ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-২৫

ইংরেজ শাসনকালে ভারতবর্ষে দরিদ্র, অসহায় বর্ণহিন্দু ও মুসলমান খ্রিস্টানধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে বিপুল পরিমানে ধমীয় প্রতিষ্ঠান গীর্জা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ উদ্দেশ্যে রেভাঃ সাইলাস মিড এলএলবি; এসএ ১৯১১ সালে সাইলাস মিড মেমোরিয়াল চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন। এর অবস্থান রাজবাড়ি কলেজসংলগ্ন পূর্বদিকে, পাকা সড়কের পাশে। এটি ছিল মূলত অস্টোলিয়ান মিশনারী চার্চ। সে সময় সাইলাস মিডের সঙ্গে ফাদার অব অস্টোলিয়ান মিশন ইন ইন্ডিয়া’ খ্যাত মিশনারী মিস এডিট এল কিং আগমন করেন। ১৯১১ থেকে ১৯৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মিস ব্রাউন, মি. ও মিসেস এ্যাটেনি, মিস থ্যাকভোলেন, মিস হকবেল, মিস হরুড, মিস হেল প্রমুখ আগমন করেন। তারা ফরিদপুর, ওড়াকান্দি, গোপালপুর ইত্যাদি মিশনকে রাজবাড়ির চার্চের আওতায় দেখভাল করতেন। পাবনা আতাইকোলা, নিবাসী শ্যামসন এইচ চৌধুরী এত্র অঞ্চলের চার্চসহ ঈশরদি, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লার মিশনসমূহকে সমন্বয় করতেন।

১৯১১ সালের চার্চ প্রতিষ্ঠার পর মিস ব্রাউন মিশনারীদের ও তার বাসের জন্য বর্তমান রাজবাড়ি সরকারি কলেজের দ্বিতল লাল ভবন (অধ্যাক্ষ ও তাঁর অফিস) প্রথম তলা নির্মাণ করেন এবং মিস ব্রাউনের রাজবংশীয় ধনিক বাবা ও মা অস্ট্রেলিয়া থেকে মেয়েকে দেখতে এসে ভবনকে দ্বিতল করেন। অবস্থিত কলেজের বিজ্ঞান ভবনের আমতলায় তখন শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিদ্যালয়ে বাঙালি সুনীতি রায় ও বসন্ত বাবু শিক্ষকতা করতেন। ১৯৫৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান মিশনারী বাংলা ত্যাগ করে। এসময় চার্চের সকল সম্পত্তিও পরিচালনাভার ইস্ট বেঙ্গল ব্যাপ্টিস্ট সম্মিলনীর ওপর ন্যস্ত হয়। চার্চের অনুমান ২ একর ভূমি চার্চের সদস্যদের মধ্যে বন্টনের প্রস্তাব উত্থাপন হয়। এই  সময়ের মধ্যে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় চার্চের দ্বিতল ভবনসহ ৪৭ শতক জমি সম্মিলনীর সম্পাদক শ্যামসন এইচ চৌধুরী (আতাইকোলা) নামমাত্র মূল্যে কলেজ গভর্নিং বডির নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। বিগত সময়ে চার্চের দায়িত্ব পালন করেন সত্যরঞ্জন দে (ছায়া রানী কররের বাবা-১৯২৪), হরিচরণ (১৯২৮), আমিয়কান্ত সরকার (১৯৩০), দেবেন বাবু (১৯৩৮), বেভাঃডা. মোহনচন্দ্র হালদার (১৯৪৫-ওড়াকান্দা ও রাজবাড়ি)। মোহনচন্দ্র হালদার ময়মনসিংহ থেকে এসে রাজবাড়িতে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন পূর্ববাংলা ব্যাপিষ্ট সম্মিলনীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর নাতি জেমস হালদার চার্চের বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে রাজবাড়িতে ১৪টি পরিবার চার্চের সাথে যুক্ত আছে। অসিত, ডেভিড, বাহুত, রবিন মল্লিক, মি. কোটা মল্লিক, মি. রবার্ট, মি. লুকাস, আজিম মল্লিক চার্চের কর্মসম্পাদন কমিটিতে আছেন।

Additional information