ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-৮

বাগমারা গায়েবী মসজিদ

রাজবাড়ি শহরের প্রায় ৮ কিমি পশ্চিমে সূর্যনগর রেলস্টেশন। স্টেশনের দক্ষিণে বাগমারা গ্রাম। চন্দনী ও পদ্মা তীরবতী ঘন বনাঞ্চলে একসময় বন্য হিংস্র প্রাণী বাঘ, শুকুরের উপদ্রব ছিল। এই বাগমারায় কোনো এক সময় হয়ত কোনো বাঘ মারা হয়েছিল। সে কারণে স্থানের নাম হয় বাঘমারা। কালে তা পরিবর্তন হয়ে বাগমারা হয়েছে।

বাগমারা বাসস্টান্ডের পাশে অবস্থিত এ মসজিদটিকেও এলাকার মানুষ গায়েবী মসজিদ বলে থাকে। লোকমুখে প্র্রচলিত আছে কোনো এক রাতে জিনেরা মসজিদ তৈরি কলে। তবে সকাল হওয়ায় ঢেঁটি পাড়ের শব্দ শুনে তারা আর মসজিদের ছাদ দিতে পারে না। আসলে প্রাচীন মসজিদটি ছাদ কখন ভেঙ্গে পড়েছিল তা তারা জানে না। পাশে মাজার। সকলে মাজারটি সৈয়দ শাহ রাজেক আলীর (রাঃ) মাজার বলে জানে। অনেক ধর্ম প্রচারকের মতো তিনিও এসেছিলেন কয়েক শতাব্দী পূর্বে  ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বে এলাকার বাসিন্দা আজহার আলী মোল্লা মসজিদটি পাকা করেন। প্রায় ১৫ বছর যাবত মোঃ মোসলেম উদ্দিন মণ্ডল মসজিদটির মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োজিত আছেন। 

শিঙ্গা গায়েবী মসজিদ

রাজবাড়ি শহরের দক্ষিণ পূর্বে আলীপুর ইউনিয়ন। আলীপুর ইউনিয়নের শিঙ্গা নামক গ্রামে অনুরুপ আর একটি গায়েবী মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর বিশ্বাস এ গ্রামে কখনো রাতারাতি পুকুর কাটা হয়। পুকুরের মাটি দিয়ে ইট কেটে অলৌকিকভাবে শুকিয়ে ঐ পুকুরে ভিজিয়ে রাতের মধ্যেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদটি এখন টিনসেড পাকা মসজিদ। পুরাতন ইট নিদর্শন হিসেবে স্তুপীকৃত অবস্থায় রয়েছে। মসজিদটি ইটের আকার অন্য সকল গায়েবী মসজিদের ইটের মত। এ মসজিদের মুয়াজ্জিন আব্দুল মোন্নাফ মোল্লা।

 হযরত সাহ পাহলোয়ান পূর্ব-পশ্চিম মাজার

হযরত শাহ পাহলোয়ানের পূর্ব-পশ্চিম মাজার সেকাড়ায় পীর আউলিয়া ও দরবেশগণের যে সমস্ত প্রাচীন মাজার রয়েছে তার পরিচিতিতে ধর্ম প্রসার সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া যায়। বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদীর নিকটবর্তী চন্দনা নদীর তীরে সেকাড়ায় হযরত সাহ পাহলোয়ানের মাজার সম্বন্ধে অনেক কথা ও কাহিনী প্রচলিত আছে। সেকাড়া গ্রামে তার পূর্ব-পশ্চিম মাজার যত্নসহকারে রক্ষিত। কথিত আছে মৃত্যুকালে ইসলাম বিধান মতে উত্তর দক্ষিণ কবর না দিয়ে মুরীদানদের পূর্ব পশ্চিম কবর দেওয়ার আদেশ দিয়ে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর প্রচলিত রীতি অনুসারে কবর  দেয়া হলে রাতারাতি কবরটি ঘুরে পূর্ব পশ্চিম হয়ে যায়। মাজারের পাশে মসজিদ রয়েছে। পূর্ব পশ্চিম মাজারের বিষয়ে যে কথাই প্রচলিত থাক না কেন তাঁর আগমন ও ধর্ম প্রসার বিষয়ে অনেক কিছু জানা যায়। মীর মোশাররফ হোসেনের বর্ণনা মতে ১৪৮০ থেকে ১৫১০ সালের মধ্যে সাহ পাহলোয়ান বাগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে সেকাড়ায় বাসস্থান নির্মাণ করে আল্লাহর উপাসনা করছিলেন। তাপস তপস্যার জন্য নির্জনতার প্রয়োজনে তৎকালীন জঙ্গলাকীর্ণ সেকাড়ার গ্রামটি বেছে নিয়েছিলেন।

Additional information