প্রাচীন ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-১১

উহার সদৃশ্য দার্শনিক যুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সাংখ্য যোগ।  তিনি ঘোষণা করেন সমাধি জাত বিজ্ঞানই সম্যক বিজ্ঞান। তা দ্বারাই দুঃখের নিবৃত্তি হয়। গৌতম বুদ্ধ বা শ্রী রামকৃষ্ণের মতো তার মতবাদ তৎকালীন পূর্ববাংলাসহ ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে। গড়ে ওঠে সংঘ, মঠ, সমাধি, আশ্রম। এরই সূত্র ধরে তৎকালীন পশ্চাৎপদ জনপদ জঙ্গল ইউনিয়নে ১৯৩৯ সালে গুরুজীর ইচ্ছা ও দরদী মনের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় আর্য সংঘ আশ্রম, মঠ ও মন্দির। স্থাপিত হয় হাট-বাজার পোস্ট অফিস, আর্য সংঘ বিদ্যালয়। আশ্রম প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা করলেন পার্থ সারথী মন্দির। স্থানের নাম দিলেন সমাধিনগর। এখানে দেশের বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তির আগমন ঘটে। সমাধিনগর পার্থ সারথী মন্দির আশ্রম ভগ্নপ্রায়।

তৈলাঙ্গ স্বামী

যুগে যুগে মুণি ঋুষগণ পথ পরিক্রমায় সৃষ্টির মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে সষ্ট্রার বাণী। ইহ-জাগতিক ও পর জাগতিক ধ্যানলোকে জীবনবোধে ‍উন্মেষ ঘটান। তৈলাঙ্গ স্বামী ঠাকুরজী ইতিহাসখ্যাত সাধক পুরুষ যিনি সনাতন ধর্মের বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি সাধারণ পরিচিতিতে ভ্রাম্যমাণ দেবমূর্তি বলে পরিচিত ছিলেন। ভারতের সাধক পুস্তকে তার নাম উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে যেখানে যশাই মেঘনা উক্ত স্থানটি প্রায় ৪০০ (চারশত) বছর পূর্বে নদী প্রবাহিত এলাকা ছিল। নদীটি মেঘনা বলে পরিচিত ছিল। যা থেকে মেঘনা গ্রাম নামের উৎপত্তি। ভাবুক তৈলাঙ্গ স্বামী পথ পরিক্রমায় প্রায় ৩৫০ শত বছর পূর্বে সেখানে উপস্থিত হন এবং মেঘনা মযাইতে স্থাপন করেন ছিন্ন মস্তক কালীমূর্তি। এই দেবীমূর্তি নিজ হাতে তার মস্তক ছিন্ন করছে। দেবী পার্শে স্থাপিত ডাকনী আর যোগীনিকে রক্তপান করাচ্ছেন। মূর্তিটি পিতলের তৈরি, ওজন প্রায় ২০ মণ এবং তা শিল্পসৌকর্যে অপূর্ব ছিল। এই মূর্তিটির বর্ণনা ‘চণ্ডিগ্রন্থে’ রক্তজীব পাদ অধ্যায় রয়েছে। মূর্তিটির স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন শান্তি কুমার বাগচী। মূর্তিটির ভগ্নাবশেষ নীলকান্ত বাগচীর নিকট সযত্নে রয়েছে। স্মামী তৈলাঙ্গ ঠাকুরের আধ্যাত্মিক প্রভাবে মেঘনা যশাই এককালে তীর্থস্থানে পরিণত।

বেলগাছি সানমঞ্চ দোলমঞ্চ

রাজবাড়ি শহর থেকে দুই স্টেশন পশ্চিমে প্রাচীন হড়াই নদীর তীরে বর্তমান পদ্মার কাছাকাছি বেলগাছি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী হড়াই নদীর সাথে জড়িয়ে চাঁদ সওদাগরের কাহিনী। এখনো চাঁদ সওদাগরের ঢিবি দেখার জন্য আগমন ঘটে কৌতূহলী মানুষের।

এখানেই একসময় গড়ে ওঠে ফকীর সন্ন্যাসী আন্দোলনের কেন্দ্র। আজও রথের মেলা বসে রাম জীবনের নামে। বেলগাছি অদূরে হাড়োয়া ঐতিহাসিক চিহ্ন বহন করে চলেছে কষ্টিপাথরের মদনমোহন জিউর। মদনমোহনের মূর্তিটি সম্ভবত পাল আমলের। এ থেকে প্রমাণ হয় ৮ম শতকের পুণ্ড্রের পাল শাসন এ অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। সীতারামের পতনের পর এ অঞ্চল নাটোর রাজ রাম জীবনের করতলগত হলে বেলগাছিতে রাম জীবনের নামে গড়ে ওঠে আখড়া। রাম জীবনের নামে এখনো মেলা বসে। রাম জীবনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এখানে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চের ধবংসাবশেষ রয়েছে। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ ভূমি রাজসস্বের নীতি প্রণয়ন কালে এ অঞ্চলে যে ২৪টি পরগনার উদ্ভব তার মধ্যে বেলগাছি ছিল বেলগাছি পরগনা। এ পরগনার জমির পরিমাণ ছিল ১৯.৮৬২ একর (পল্লী বাংলার ইতিহাস-হান্টার)। ১৮৬৯ সালে তদানীন্তন (Government of Bengal  লোক গণনার সাধারণ ধারণার ফরিদপুর জেলার কয়েকটি গ্রামের লোক গণনার বর্ণনা করেন। দুটি সার্কেলে এই লোক গণনা করা হয়। (১) কানাইপুর (২) বেলগাছি। বেলগাছি সার্কেলে ছিল ৯টি গ্রাম আর কানাইপুর ছিল ৬টি গ্রাম। কানাইপুরে ৬টি গ্রামের লোকসংখ্যা ছিল ৯২৪ জন।

Additional information