ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-২৩

ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র ও রাজবাড়িতে ভক্তবৃন্দ

কালপ্রবাহে সকল ধর্মেই বিভিন্ন সংঘ ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পরে। বৌদ্ধদের হিনযান মহাযান, খ্রিস্টধর্মে ক্যাথলিক-প্রটেস্ট্যান্ট, ইসলাম ধর্মের শিয়া-সুন্নি’র উদাহরণ। অনুরুপ সনাতন হিন্দু ধর্মে যোগ, সাংখ্য ব্রাহ্ম, শাক্ত, ন্যায়, বৈষ্ণব ইত্যাদি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঠাকুর অনকুল চন্দ্র মহাপ্রভু অনুরুপ হিন্দুধর্মের সৎসঙ্গ নাম ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রবর্তক। তাঁর মতো ও পথ প্রচার প্রসার লাভ করেছে। ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে সেপ্টেম্বর ১৪ তারিখে পাবনা জেলার হেমায়েতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি ভক্তিপ্রবণ ও সেবা ধর্মপরায়ণ ছিলেন। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যল স্কুল থেকে ডাক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর নিজগ্রাম হোময়েতপুরে গিয়ে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। কিছুদিন পর মায়ের কাছ থেকে দীক্ষাগ্রহণ করে সাধনচর্চায় ব্রতী হন। ধীরে ধীরে তিনি একটি কীর্তন দল গঠন করেন এবং তার মধ্য দিয়ে সত্যভাষণ ও সৎকর্মের আদর্শ প্রচার শুরু করেন। তাঁর প্রচারিত সৎসঙ্গ সম্প্রদায়ে মূলভাব হল কেউ কারো কাছে প্রত্যাশী হবে না। স্বাবলম্বন ও দীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে হবে। অনুকুল ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্গ আশ্রমের এই হল আদর্শ। তাঁর ভক্তবৃন্দের সহযোগিতায় তপোবন বিদ্যালয়, মাতৃবিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিহারের দেওঘরে গমন করেন। সেখানেও তিনি আশ্রম, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ‘শতাব্দী’ নামে আশ্রমের একটি মুখপত্র প্রকাশিত হয় তাঁদের নিজেস্ব ছাপাখানা থেকে। তিনি প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন। এগুলোতে ধর্মশিক্ষা, সমাজ প্রভৃতি আদর্শ ও উপদেশসমূহ বর্ণীত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে জানুয়ারি ২৬ তারিখ তিনি দেওঘরে পরলোকগমন করেন। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতো ও আদর্শকে অনুসরণ করে রাজবাড়িতে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি সংঘ গড়ে উঠেছে। সংঘটির উদ্দেশ্য তা৭র মতো ও পথকে ভক্তবৃন্দের মধ্যে প্রচার করা। প্রতি বছর তাঁর উদ্দেশ্যে পাটবাজার মন্দিরে সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

ঠাকুর লোকনাথ এবং রাজবাড়িতে তাঁর ভক্তবৃন্দ

হিন্দুধর্মে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতাররুপে ধরাধামে আবির্ভুত হন। এ বিশ্বাসে ভক্ত কঠোর সাধনায় কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে পুণ্যাত্মায় লীন হওয়ার আদর্শগ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণের বাণীই হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পবিত্র গীতা। কৃষ্ণপ্রেমের বিভোরতায় অনন্যদৃষ্টান্তে পরিণত হলে ভক্ত সাধারণ্যে হয়ে ওঠেন অসাধারণ। গুরু, পণ্ডিত, আচার্য, মহাপ্রভু নামে পরিচিত হন। দীক্ষা নেন অন্য ভক্তবৃন্দ। ধর্ম এভাবেই কালানুক্রমিক ধারায় কালের স্মৃতি বহন করে। ভক্ত পরিশুদ্ধ আত্মার সংস্পর্শে পবিত্র হয়। জাগতিক কর্মপ্রবাহের মধ্যেও মানবতার উচ্চাসনই হয় তাঁর অদ্বৈত আচার্য, শ্রী চৈতন্য, ঠাকুর লোকনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস এমনি প্রাতস্মরণীয় নাম। শ্রী অদ্বৈতার্চায়ের শিষ্য পরমানন্দ ওরফে পদ্মনাভের সন্তান লোকনাথ। পদ্মনাভ অনুমান ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মাগুরা জেলার অন্তর্গত তালঘড়ি গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তিনি মাঝেমধ্যে শান্তিপুর ও নবদ্বীপে এসে ভক্তিচর্চা করতেন। তিনি শ্রী চৈত্রন্যের জন্মেরও পূর্বে অদ্বৈতার্চারে প্রচারিত ভক্তিভাব লহরী নিজ দেশে এনে বিতরণ করতেন। পদ্মনাভের স্ত্রী সীতাদেবী পরম ভক্তিমতি ছিলেন ।

Additional information