তমান সার্জ্জাদানসীন হযরত সৈয়দ শাহ রশিদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হোসেনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) (বড় হুজুরপাক কেবলা) এর পরিচালনায় ও নির্দেশে কোরআন হাদিসের আলোকে পরিপূর্ণ ইসলামের বিধান মোতাবেক সমস্ত কার্যাদি সুসম্পন্ন হচ্ছে।

হযরত বড় হুজুর পাকের পরিচালনায় মওলা পাকের ৪ঠা ফাল্গুনের ওরশ শরীফে বড় হুজুর কেবলা পরিচালিত ওরশ যাত্রী স্পেশাল ট্রেন প্রতি বৎসর রাজবাড়ি রেলস্টেশন হতে মেদিনীপুরের ওরশ শরীফে যাতায়াত করে আসছে। মেদিনীপুর পাকের পবিত্র মওলা পাকের ৪ ফাল্গুনের ওরশ শরীফ বড় হুজুর পাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ও সেখানে লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষ, মুসলিম-অমুসলিম, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে অগণিত লোকের সমাগম হয় ও মেলা পাক অনুষ্ঠিত হয়। হযরত বড় হুজুর পাকের পরিচালনায় রাজবাড়ি খানকাশরীফ বড় মসজিদ হতে ফাতেহা দোয়াজ দাহাম শরীফ ১২ই রবিউল আউয়াল অনুষ্ঠানে ভারতের বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়া শরীফে (রওশন গঞ্জ) ১২ খানা ওরশ যাত্রী বাস যাতায়াত করে। হযরত বড় হুজুর (আঃ) পাকের পরিচালনায় ছোট হুজুর (আঃ) পাক, বড় শাহজাদা (আঃ) পাক এর তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ি জেলার  গোয়ালন্দ থানার দৌলতদিয়া ‘মাদ্রাসাতু সাবিইল হাসান’ নামে একটি বিরাট মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে।

এবং বাংলাদেশ ও পশ্চিম-বাংলায় ও পূর্ণিয়ায় অনেক মসজিদ, মাদ্রসা ও খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও হচ্ছে। বর্তমানে সার্জ্জাদানসীন হযরত বড় হুজুর পাক (আঃ) কেবলার পরিচালনায় ও হযরত ছোট হুজুর পাক (আঃ) ও হযরত বড় শাহজাদা পাক (আঃ) এর তত্ত্বাবধানে ভারতের পশ্চিম-বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসামসহ বাংলাদেশের আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার ধর্মীয় যাবতীয় কার্যাদি কোরআন ও হাদিসের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে। সাবেক পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশের আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া তরীকার (কাদেরীয়া তরীকা) প্রধান কেন্দ্র ও ভিত্তি রাজবাড়ির বড় মসজিদ খানকা শরীফ। হযরত বড় হুজুর পাক (আঃ) এর পরিচালনায় ও নির্দেশে এবং ছোট হুজুর পাক (আঃ) ও বড় শাহজাদা পাক (আঃ) এর তত্ত্বাবধানে ঢাকা কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া কমিটির তদারকীতে বাংলাদেশের সকল আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার কার্যাদি পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার কমিটি, ঢাকা কল্যাণপুর মসজিদে কাদেরীয়া অবস্থিত। বাংলাদেশের আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া কমিটি বিভিন্ন জেলায় যথা---রাজবাড়ি, ঢাকা, ধুঞ্চি, খানখানাপুর, দৌলতদিয়া, ফরিদপুর, পাবনা, সাগরকান্দি, মাছুমদিয়া, খাসআমিনপুর, খানপুর, মধ্য পাড়া, সাটিয়াকোলা, ইসলামপুর, চট্রগ্রাম ও খুলনাসহ আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া কমিটি রয়েছে ও তরীকার বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন হচ্ছে। বড় হুজুর পাক (আঃ) এর হুকুম মোতাবেক মতিয়াগাছি, চরবরাট, দেবগ্রাম, কাকশিমূল (ঢালারচর), খোলাবাড়িয়া, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে শাখা কমিটির মাধ্যমে ১১ই শরীফ ও টেংরা পাড়ায় ৯ই শরীফসহ অন্যান্য ধর্মীয় কার্যাদি অনুষ্ঠিত হয়।

Additional information