ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-২২

সেকাড়ায় সাহ পাহলোয়ানের অবস্থানের কথা জানতে পেরে তার পিতার খোঁজ করা যাবে এবং ইসলামের প্রচারও হবে। এ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি সেকাড়ায় আগমণ করেন। সাহ সাদুল্লাহ আর ফিরে যান নাই। সাহ পাহলোয়ানের মেয়ের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেকাড়াতেই থেকে যান। সাদুল্লাহরই বংশ মীর মশাররফ হোসেন এবং এ কাহিনী তার রচিত, আমি কে? নিবন্ধে উল্লেখ আছে। সাহ পাহলোয়ান, সাহ সাদুল্লাহ ও তাদের শিষ্যবর্গের প্রভাবে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ঘটে।

মনুমিয়া ও ছনুমিয়া

মনু মিয়া ছনু মিয়ার মাজার রাজবাড়ি জেলার দক্ষিণবাড়ি গ্রামে মনুমিয়া ও ছনুমিয়া তাপস প্রবরের কবর। এই তাপস প্রবরেরা দুই ভাই  সাহ পাহলোয়ানের শিষ্য ছিলেন এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারে ব্রতি এই দুই সাধকের অনক মাজেযার কাহিনী এ অঞ্চলে প্রচলিত আছে। মনুমিয়া ছনুমিয়া পদ্মায় ডুবন্ত এক নৌকা বদনার মধ্যে হাত দিয়ে উদ্ধার করেন এমন কাহিনী এ অঞ্চলে প্রচলিত।

পাঁচুশাহ ফকীর

রাজবাড়ি সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী রেল জংশন। ১৮৯৮ সালে গোয়ালন্দ পর্যন্ত রেল বিস্তৃতকালে পাঁচুরিয়া স্টেশন প্রতিষ্ঠা পায়। পাঁচুশাহা তার কয়েক বিঘা জমি রেল কর্তপক্ষকে ছেড়ে দেন এবং তার নাম অনুসারে স্টেশনের নাম হয় পাঁচুরিয়া। পাঁচুশাহ খুব সম্ভব উনিশ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিকাল পর্যন্ত এখানে বসবাস করতেন এবং অত্র এলাকায় তার ফকিরী প্রভাব বিস্তার লাভ করে। পাঁচুশাহ লালন অনুসারী বলে ধারণা করা যায়। লালনের আর এক শিষ্য ছিলেন পাঞ্জু শাহ। তিনি শৈলকূপায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিষ্য মাতাম শাহের পাঁচটি আস্তানা পাংশা উপজেলায় ছিল। এদেরই অনুসারী পাঁচু শাহ হবে। তিনি আধ্যত্মিক বাউলসাধক ছিলেন। তার অনেক শিষ্য এখনো এ অঞ্চলে রয়েছে। তার মাজার পাঁচুরিয়ায় বিদ্যামান এবং এখানে অনেক ভক্তবৃন্দের সমাবেশ ঘটে। একবার পাঁচুরিয়া স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে আরবনগর করা হয়। পাঁচুরিয়াতে আগমন ঘটে একজন আরবীয় ধর্ম প্রচারকের। তিনি এলাকায় ধর্ম প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তার নাম অনুসারে আরবনগর রাখা হলে এর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে পাঁচুরিয়া স্টেশনের নাম অপরিবর্তিত থাকে।

আখরজানি ছুটি মণ্ডলের মসজিদ

কালখালির অনতিদূরে আখরজানি গ্রামে তৎকালীন সময়ের আর একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে লোকে এ মসজিদটিকে ছুটি মণ্ডলের মসজিদ বলে। লোকজনের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে, ছুটি মণ্ডল নামক কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে একবস্তা টাকার সন্ধান পায় এবং স্বপ্নে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত মসজিদ নির্মাণ করেন। এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। মসজিদের আকার আয়তন প্রাচীন। নির্মাণকৌশল দেখে মনে হয় তা মোগল বা নবাবী আমলে নির্মিত। তবে মসজিদের গঠন দেখে মনে হয় তা কোনো দুর্গ ছিল। এমন জনশ্রুতিও এলাকায় রয়েছে যে দুর্গকে মসজিদে রুপান্তর করা হয়। এটি হয়তো সীতারামের দুর্গ ছিল।

Additional information