ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-২৪

যৈছে পদ্মনাভ তৈচে তার পত্নী সীতা

বৈষ্ণবী পরম যেহো অতি পবিত্রতা

 নরোত্তম বিলাস -১ম

এই আদর্শ দম্পতির ৪ পুত্রের মধ্যে লোকনাথ তৃতীয় সন্তান। তিনিই চৈতন্যযুগে সর্বপ্রথম বৃন্দাবন গিয়ে তীর্থ স্থানের কাজ আরম্ভ করেন এবং কালে লোকনাথ গোস্বামী নামে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরু হন। ১৪৮৩ সালে মাগুরার তালবাড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। বিষয় আশায়ের প্রতি নিরাসক্ত লোকনাথ বৈরাগ্যব্রতে আসক্ত হয়ে পড়েন। বিবাহ, ঘর সংসার অনিত্য ভেবে একদিন নবদ্বীপে পৌঁছে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর (শ্রীচৈতন্য) শিষ্যত্ব গ্রহণ কেরন। তিনি আর কখনো তালঘড়ি ফিরে আসেননি। মহাব্রতধর্মী এই মরমী একবারেই নিরাসক্ত ছিলেন। কখনো নিজেকে প্রকাশ করিতে চাইতেন না। তিনি রাধাবিনোদ শ্রীবগ্রহ লাভ করে অলৌকিক নিষ্ঠার সাথে তাঁর সেবা আরম্ভ করেন। দীনহীন নিকিঞ্চন ভক্তের রুপ জগৎবাসীকে দেখান। শ্রী গৌরাঙ্গের আদেশমত বৃন্দাবনে বনে, প্রান্তরে পাহাড়ে ঘুড়ে ঘুরে তিনি শতাধিক তীর্থের আাবিস্কার এবং মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। অবশেষে তিনি নির্জন কুঞ্জুকুটীরে দিবারাত্র যে কঠোর সাধনা করতেন তাতে সমস্ত বৃন্দাবনে রোমাঞ্চ সঞ্চার হয়েছিল। তিনি আত্মগোপন করে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেন, নিজের সম্বন্ধে কাহাকেও জানতে দিতেন না। কাউকে শিষ্য করতেন না। কেবল রাজশাহীর লক্ষপতি জমিদারপুত্র নরোত্তম দত্ত বিপুল সম্পত্তি পরিত্যাগ করে গৃহত্যগী হয়ে পাগলের মতো লোকনাথের চরণে লুটিয়ে পড়েন এবং নরোত্তম গুরু লাভ করেন। পরবর্তীতে লোকনাথের আদর্শ বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাজবাড়িতে তার অনেক ভক্তবৃন্দ রয়েছে।

রাজবাড়ির ব্যাপ্টিস্ট চার্চ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়

হযরত ঈসার জন্ম ও মৃত্যুতে যে রহস্যই থাক না কেন হযরত ঈসা এবং তাঁর প্রচারিত ধর্ম ইতিহাসের অনেকাংশ জুড়ে আছে। তাঁর আদর্শ ও ধর্মমত কেবল খ্রিস্টান জগতেই নয় সকল মানুষের জন্য তা অমূল্য সম্পদ। তৎকালীন ইহুদি সম্প্রদায় হযরত মুসার প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরে এসে ধর্মের নানা কুংস্কারে জড়িয়ে পড়ে। মানবতার বিপরীতে অন্যায়, অসত্য, নিপীড়ন, পাপ মাথাচাড়া দেয়। এসময় মানবসেবা, সত্যপথ, মহান ঈশ্বরের প্রদর্শিত পথে শিক্ষা দিতে হযরত ঈসার জন্ম। ঈসার প্রচারিত ধর্মে মানব মুক্তির এমন আদর্শ ছিল বলেই অতিদ্রুত তা মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাঁর অবর্তমানে জুডিও খ্রিস্টানিটি ও পোলীয় খ্রিস্টানিটি দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পোলীয় খ্রিস্টানিটি বহুজাতি ও রোমান সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তৎকালীন পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে এ ধর্মের ব্যাপকতা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য হযরত ঈসা তৎকালীন হিব্রু ও রোমক জাতির নিকট যিশাস বা যিশুখ্রিস্ট বলে পরিচিত। মূল ধর্মগ্রন্থ তাওরাত (ইহুদিরা অনুসরণ করে) এবং ইঞ্জিল খ্রিস্টানরা অনুসরণ করে। তাওরাত ও ইঞ্জিলের মিলিত রুপ বাইবেল। তবে খ্রিস্টানরা যিশু প্রচারিত সুসমাচার সমষ্টির বাইবেলকে পবিত্র জ্ঞানে ধর্মগ্রন্থ মনে করে। লাতিন সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র রোমে খ্রিস্টধর্মের ধর্মগুরু হলেন বিশপ। তারা পৌলপন্থী খ্রিস্টান। যিশুর শিষ্য পিটার (প্রেরিত) খ্রিস্টানমতে ছিলেন প্রথম বিশপ। পরবর্তীকালে বিশবের পরিবর্তে পোপ উপাধির সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গীর্জার প্রধান পোপ বা পাদ্রী। ষোড়শ শতকে খ্রিস্টান সম্প্রদায় গীর্জাভিত্তিক ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট দুইভাবে বিভক্ত হয়।

খ্রিস্টান ধর্মের বিকাশকাল থেকে পাশ্চত্য দেশেই এর ব্যাপক প্রচার প্রসার ঘটে। কেবল ষোড়শ সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের দ্বারা এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে চার্চভিত্তিক ষোড়শ সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের দ্বারা এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে চার্চভিত্তিক ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মের বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়।

Additional information