ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-৭

ঊনিশ শতকের শেষে রাজবাড়িতে প্রথম গ্রাজুয়েট আলীমুজ্জামান চৌধুরী। তিনি ছিলেন অত্র এলাকার সমাজসেবক ও প্রজাহিতৈষী জমিদার। ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমান সমাজ অগ্রগামী হয়। বিশ শতকের শুরু থেকে বৃটিশ শাসনের অবসানকাল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত বছরে রাজবাড়ির মুসলমান সমাজ শিক্ষা-দীক্ষাসহ সামাজিক ও আর্থিক ভিত সুদৃঢ় করে তোলে। এ সময়ের কিছু পূর্ব থেকে অত্র এলাকার প্রথম ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন এবং এর ৪ বছর পর ১৮৯২ সালে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল (বর্তমান সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়) স্থাপিত হওয়ায় গরিব মুসলমান সম্প্রদায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে থাকে। স্থানীয় জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং স্থানীয় হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের উৎসাহে খানখানাপুর সুরুজমোহনী হাই স্কুল, বালিয়াকান্দি হাই স্কুল, পাংশা জর্জ হাইস্কুল, নলিয়া জামালপুর হাইস্কুল, গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন হাই স্কুল, বেলগাছি আলীমুজ্জাম হাই স্কুল, হাবাসপুর হাই স্কুলসহ অনেক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে মৌলবী তমিজ উদ্দিন খান, এয়াকুব আলী চৌধুরী, কাজী মোতাহার হোসনে, কাজী আব্দুল ওদুদ, খোন্দকার নাজির উদ্দিন আহমেদ (খাতক পত্রিকার সম্পাদক) ডা. কেএস আলম, ব্যারিস্টার শেলী, প্রিন্সিপ্যাল কেতাব উদ্দিন আহম্মেদ, আহমদ আলী মৃধা, ফখর উদ্দিন আহমেদ, কাজী আবুল কাশেম, কাজী আব্দুল মাজেদ, ডা. এ কে এম আসজাদ, ইউসুফ হোসেন চৌধুরী, এবিএম নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, এ্যাডভেকেট আব্দুল জলিল, এ্যাডভোকেট আবুল কাশেশ মৃধা, খলিল উদ্দিন জজ সাহেব, তোফাজ্জেল হোসেন জজ সাহেব প্রমুখ উচ্চ শিক্ষিত মুসলমান ছাত্র অঞ্চলভিত্তিক ও জাতীয় উন্নয়নে স্ব-স্ব ভূমিকা রাখেন।

১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসানে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। ভারতের সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান এলাকা নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। এ সময় পূর্ব-পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকার মতো জমিদার শ্রেণিসহ অনেক হিন্দু পরিবার স্থায়ীভাবে রাজবাড়ি ত্যাগ করে। অন্যদিকে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মোহাজের ও অবাঙালি বিহারী মুসলমানের অভিবাসন ঘটে। তার স্থায়ীভাবে রাজবাড়ি শহর ও পল্লী এলাকায় স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে। ১৯৬০ এর দশকের শুরুতে নোয়াখালি ও কুমিল্লা থেকে অনেক মুসলমান পরিবার রাজবাড়ির বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে বাণীবহ, বহরপুর, রামদিয়া, সোনাপুর বসতি স্থাপন করে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ভারত থেকে অনেক মোহাজের মুসলমান রাজবাড়ি বিসিক এলাকায় বসতি গড়ে তোলে। কালপ্রবাহে স্বাধীন দেশের রাজবাড়ির মুসলমান অসাম্প্রাদায়িক চেতনায় শিক্ষিত ও মর্যাদাশীল সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচিত।

 রুপসা গায়েবী মসজিদ

পদ্মার দক্ষিণে অবস্থিত কালুখালি একটি রেলওয়ে জংশন। রেলওয়ে স্টেশন থেকে স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত রুপসা গ্রাম। কাঁচা রাস্তা ধরে এগুতেই রুপসা খাল। আর খালের পাড়েই মসজিদ। মসজিদের খানিকটা মাটির নিচে বসে গেছে। দেখতে অনেকটা অন্ধকার কুঠিরের মতো। মসজিদের প্রাচীন একটি দেয়াল অবশিষ্ট আছে। পাশেই প্রাচীন প্রশস্ত একটি বটবৃক্ষ ছায়াদান করছে। সামনে বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গন। এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের মোয়াজ্জেম মোঃ ওয়াজেদ আলী শেখ খোন্দকার। মসজিদটি মোগল শাসনের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। 

Additional information