ধর্মীয় সম্প্রদায় - পৃষ্ঠা নং-১০

কাজীকান্দা খোদাওন্দ খাঁর মসজিদ

রাজবাড়ি এককালে বলুয়ারচর (কুমার পাড়া) আজকের কাজীকান্দা। কাজীকান্দায় প্রায় তিনশত বৎসর পূর্বে কুমারদের বসবাস ছিল। ৩০/৪০ বৎসর পূর্বেও খননকালে কুমার পরিত্যক্ত হাড়ি কলসের মাথা ও খাপড়া পাওয়া যেত। সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে অত্র এলাকায় আগমন ঘটে খোদাওন্দ খাঁ নামে এক ধর্ম প্রচাররকের। তিনি এখানে অতিসাধারণ বেশে বসবাস শুরু করেন এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারে রত হন। ধীরে ধীরে তিনি এলাকায় স্বীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজকার্যে বিচার কাজ করার সনদপ্রাপ্ত হন। যা থেকে তিনি কাজী উপাধি প্রাপ্ত হন। খোদাওন্দ খাঁ হলেন খোদাওন্দ কাজী, আর হাড়ি কলসির কান্দা এ দুইয়ে মিলিয়ে এলাকার নাম হয় কাজীকান্দা। খোদাওন্দ খাঁর ছেলে কুসুম কাজী এবং তদীয় পুত্র রইচ কাজী একজন শক্তিমান পুরুষ ছিলেন। রইচ কাজীর এক পুত্র কাজী আব্দুল করিম তৎকালীন ভাইসরয়ের একান্ত সচিব ছিলেন।

কাজীকান্দার পাশেই সজ্জনকান্দা। সজ্জনকান্দার মোল্লাবাড়ি, মণ্ডলবাড়ি, রাজবাড়ির বুনিয়াদী বংশ। কাজীকান্দা, সজ্জনকান্দা মুসলিম প্রধান এলাকা হয়ে ওঠে এবং আজও সে বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্যদিকে লক্ষীকোল, বিনোদপুর, ভবানীপুর, গঙ্গাপ্রসাদপুর প্রাচীন হিন্দু বসত এলাকা। রাজবাড়ির বেড়াডাঙ্গা মৌজা হিসেবে চককৃষ্টপুর। এলাকাটি পূর্বে বন জঙ্গলে আচ্ছন্ন থাকলেও বর্তমানে এ অঞ্চলটি বর্ধিষ্ণু লোকের বাসস্থল।

দ্বদশী খোদাই দরগা

রাজবাড়ি শহর থেকে রেল লাইন ধরে পূর্বদিকে এক কিলোমিটার দূরে দ্বাদশী খোদাই দরগা। কথিত আছে রাজবাড়ি রেললাইন ১৮৯০ সালে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত স্থাপনের সময় জঙ্গলের মধ্যে দরগাটির সন্ধান মেলে। সেই হতে দরগাটি এ অঞ্চলের ধর্মগ্রাণ মানুষ খোদাই দরগা নামে কামাল সাহ আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ষোড়শ শতক এতদ্বাঞ্চলে তিনি আগমন করেন।

ফুরফুরা খানকা শরীফ

রাজবাড়ি জেলায় ইসলাম বিস্তৃতির ক্ষেত্রে ফুরফুরা শরীফের প্রভাব অন্যান্য যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কম নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষ অধিক। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে প্রশ্চিমবাংলার হুগলী জেলার বালিয়া বাসন্তিই ফুরফুরা শরীফ। ফুরফুরা শব্দটি ফরফরা শব্দজাত, যার অর্থ পরিপূর্ণ বা অখণ্ড আনন্দ। বাগদাদ ছেড়ে ৭০০ হিজরীতে (১৩০০খ্রি.) আসেন এক সুফি যিনি ফুরফুরার পীর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নাম মখদুম মওলানা মনসুর বাগদাদী। তিনি এ পীর বংশের হযরত আবু বক্কর সিদ্দিকীর পূর্বপুরুষ। ১৯৬১ সালে Hoogli District hand book ফুরফুরাকে Pilgrimage for Muslim  বলে উল্লেখ করেছেন। আওরঙ্গজেবের সময় খ্যাতনামা সাধক ছিলেন আলহাজ্ব মওলানা শাহ সুফী মোস্তফা মাদানী। মুনসরি বাগদাদীর পীর বংশেই জন্ম হয় ফুরপুরার আউলিয়া শ্রেষ্ঠ আবুবকর সিদ্দিকীর (১৮৪৩-১৯৬৯)। তার পুত্র আব্দুল হাই সিদ্দিকী, মোঃ নাজমুল হাই সিদ্দিকীর রাজবাড়ি অঞ্চলে বহু ভক্তপ্রাণ মুরীদান রয়েছে। ফুরফুরা শরীফের হুজুরপাকবৃন্দ রাজবাড়ি অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় মাঝে মাঝে ধর্মসভা করে থাকেন।

Additional information